আন্দোলনের ৮ম দিনে মুখোশ মিছিল ও আইডি কার্ড প্রদর্শন কর্মসূচি

ভিসি পরিবর্তনের প্রতিবাদে চুয়েটে শাটডাউন

রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি | বুধবার , ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ৫:৫১ পূর্বাহ্ণ

৫৬ দিনের মাথায় উপাচার্য পরিবর্তনের সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ এবং সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে স্বপদে পুনর্বহালের দাবিতে উত্তাল রয়েছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)। আন্দোলন ও শাটডাউনের অষ্টম দিনে প্রশাসনের বিভিন্ন মহল থেকে আসা চাপ ও হুমকির প্রতিবাদে অভিনব ‘মুখোশ মিছিল’ এবং আন্দোলনে বহিরাগতদের কোনো সংশয় বা সুযোগ নেই তা স্পষ্ট করতে ‘আইডি কার্ড প্রদর্শন’ কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে এই কর্মসূচি শুরু হয়। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা মুখে মুখোশ পরে এবং নিজেদের শিক্ষার্থী পরিচয়পত্র উঁচিয়ে ধরে মিছিলে অংশ নেন। শহীদ মিনার থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্র সংলগ্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে স্বাধীনতা চত্বর হয়ে পুনরায় শহীদ মিনারে এসে শেষ হয়। মিছিল চলাকালে শিক্ষার্থীরা ‘তুমি কে, আমি কে–সায়েম স্যার, সায়েম স্যার’, ‘একটি নাম, একটি সুর–সায়েম স্যার, সায়েম স্যার’ এবং ‘মোদের দাবি একটাই, সায়েম স্যারকে ভিসি চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

মিছিলে অংশ নেওয়া পুরকৌশল বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মারজুকা চৌধুরী মাহিরা বলেন, আমরা চুয়েট শিক্ষার্থীরা শহীদ মিনারে অষ্টম দিনের মতো সমবেত হয়েছিলাম। সায়েম স্যারকে ভিসি হিসেবে পুনর্বহালের দাবিতে মুখোশ মিছিল করেছি। সরকারের কাছে আমাদের স্পষ্ট বার্তা–আমরা ভিসি হিসেবে সায়েম স্যারকেই চাই। যতদিন পর্যন্ত আমাদের এই দাবি মানা না হচ্ছে, আমরা আমাদের কর্মসূচি চালিয়ে যাব।

সোমবার রাতে শিক্ষক, কর্মকর্তা–কর্মচারী ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর বিভিন্ন মহল থেকে আসা চাপ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকির প্রতিবাদে একটি বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা। রাত সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা চত্বর থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি আবাসিক এলাকার গোলচত্বর প্রদক্ষিণ করে। এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘প্রত্যাখ্যান, প্রত্যাখ্যান, অনলাইন ভিসি প্রত্যাখ্যান’ এবং ‘মোদের দাবি একটাই, সায়েম স্যারকে ভিসি চাই’ স্লোগান দেন।

বিক্ষোভ শেষে পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং (পিএমই) বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আসাদুল্লাহ হিল গালিব অভিযোগ করেন, আমাদের এই চলমান আন্দোলনে কতিপয় মহল হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে এবং পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি করার চেষ্টা চালাচ্ছে। আমরা তাদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলতে চাই, হুমকি দিয়ে আমাদের এই আন্দোলন দমানো যাবে না। আমাদের গণতান্ত্রিক দাবি একটাই–অধ্যাপক ড. শরীফুল আলমকে উপাচার্য পদে নিয়োগের প্রজ্ঞাপন বাতিল এবং অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে চুয়েটের উপাচার্য পদে পুনর্বহাল চাই।

২৭ জুলাই চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম। দায়িত্ব নেওয়ার পর ক্যাম্পাসের আধুনিকায়ন ও শিক্ষার্থীবান্ধব বিভিন্ন পদক্ষেপে তিনি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। তবে ২১ সেপ্টেম্বর কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই তাকে অব্যাহতি দিয়ে খুলনা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সেদিন রাতে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন শিক্ষার্থীরা। ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ক্যাম্পাসে কমপ্লিট শাটডাউন ঘোষণা করা হয়। আন্দোলনের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীরা ‘৫৬?’ লেখা লাল প্ল্যাকার্ড নিয়ে প্রতীকী প্রশ্নযাত্রা, পথনাট্য ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করেন।

এদিকে শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করে সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালন করছেন চুয়েটের শিক্ষক ও কর্মকর্তা–কর্মচারীরা। তালাবদ্ধ উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে তারাও আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম অনলাইনে যোগদানে যোগদান করেছেন জানালেও ছাত্র–শিক্ষক আন্দোলনের মুখে তিনি এখনো ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারেননি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধতত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি
পরবর্তী নিবন্ধকালুরঘাটে ফুটপাত থেকে দেড় শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ