আদর্শ সমাজ বিনির্মাণে তরুণদের ভূমিকা

মহিউদ্দিন ইমন | সোমবার , ২২ জুন, ২০২৬ at ৫:৪৭ পূর্বাহ্ণ

মানবজীবন মানুষের মহামূল্যবান এক সম্পদ। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হচ্ছে তারুণ্য তথা যৌবন। তারুণ্য মানব জীবনের সাহসী, সংগ্রামী ও সৃজনশীলতার পর্ব। পুরাতনকে ভেঙে, সংস্কার করে নতুন কিছু করাই যেন তারুণ্যের ধর্ম। তারুণ্যের শক্তিতে উদ্বেলিত হয়ে কবি নজরুল ইসলাম বলেছেন, ‘আমরা চলিব পশ্চাতে ফেলি পচা অতীত/ গিরিগুহা ছাড়ি খোলা প্রান্তরে গাহিব গীত।’

তরুণদের চিন্তাচেতনা, মনমগজে পুরাতনকে সংস্কার করে নতুন কিছু করার ভাবনা তৈরি করতে হবে। সাহসিকতা ও সততার সঙ্গে তরুণ সমাজকে এই সংস্কার কাজে এগিয়ে আসতে হবে। তরুণরা এগিয়ে আসলেই সমাজের সকল স্তরে পরিবর্তনের বিপ্লব শুরু হবে।

দেশের মোট জনসংখ্যার বিশাল একটা অংশ তরুণ। এই তরুণ সমাজ বর্তমানে আমাদের সামাজিক সমস্যা সমাধানের এক অভিনব শক্তি। যোগ্য নেতৃত্ব ও কর্মতৎপরতার মাধ্যমে সুখীসমৃদ্ধ সমাজ গঠনে এবং দেশের অগ্রগতির ধারাকে অব্যাহত রাখতে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে। তরুণ সমাজ হলো কালো মেঘের আড়ালে লুকিয়ে থাকা দীপ্তিমান সূর্যের মতো। একজন প্রখ্যাত গবেষক বলেছিলেন, দুপুরের সময় সূর্য যেমন মধ্য আকাশে অবস্থান করে চারদিকে আলো ছড়ায় এবং ভরা যৌবনের জানান দেয়, তেমনি তরুণরাও তাদের যৌবনের প্রারম্ভে সবচেয়ে বিপ্লবী সময় অতিবাহিত করে। এ সময়ই একজন তরুণ যুবক তার নিজের, সমাজের ও বিশ্ববাসীর জন্য সর্বাধিক অবদান রাখতে পারে।

বিশ্বনবী হজরত মোহাম্মাদ (সা.) বিশ্বমানবতার কল্যাণে তরুণদের নিয়েই পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বপ্রথম সংগঠন ‘হিলফুল ফুযুল যুব সংঘ’ গঠন করেছিলেন। হজরত মোহাম্মাদ (সা.) যখন দ্বীনের দাওয়াত নিয়ে মাঠে নেমেছেন সর্বাগ্রে তরুণরাই এগিয়ে এসেছেন। হজরত ইবরাহিম (.) যখন মূর্তি পূজার বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে পাষণ্ড নমরুদের তৈরিকৃত আগুনে নিক্ষিপ্তি হয়ে ছিলেন তিনি ছিলেন তরুণ। হজরত ইউসুফ (.) যখন কারাগারে ছিলেন তখন তিনি তরুণ ছিলেন। হজরত ইউনুসকে (.) যখন সমুদ্রের মাছ গিলে ফেলে তখন তিনি ছিলেন তরুণ।

তরুণরাই আগামী দিনের উজ্জ্বল নক্ষত্র। তরুণদের অন্তরে সদা জাগ্রত থাকে দুর্বার স্পৃহা। তারুণ্য একটি প্রবল প্রাণশক্তি যা অফুরন্ত সম্ভাবনা ও বর্ণিল স্বপ্ন দ্বারা উজ্জীবিত থাকে সবসময়। একটি স্ফুলিঙ্গ তারুণ্যকে উদ্দীপ্ত শিখায় পরিণত করতে পারে, যা হয়ে উঠতে পারে নক্ষত্রের মতো সমুজ্জ্বল। এ জন্য প্রয়োজন একটি স্বপ্নেরযে স্বপ্ন তরুণ সমাজকে একটি সুন্দর সফল জীবনের পথ দেখাবে। প্রতিটি তরুণেরই উন্নত জীবন ও সমৃদ্ধ দেশ গড়ার স্বপ্ন থাকা চাই। উদীয়মান তরুণ প্রজন্ম এখন দেশের বিরাট এক জনগোষ্ঠী।

ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি ড. এ পি জে আব্দুল কালাম তার সর্বশেষ বাংলাদেশ সফরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেছিলেন, ‘তোমাদের বিজ্ঞানের কল্যাণে পৃথিবী আজ হাতের মুঠোয়। বিজ্ঞানের এই জয়যাত্রার যুগে ইন্টারনেটে যে অবাধ তথ্যপ্রবাহের সুবর্ণ দ্বার উন্মোচিত হচ্ছে; এর পূর্ণ সুযোগ গ্রহণ করছে বা করবে বর্তমান তরুণ সমাজ। তারা তাদের জ্ঞানকে শানিত করে মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তির স্ফুরণ ঘটিয়ে নতুন নতুন আবিষ্কারের দ্বারা দেশ ও মানবতার কল্যাণসাধন করবে।

তারুণ্য হচ্ছে অফুরন্ত প্রাণশক্তির আধার। তাই তারুণ্যকে কাজে লাগিয়ে জীবনকে করতে হবে গতিশীল ও প্রত্যাশাময়। আমাদের ভবিষ্যৎ অনেক বেশি সম্ভাবনাময়। তাই একটি আদর্শ সমাজ নির্মাণে তরুণ সমাজকে কিছু চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে হবে। সমাজ রাষ্ট্র নিয়ে স্বপ্ন দেখতে হবে এবং সে অনুযায়ী সাহসিকতার সঙ্গে সকল বাধা পেরিয়ে স্বপ্নের পথে হাঁটতে হবে। সঠিক প্রস্তুতি নিতে হবে। আর তরুণ সমাজের সঠিক প্রস্তুতি শুধু নিজেকে নয়, বরং সমাজ, রাষ্ট্রকে নিয়ে যাবে এক অনন্য সাফল্যের পথে।

লেখক: প্রাবন্ধিক, সংগঠক।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবৃষ্টির সাথে সই পাতি কদমের সুবাসে
পরবর্তী নিবন্ধশিক্ষা উপকরণ : কার্যকর পঠন-পাঠনের অন্যতম উপাদান