মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ক্রুড অয়েল আমদানি ব্যাহত হলেও দেশে আগামী দুই মাসে দেশে জ্বালানির কোনো সংকট হবে না বলে আশ্বস্ত করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ও যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী গতকাল বুধবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, আমাদের ইনশাআল্লাহ আগামী দুই মাসে কোনো জ্বালানি সংকট নাই। খবর বিডিনিউজের।
দেশের একমাত্র পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডে (ইআরএল) ক্রুড অয়েলের মজুদ ফুরিয়ে আসার খবরের মধ্যে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে বলা হয়, ক্রুড অয়েলের চালান হাতে না পাওয়ায় ইআরএলের চারটি ইউনিটের মধ্যে দুটি ইউনিট চালু রাখা হয়েছে। তবে এর কোনো প্রভাব এখনই পড়বে না, কারণ দেশে পরিশোধিত তেলের পর্যাপ্ত মজুদ আছে। মনির হোসেন বলেন, অকটেন ও পেট্রোলের মজুদ নিয়ে আগেও সরকার আশ্বস্ত করেছিল, এখন ডিজেলের ক্ষেত্রেও ‘কিছুটা স্বস্তি’ আছে। তার ভাষায়, ডিজেল আজকের দিনে আমি খুবই কমফর্টেবল। আমাদের এপ্রিল মাস তো বটেই, ইনশল্লাহ মে মাসেও কোনো সমস্যা নেই। এটা আগে কিন্তু বলিনি, আগে এপ্রিল মাস পর্যন্তই বলেছি।
সংবাদ সম্মেলনে তেল মজুদের হিসাবও তুলে ধরা হয়। বলা হয়, দেশে এখন ১ লাখ ৩০ হাজার ৩৮৫ মেট্রিক টন, ৩১ হাজার ৮২১ মেট্রিক টন অকটেন, ১৮ হাজার ২১ মেট্রিক টন পেট্রোল, ৭৭ হাজার ৫৪৬ মেট্রিক টন ফার্নেস অয়েল এবং ১৮ হাজার ২২৩ মেট্রিক টন জেট ফুয়েল মজুদ আছে।
মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, অকটেন ও পেট্রোলের যে মজুদ আছে, তাতে আমাদের ইনশআল্লাহ আগামী দুই মাসেও কোনো অসুবিধা হবে না। একই কথা এখনো আপনাদেরকে বলছি যে পর্যাপ্ত মজুদ আছে। তবে রাজধানীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তির কথা অস্বীকার করেননি মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র। তার দাবি, জেলা পর্যায়ে পরিস্থিতি ঢাকার মত তীব্র নয়। রাজধানীতে মূলত আতঙ্কে অতিরিক্ত কেনাকাটার কারণেই এই চাপ তৈরি হয়েছে।
মনির হোসেন বলেন, ২৮ ফেব্রুয়ারির আগে যে গাড়ি ছিল, এখনো একই গাড়ি আছে। ২৮ ফেব্রুয়ারির আগে আমি যা সরবরাহ করতাম, এখনো তাই করছি। ফলে এই প্যানিক বায়িংটা কেন হচ্ছে, এ বিষয়ে আসলে আমার মনে হয় এটি গবেষণার বিষয়। তিনি দাবি করেন, গত বছর এই সময়ে যে পরিমাণ তেল দেওয়া হয়েছে, এখন তার চেয়ে এক লিটার তেলও কাউকে কম দেওয়া হচ্ছে না।
পাম্পভিত্তিক সরবরাহে বৈষম্যের অভিযোগ নিয়ে এক প্রশ্নে তিনি কারও কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকলে তা মন্ত্রণালয়কে দিতে বলেন। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ট্রাস্টের গতকালকের চিত্রটাই আপনাকে বলি। এখানে তো লাইন অনেক লম্বা। ২৮ ফেব্রুয়ারির আগে আমরা দেখেছি যে উনাদের ৫০ থেকে ৫৪ হাজার লিটার অকটেন লাগে। আমরা গতকাল উনাদেরকে খুব সম্ভবত ৮০ হাজার প্লাস লিটার সরবরাহ করেছি। এখন বাকিটা আপনারা একটু বুঝে নেবেন যে এখন আসলে একটা প্যানিকটা আছে।
অবৈধ মজুদদারি বন্ধে সরকার কী করছে, সেই তথ্যও সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয়। বলা হয়, ৩ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত মোবাইল কোর্টের ৯১৬টি অভিযান চালানো হয়েছে। এ সময় ৩ হাজার ৫১০টি মামলা হয়েছে, ১ কোটি ৫৬ লাখ ৯ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়েছে এবং ৪৫ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, এ সময়ে ৩ লাখ ৬৬ হাজার লিটার ডিজেল, ৩৯ হাজার ৭৭৬ লিটার অকটেন, ৮৭ হাজার ৯৫৯ লিটার পেট্রোল এবং চট্টগ্রামে সামপ্রতিক এক অভিযানে ৪৮ হাজার ৫০০ লিটার ফার্নেস অয়েলসহ মোট ৫ লাখ ৪২ হাজার ৩৬ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে।
মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, আমরা কিন্তু দুই দিকেই কাজ করছি। মজুদের টেন্ডেন্সিটা কমিয়ে আনার চেষ্টা করছি। পাশাপাশি সরবরাহ চ্যানেলটাও ঠিক রাখার চেষ্টা করছি।














