অমাবস্যা-পূর্ণিমার জোয়ারে ভাসে হালদাপাড়ের মানুষ

মীর আসলাম, রাউজান | শনিবার , ১৮ জুলাই, ২০২৬ at ৫:৩৭ পূর্বাহ্ণ

অব্যাহত বৃষ্টি, পাহাড়ি পানির চাপে সৃষ্ট বন্যার পানি রাউজানের বিভিন্ন এলাকা থেকে নেমে গেলেও হালদা পাড়ের কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষের নিয়তি যেন পানিতে বন্দিদশায় থাকা।

অমাবস্যাপূর্ণিমার আগে পরে এক সপ্তাহ ধরে এসব এলাকার মানুষকে পরিবার পরিজন নিয়ে পানিবন্দি অবস্থায় কাটাতে হয়। উপজেলার উরকিরচর, নোয়াপাড়া, পশ্চিম গুজরা, বিনাজুরী ইউনিয়নের হালদা পাড়ের বাসিন্দাদের বছরের পর বছর এমন অবস্থার মধ্যে কাটাতে হচ্ছে। একই অবস্থার মধ্যে থাকতে হচ্ছে হালদা নদীর পূর্বপার্শ্বের হাটহাজারী উপজেলার বিচ্ছিন্ন গ্রাম বাড়িঘোনাবাসীকে। উরকিরচর ইউনিয়নের মইশকরম গ্রামের বাসিন্দা আবুল কাসেম হিরু ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে বলেছেন, হালদা নদীর পূর্বাংশে থাকা রাউজান অংশের চারটি ইউনিয়নের কয়েক হাজার পরিবারকে সারা বছরই পানিতে বন্দিদশায় থাকতে হয়। অমাবস্যা পূর্ণিমার আগে পরে নদীর বর্ধিত জোয়ারের পানিতে এসব এলাকার রাস্তাঘাট তলিয়ে যায়। নিচু এলাকায় বাড়ি ঘরে পানি ঢুকে। রাস্তাঘাটে হাঁটু অথবা কোমর পানিতে শিশু কিশোরদের যেতে হয় স্কুলমাদরাসায়। এতে বাড়ে জনদুর্ভোগ।

তিনি ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে বলেন, নদীর পশ্চিমাংশে থাকা হাটহাজারী উপজেলায় কয়েক শত কোটি টাকা ব্যয়ে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হলেও পূর্বাংশের রাউজানকে রাখা হয়েছে অরক্ষিত। বছরের পর বছর রাউজানের দুর্গত মানুষ ও সচেতন মহল থেকে রাউজান অংশে বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানানো হলেও সরকারিভাবে এই নিয়ে কোনো ইতিবাচক পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না। নোয়াপাড়া ইউনিয়নের পলোয়ানপাড়ার বাসিন্দা ব্যাংকার মোহাম্মদ রফিক বলেছেন, ইউনিয়নের দক্ষিণ পশ্চিমাংশের কয়েক হাজার পরিবারকে পানিবন্দি থাকতে হয় অমাবস্যা পূর্ণিমার বর্ধিত জোয়ারে। বিশেষ করে হালদা পাড়ের মোকামীপাড়া, কচুখাইন, চৌধুরী ঘাটকুল, ঝিকুটিপাড়া, ইভলং গ্রামসমূহের মানুষ অমাবস্যাপূর্ণিমার জোয়ারের সময় সপ্তাহ ধরে পানিবন্দি হয়ে থাকতে যেন অভ্যস্ত হয়ে গেছে। একই ইউনিয়নের মোকামী পাড়ার বাসিন্দা এস এম বাহার উদ্দিন বলেছেন, এমনিতে গ্রামের সব রাস্তাঘাট বন্যার পানির স্রোতে ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। এখন জোয়ারের পানির স্রোত বয়ে যেতে থাকায় রাস্তার যে অংশটুকুভাল ছিল তাও ধসে দিচ্ছে। তার মতে, যতক্ষণ না হালদা পাড়ের রাউজান অংশে বেড়ি বাঁধ না হবে ততদিন রাউজানের নদী পাড়ের মানুষের পানি বন্দিদশা থেকে মুক্তি মিলবে না। গতকাল বৃহস্পতিবার হালদা নদীর পূর্বাংশের ইউনিয়নসমূহ সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা যায় বন্যা পরিস্থিতিতে সৃষ্ট সব রাস্তাঘাটের ক্ষতবিক্ষত রূপ। তখন ছিল নদীতে ভাটা। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, যখন জোয়ার শুরু হবে এলাকার সব রাস্তাঘাট হাঁটু থেকে কোমর পানিতে তলিয়ে যাবে। বাড়ি ঘরে পানি প্রবেশ করবে। জোয়ারের সময় উরকিরচর মইশকরম এলাকায় দেখা গেছে, রাস্তাঘাটের উপর দিয়ে হাঁটু থেকে কোমর পানি গড়াচ্ছে। চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে ওই এলাকার মানুষ। রাউজান উপজেলার সাথে থাকা হাটহাজারীর বিচ্ছিন্ন গ্রাম বাড়িঘোনা গ্রামেও দেখা গেছে জোয়ারের পানিতে এলাকাবাসীর বন্দিদশা। গ্রামের সমাজ সেবক ওসমান হারুন বলেন, বাড়িঘোনা গ্রামটি হাটহাজারীর অংশ হলেও গ্রামের মানুষের চলাচল রাউজানের উরকিরচর ইউনিয়নের উপর দিয়ে। দুটি পাশাপাশি গ্রাম হালদা নদীর সাথে হওয়ার কারণে অমাবস্যাপূর্ণিমার পানিতে সকলকে সমান দুর্ভোগের মধ্যে থাকতে হয়। বিশেষ করে স্কুল মাদরাসায় পড়ুয়া ছেলে মেয়েদের পানি সাঁতরিয়ে যাতায়াত করতে হয় ঝুঁকি নিয়ে। তিনি বলেন, এই দুর্ভোগ স্থায়ী ভাবে লাঘব করতে পারে রাউজান অংশে বেড়িবাঁধ নির্মাণ। তার মতে, পাশাপাশি দুটি উপজেলার নির্বাচিত দুই সংসদ সদস্য সমন্বয় করে কাজ করলে হালদা পাড়ের হাজার হাজার মানুষ এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধলোহাগাড়া ক্রীড়া সংস্থার সম্পাদক পদে বিস্ফোরক মামলার আসামি
পরবর্তী নিবন্ধবন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ডেইরি খামারিদের গোখাদ্য ও কৃষকদের বীজ বিতরণ