কোনোভাবেই থামছে না ভেজাল খাবার পরিবেশন। দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হলেও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে বেগ পেতে হচ্ছে সরকারকে। টেক্সটাইলের কাপড়ের রং ও ফ্লেভার মিশিয়ে তৈরি করা হচ্ছে জুস, আইসক্রিম, মিষ্টি, পাউরুটি, বিস্কুট, দই, ললিপপ, চকলেট এবং কেক। এসব খাবার খেয়ে মানুষের কিডনি বিকল, হার্ট অ্যাটাক, ক্যান্সারসহ নানা ধরনের রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, দেশে খাদ্যে ভেজালকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়ার কোনো নজির নেই। ফলে তারা শুধু জরিমানা গুনেই ফের একই কাজ করতে থাকে। এছাড়া খাদ্যে ভেজাল বন্ধে প্রশাসন মাঝে মধ্যে ঝটিকা অভিযান চালায়। নিয়মিত অভিযান না চালানোর কারণে খাদ্যে ভেজাল দেয়ার সাথে জড়িত চক্রটি আবারও মাথাচড়া দিয়ে উঠে।
জানা গেছে, বিশুদ্ধ খাদ্য অধ্যাদেশ–১৯৫৯ (সংশোধিত ২০০৫) এ খাদ্য ভেজাল পাওয়া গেলে সর্বোচ্চ ১ বছর সশ্রম কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। অপরদিকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন–২০০৯ এ সর্বোচ্চ ৩ বছর কারাদণ্ড বা অনধিক ২ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। নতুন প্রণীত নিরাপদ খাদ্য আইন–২০১৩ তে জরিমানা ও শাস্তির পরিমাণ বাড়িয়ে ৫ বছর কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এসবের খুব একটা প্রয়োগ হয় না বললেই চলে। বিশেষজ্ঞদের মতে, উৎপাদন থেকে শুরু করে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত ভোজাল পণ্যের ছড়াছড়ি। মূলত এসব পণ্যের সহজলভ্যতা ও প্রশাসনের সঠিক নজরদারির অভাব এর জন্য দায়ী। বিষাক্ত রং মিশ্রিত খাবার ডায়াবেটিস ছাড়াও কিডনি, লিভারসহ অন্যান্য অঙ্গে ক্যানসারের কারণ। বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় পঞ্চাশ লাখ মানুষ খাদ্যে বিষক্রিয়ায় বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। লিভার ও কিডনি বিকলের পাশাপাশি হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পেছনের ক্ষতিকারক রাসায়নকিযুক্ত খাবারই দায়ী। ভেজালের সঙ্গে জড়িত লোকদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে খাদ্যদ্রব্যকে ভেজালমুক্ত করতে হবে।
জানতে চাইলে জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আনিছুর রহমান বলেন, ভেজাল খাদ্যপণ্যে তৈরিতে জড়িত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। এছাড়া সরকারের আরো অন্যান্য সংস্থাও অভিযান পরিচালনা করে আসছে। অভিযানে অনিয়ম দেখলে আমরা অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী জরিমানা করছি। তবে আমরা এটা বলতে পারি, নকল ভেজালের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স। এক্ষেত্রে ছাড় দেয়ার সুযোগ নাই। তবে আমরা অনেক সময় অনিয়ম পাওয়ার পর জরিমানার পাশাপাশি সতর্ক করি। তাদের মোটিভেট করি, তারা যাতে পুনরায় একই অপরাধ না করে।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি এস এম নাজের হোসেন আজাদী বলেন, ভেজাল খাদ্যপণ্য তৈরি কারখানাতে প্রশাসন অভিযান চালিয়ে জরিমানা করে দায় সারে। এক্ষেত্রে যদি জরিমানার পরিবর্তে যদি অপরাধীদের জেল দেয়া যায়, তাহলে অপরাধের প্রবণতা কমতো। আবার দেখা যায়, প্রশাসন জরিমানা দেয়ার পরে তিন মাস আর ওই প্রতিষ্ঠানের আশপাশেও যায় না। ফলে ওই অপরাধী একই ধরনের কাজ আবারো বেপরোয়া হয়ে উঠে। তাই যাদেরকে একবারকে জরিমানা করা হচ্ছে তাদের কড়া নজরদারিতে রাখা দরকার।











