প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র হালদা নদীর সংযোগ খালে আজ বৃহস্পতিবার(১৪ জুলাই) বড় আকারের একটি মৃত ডলফিন পাওয়া গেছে। ডলফিনটির ওজন আনুমানিক ১২০ কেজি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ হালদা নদীতে আগে এত বড় ডলফিন দেখা যায়নি। ডলফিনটির শরীরে পচন ধরেছে তাই মৃত্যুর কারণ জানা সম্ভব হয়নি। এটি হালদা নদী থেকে উদ্ধার করা ৩৬তম মৃত ডলফিন।
আজ দুপুরের দিকে রাউজান পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ গহিরা এলাকার বুড়িসর্তা খালে স্থানীয়রা দুর্গন্ধ পেয়ে খালে মৃত ডলফিনটিকে ভেসে থাকতে দেখতে পায়।
ডলফিনটি পচে যাওয়ায় উদ্ধার সম্ভব হয়নি বলে জানান স্থানীয়রা। এটা নিয়ে হালদায় এই পর্যন্ত ডলফিন মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ালো ৩৬টি।
এর আগে, গত ১১ জুন আরও একটি মৃত ডলফিন উদ্ধার করা হয়েছিল।
মৃত এ ডলফিনটি লম্বায় প্রায় ৯ ফুট এবং প্রায় ১২০ কেজি ওজনের। মৃত উদ্ধার হওয়া অধিকাংশ ডলফিনের শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়ার কথা জানিয়েছেন গবেষকরা।
এ বিষয়ে নদী গবেষক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান মনজুরুল কিবরিয়া গণমাধ্যমকে বলেন, “স্থানীয়দের মাধ্যমে দুপুরের দিকে বিশাল আকারের একটি মৃত ডলফিন ভেসে থাকার খবর পাই। ডলফিনটি পচে যাওয়ায় কী কারণে তার মৃত্যু হয়েছে তা নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। আর এ কারণে বিশাল আকারের এ ডলফিনের ময়নাতদন্ত করা যাচ্ছে না।”
তিনি আরও বলেন, “পচে যাওয়ার কারণে ডলফিনটির নাড়িভুঁড়ি তার মুখ দিয়েই বের হয়ে গেছে। আমরা উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়েছি। তারা উদ্ধার করে ডলফিনটিকে মাটিচাপা দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন।”
উল্লেখ্য, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অভ নেচার(আইইউসিএন)-এর লাল তালিকাভুক্ত (অতি বিপন্ন প্রজাতি) একটি জলজ প্রাণী এই ডলফিন।
বিশ্বের বিভিন্ন নদীতে অতি বিপন্ন প্রজাতির ডলফিন আছে মাত্র ১ হাজার ১০০টি। এগুলোর মধ্যে শুধু হালদাতেই ছিল ১৭০টি। তার মধ্য থেকে গত ৪ বছরে ৩৬টি ডলফিনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।












