জয়টা এলো একটু কষ্টেই

আমিরাতের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ৭ রানের জয়

আজাদী অনলাইন | সোমবার , ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২ at ১:১৪ পূর্বাহ্ণ

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে দুই ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথমটিতে ৭ রানের জয়ে সিরিজে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ।

দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে রবিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বেশ কবারই বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ। ১১ ওভার শেষে তাদের রান ছিল ৫ উইকেটে ৭৭! সেখান থেকে দলকে ১৫৮ রানের পুঁজি এনে দেন আফিফ হোসেন ও নুরুল হাসান সোহান।

নিজের ৫০তম টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি আফিফ স্মরণীয় করে রাখেন ৫৫ বলে অপরাজিত ৭৭ রানের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলে। সোহানের সঙ্গে তার জুটিতে রান আসে ৮১, ষষ্ঠ উইকেটে যা বাংলাদেশের রেকর্ড।

রান তাড়ায় এক পর্যায়ে ১০২ রানে ৭ উইকেট হারালেও আরব আমিরাত দারুণ লড়াই করে লেজের ব্যাটসম্যানের সৌজন্যে। সহজ দুটি ক্যাচ ছেড়ে বাংলাদেশ বিপদ ডেকে আনে নিজেদের। তবে শেষ ওভারে টানা দুই বলে উইকেট নিয়ে আমিরাতকে ১৫১ রানে থামান শরিফুল।

মিরাজ আর শরিফুল দারুণ বোলিংয়ে নেন ৩টি করে উইকেট।

এই বছর ১১ টি-টোয়েন্টি খেলে বাংলাদেশের মাত্র তৃতীয় জয় এটি।

বাংলাদেশ এ দিন ব্যাটিংয়ে নামে টস হেরে। চোট কাটিয়ে লিটন দাস ফেরায় কৌতূহল ছিল উদ্বোধনী জুটি নিয়ে। তবে এশিয়া কাপের সাব্বির রহমান ও মেহেদী হাসান মিরাজ জুটি ধরে রাখে দল। সাফল্য অবশ্য মেলেনি। ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারেই সাব্বির আউট হন শূন্য রানে।

তিনে নেমে লিটন তিন বাউন্ডারি আদায় করে নেন দ্রুতই। তবে সেখানেই তাকে থামান ১৬ বছর বয়সী অভিষিক্ত বাঁহাতি স্পিনার আয়ান আফজাল খান।

এশিয়া কাপের ব্যাটিং ঝলক এখানে আর দেখাতে পারেননি মিরাজ। ১৪ বল খেলে ১২ রান করে বিদায় নেন তিনি শর্ট বলে। চোট কাটিয়ে ফেরার ম্যাচটিতে ইয়াসির আলি চৌধুরির ব্যাটে ছিল জড়তা। লেগ স্পিনার কার্তিক মায়াপ্পানের বলে এলোমেলো শটে বোল্ড হন তিনি স্রেফ ৭ বলে ৪ করে।

অষ্টম ওভারে বাংলাদেশের রান তখন ৪ উইকেটে ৪৭। অবস্থা আরও খারাপ হতে পারত, যদি ২ রানে আফিফ বেঁচে না যেতেন সহজ ক্যাচ দিয়ে।

জীবন পেয়ে আফিফ আগ্রাসী সব শট খেলতে শুরু করেন। কার্তিকের টানা দুই বলে বাউন্ডারির পর ছক্কা মারেন স্লগ সুইপে। ৩০ রানের একটি জুটি গড়ে ওঠে, তাতে মোসাদ্দেকের অবদান ৮ বলে স্রেফ ৩।

৫ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা দলকে এগিয়ে নেন আফিফ ও সোহান। বিপর্যয়ের কারণেই হয়তো দুটি ওভার দেখে খেলেন দুজন। এরপর শট খেলা শুরু করেন। কার্তিকের শর্ট বল বিশাল ছক্কায় ওড়ান সোহান।

আফিফ টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের তৃতীয় ফিফটি করেন ৩৮ বলে। পরিস্থিতির দাবি মিটিয়ে জুনাইদ সিদ্দিকের ওভারে মারেন চার ও ছক্কা। ৬৩ রানে আবার তার ক্যাচ পড়ে মিড উইকেটে। এই জীবনও তিনি কাজে লাগান জুনাইদকে আরেকটি ছক্কা মেরে।

শেষ বলে লং অফ দিয়ে ছক্কায় উড়িয়ে ইনিংস শেষ করেন সোহান। শেষ ৬ ওভারে রান আসে ৬৬। সোহান-আফিফের ৮১ রানের জুটি আসে ৯ ওভারে।

রান তাড়ায় আমিরাতকে প্রথম ৩ ওভারে ২৪ রান এনে দেন চিরাগ সুরি ও মুহাম্মদ ওয়াসিম। পঞ্চম ওভারে সৌভাগ্যের ছোঁয়ায় এই জুটি ভাঙতে পারে বাংলাদেশ। চিরাগের শট বোলার শরিফুলের হাতে আলতো স্পর্শ করে নন স্ট্রাইক প্রান্তের স্টাম্পে লাগে, ওয়াসিম তখন ক্রিজের বাইরে।

পরের ওভারেই মুস্তাফিজের বলে টানা তিনটি বাউন্ডারি মেরে চিরাগ জানিয়ে দেন, তারা ভড়কে যাননি। দারুণ শুরু করেন তিনে নামা আরিয়ান লাক্রাও।

মিরাজ আক্রমণে আসার পর বদলে যায় দৃশ্যপট। বিপজ্জনক হয়ে ওঠা চিরাগকে (২৪ বলে ৩৯) ফিরিয়ে তিনি ভাঙেন জুটি। নিজের পরের ওভারে ফেরান তিনি লাক্রাকেও।

এরপর মিরাজ ঝলক দেখান ফিল্ডিংয়ে। মুস্তাফিজের বলে দুর্দান্ত পয়েন্টে রিফ্লেক্স ক্যাচ নিয়ে থামান আমিরাত অধিনায়ক সিপি রিজওয়ানকে।

দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে অনেকটাই ছিটকে পড়ে আমিরাত। ১৫তম ওভারে জাওয়ার ফরিদ যখন আউট হন, রান তখন তাদের ৭ উইকেটে ১০২।

কিন্তু চমকে দেয় আমিরাতের লোয়ার অর্ডার। অভিষিক্ত আয়ান আফজাল খান ব্যাট হাতেও নিজের প্রতিভা দেখান। লোয়ার অর্ডারে অন্যরাও সঙ্গ দেন। তাতে জমে ওঠে ম্যাচ। ১৮তম ওভারে আয়ানের ক্যাচ ছাড়েন মোসাদ্দেক।

শেষ ওভারে ২ উইকেট নিয়ে আমিরাতের প্রয়োজন পড়ে ১১ রান। শরিফুলের প্রথম বলে দুই রান নেন জুনাইদ, পরের বলে কাভারে সহজতম ক্যাচ ছাড়েন সাইফউদ্দিন। বাংলাদেশের শঙ্কা তাতে বাড়ে আরও।

তবে তৃতীয় বলে উড়িয়ে মেরে আউট হয়ে যান আয়ান (১৭ বলে ২৫)। পরের বলে সাইফউদ্দিনই ক্যাচ নেন। কোনো রকমে অঘটন এড়ানোর স্বস্তি নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১৫৮/৫ (মিরাজ ১২, সাব্বির ০, লিটন ১৩, আফিফ ৭৭*, ইয়াসির ৪, মোসাদ্দেক ৩, সোহান ৩৫*; জুনাইদ ৪-০-৩৩-০, সাবির ৩-০-১৬-১, আয়ান ৩-০-১৬-১, জাওয়ার ৪-০-৩৮-১, কার্তিক ৪-০-৩৩-২, বাসিল ২-০-১৬-০)

সংযুক্ত আরব আমিরাত: ১৯.৪ ওভারে ১৫১ (ওয়াসিম ১৫, চিরাগ ৩৯, আরিয়ান ১৯, অরবিন্দ ১৬, রিজওয়ান ৫, বাসিল ২, আয়ান ২৫, জাওয়ার ২, কার্তিক ১২, জুনাইদ ১১, সাবির ০*; সাইফ ৪-০-৪০-০, মুস্তাফিজ ৪-০-৩১-২, নাসুম ৪-০-৩১-০, শরিফুল ৩.৪-০-২১-৩, মিরাজ ৩-০-১৭-৩, মোসাদ্দেক ১-০-৯-০)

ফল: বাংলাদেশ ৭ রানে জয়ী

সিরিজ: ২ ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশ ১-০তে এগিয়ে

ম্যান অব দা ম্যাচ: আফিফ হোসেন