ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে ভারতের দাপুটে ফুটবলের কাছে হার মানলো পাকিস্তান। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের এবারের আসরে নিজেদের প্রথম ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে প্রথমার্ধেই রীতিমতো কোণঠাসা করে ফেলে তারা। বিরতিতে ৩–০ গোলে এগিয়ে থেকে বড় জয়ের পথেই ছিল ভারত। কিন্তু শেষ দিকে বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। যোগ করা সময়ের শেষ তিন মিনিটে জোড়া গোল করে ম্যাচে রোমাঞ্চ ফিরিয়ে আনে পাকিস্তান। যদিও শেষ পর্যন্ত তাদের সেই লড়াই কেবল হারের ব্যবধানই কমিয়েছে। ৩–২ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে ভারত। ১৩তম মিনিটে বাঁ প্রান্ত দিয়ে দ্রুতগতিতে বক্সে ঢুকে পড়েন মুহাম্মদ সুহাইল। তার বাড়ানো নিখুঁত ক্রসে আলতো টোকায় ফাঁকা জালে বল পাঠিয়ে ভারতকে এগিয়ে দেন সুহেল ভাট। প্রথম গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই ব্যবধান দ্বিগুণ করে ভারত। ১৯তম মিনিটে মাঝমাঠ থেকে সুর্যবংশীর দুর্দান্ত থ্রু পাস ধরে ডিফেন্ডারকে পেছনে ফেলে বক্সে ঢুকে পড়েন মোহনবাগানের ফরোয়ার্ড সুহাইল। এরপর শরীর সামান্য বাঁকিয়ে ডান পায়ের নিখুঁত শটে বল জালে পাঠান তিনি। তাতে ২–০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ভারত। ৩৪তম মিনিটে বক্সে বিজয়ের ভুল ক্লিয়ারেন্সের সুযোগ নিতে যাওয়া খাট্টাককে ফাউল করেন সুর্যবংশী। সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। তবে স্পট–কিক থেকে বল পোস্টের অনেক ওপর দিয়ে মেরে সুযোগ নষ্ট করেন শায়াক দোস্ত। প্রথমার্ধের শেষ দিকে নওফালকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন পাকিস্তানি ডিফেন্ডার আলী জেব। পরের মিনিটেই কর্নার থেকে দারুণ ড্রিবলিংয়ে প্রতিপক্ষের মার্কারকে কাটিয়ে বক্সে ক্রস বাড়ান কিপজেন। তবে নওফালের ভলি ঠেকিয়ে দিয়ে চতুর্থ গোল হজমের হাত থেকে দলকে বাঁচান পাকিস্তানের রক্ষণভাগ। বিরতির পর ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে পাকিস্তান। তবে ভারতের জমাট রক্ষণ ভেঙে গোলের দেখা পাচ্ছিল না তারা। ম্যাচ যখন একপেশে ফলাফলের দিকে এগোচ্ছিল, তখনই শেষ মুহূর্তে জমে ওঠে লড়াই। যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে বাঁ প্রান্ত থেকে জুনায়েদ শাহর বাঁকানো ক্রসে লাফিয়ে উঠে দুর্দান্ত হেডে ভারতের জালে বল পাঠান বদলি ফরোয়ার্ড নাজিব উল্লাহ। ব্যবধান কমিয়ে ৩–১ করে পাকিস্তান। এর তিন মিনিট পর আবারও ভারতের জালে বল জড়ায় পাকিস্তান। ৯৪তম মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে আরেক বদলি খেলোয়াড় মিকাইল আবদুল্লাহর বাড়ানো ক্রস বক্সের মাঝখানে পেয়ে যান আলমগীর গাজী। সেখান থেকে ডান পায়ের জোরালো শটে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি। ভারতীয় গোলরক্ষক আরশ শেখের কিছুই করার ছিল না। মুহূর্তেই ৩–০ থেকে ৩–২ হয়ে যায় স্কোরলাইন। শেষ বাঁশি বাজার আগে সমতায় ফেরার আশায় মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালায় পাকিস্তান। কিন্তু আর সময় ছিল না তাদের হাতে। শেষ পর্যন্ত ৩–২ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে ভারত। শেষ মুহূর্তে লড়াই জমিয়ে তুলেও হার এড়াতে পারেনি পাকিস্তান।












