নগরে সাড়ে দশ হাজার নষ্ট-অচল মিটার পরিবর্তন করছে ওয়াসা

নতুন মিটারে ভূতুড়ে বিল থেকে মুক্তি পাবে গ্রাহক, বৃদ্ধি পাবে রাজস্ব আদায়

শুকলাল দাশ | বৃহস্পতিবার , ৫ নভেম্বর, ২০২৬ at ১০:২৭ পূর্বাহ্ণ

নগরীতে গ্রাহকদের সাড়ে ১০ হাজার নষ্ট–অচল ও চুরি হওয়া এবং গড় বিলের মিটার নতুন করে প্রতিস্থাপনের কাজ শুরু করেছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। ইতোমধ্যে নগরীর হালিশহর বড়পোল এলাকায় দীর্ঘদিনের নষ্ট–অচল মিটার পরিবর্তন করে নতুন মিটার বসানোর কাজ শুরু হয়েছে। চট্টগ্রাম ওয়াসার রাজস্ব বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গ্রাহকদের পুরাতন নষ্ট এবং অচল মিটার পরিবর্তন করে নতুন মিটার বসানোর মধ্যদিয়ে গ্রাহকরা মিটার রিডিং অনুযায়ী বিল পাবেন এবং দীর্ঘদিনের গড় বিল বা ভূতুড়ে বিলের সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন।

চট্টগ্রাম ওয়াসার রাজস্ব বিভাগ থেকে জানা গেছে, গ্রাহক সেবা সহজীকরণ, গড় বিলের অভিযোগ এবং সর্বোপরি রাজস্ব আদায়ের স্বচ্ছতার স্বার্থে এই অচল–নষ্ট ও চুরি হওয়া মিটার প্রতিস্থাপন কাজ হাতে নিয়েছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। নতুন মিটারের মাধ্যমে পানির সঠিক রিডিংয়ের ভিত্তিতে বিল জারি হলে রাজস্ব আদায়ও বৃদ্ধি পাবে বলে জানান রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তারা।

গ্রাহকদের মাঝে চট্টগ্রাম ওয়াসার পানির গড় বিলের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। হাজার হাজার গ্রাহকের মিটার দীর্ঘদিন থেকে নষ্ট এবং অনেক গ্রাহকের মিটার চুরি হয়ে যাওয়ার কারণে মিটার রিডাররা মাস শেষে বাধ্য হয়ে গড় বিল করে দেন। এই নিয়ে চট্টগ্রাম ওয়াসায় প্রতি মাসে গ্রাহকরা অভিযোগ নিয়ে ভিড় করেন। এসব গ্রাহকদের মাঝে নতুন মিটার প্রতিস্থাপনের ফলে দীর্ঘদিনের বিলের ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবেন।

এদিকে গতকাল বুধবার চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম সকাল ১১টায় হালিশহর বড়পোল এলাকায় সরেজমিনে মিটার প্রতিস্থাপন কাজ পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনে তিনি মিটার প্রতিস্থাপন কাজের প্রয়োজনীয়তা, গ্রাহকদের সমস্যা ও মিটার সংক্রান্ত অভিযোগ, প্রতিকার নিয়ে গ্রাহকদের সাথে কথা বলেন। ওয়াসার এমডি বলেন, গ্রাহকদের সুবিধার্থে সাড়ে দশ হাজার মিটার চট্টগ্রাম ওয়াসা প্রতিস্থাপন করে দিচ্ছে। এর ফলে গ্রাহকগণ মিটার রিডিং অনুযায়ী বিল পাবেন এবং ভূতুড়ে বিলের অভিযোগ থেকে আমরাও রক্ষা পাব। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে পানির মিটারের সঠিক রিডিংয়ের ভিত্তিতে বিল জারি হলে রাজস্ব আদায়ও বৃদ্ধি পাবে। এ কাজে গ্রাহকগণের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছি।

সরেজমিনে মিটার প্রতিস্থাপন কাজ পরিদর্শন করে ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম বলেন, চট্টগ্রাম ওয়াসা গ্রাহকদের সেবা সহজীকরণের বিষয়ে বদ্ধপরিকর। চট্টগ্রাম ওয়াসায় যোগদানের পর থেকে গড় বিল, বেশি বিল, ভূতুড়ে বিল এসব অভিযোগ নিয়ে গ্রাহকগণ সশরীরে বা লিখিতভাবে অভিযোগ নিয়ে আসছেন। এসব সমস্যার মূল কারণ বের করলে শেষ পর্যন্ত দেখা যায় গ্রাহকের মিটার নষ্ট–অচল বা চুরি হয়ে গিয়েছে। গ্রাহক মিটার প্রতিস্থাপনে বিলম্ব বা অনেক সময় অনীহা প্রকাশ করায় চট্টগ্রাম ওয়াসা আইন অনুযায়ী গড় বিল জারি করতে বাধ্য হয়।

সরেজমিনে মিটার প্রতিস্থাপন কাজ পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন উপ–ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অর্থ) শারমিন আক্তার, বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক সাজিয়া পারভীন, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রুমন দে, রাজস্ব কর্মকর্তা এরফানুল করিম সাজ্জাদ ও সংশ্লিষ্ট মিটার পরিদর্শক।

চট্টগ্রাম ওয়াসার সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পুরাতন নষ্ট মিটার পরিবর্তনের জন্য চট্টগ্রাম ওয়াসা গত ১৭ সেপ্টেম্বর এলটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করে। এ প্রেক্ষিতে ১২ অক্টোবর থেকে মিটার প্রতিস্থাপন কাজ শুরু হয়েছে। এই কার্যক্রমের আওতায় এখন নগরীতে সাড়ে দশ হাজার মিটার পরিবর্তন করার কাজ চলছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচকরিয়ায় গোপন বৈঠক থেকে আ. লীগের ৯ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার
পরবর্তী নিবন্ধইন্ডাস্ট্রি ও একাডেমিয়ার মধ্যে কোলাবোরেশন আবশ্যক