নিয়মবহির্ভূতভাবে ১৭৪টি ইমারত নকশা অনুমোদন দেওয়ার অভিযোগে বাঁশখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র এস এম তোফাইল বিন হোছাইনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম–২ এর উপসহকারী পরিচালক তাপছির বিল্লাহ বাদী হয়ে নিজ কার্যালয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার এজহারে বলা হয়, স্থানীয় সরকার বিভাগের আদেশ মোতাবেক ইমারত নির্মাণ কমিটির অনুমোদন না নিয়ে ঘুষের বিনিময়ে একক ক্ষমতা বলে বাড়ি নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছেন এস এম তোফাইল বিন হোছাইন–এমন একটি অভিযোগ অনুসন্ধান করে দুদক। অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এর স্থানীয় সরকার বিভাগ, পৌর–১ শাখার জারীকৃত পরিপত্র অনুযায়ী ইমারত/স্থাপনার নকশা অনুমোদন প্রদানের নির্দেশনা রয়েছে। উক্ত পরিপত্রের ২.১ দফা অনুযায়ী ইমারত/স্থাপনার নকশা অনুমোদন ও ভবনের গুণগতমান নিশ্চিতকরণের জন্য পৌর মেয়রকে সভাপতি করে মোট ১১ সদস্যের “ইমারত/স্থাপনার নকশা অনুমোদন কমিটি” গঠন করা হয়। ইমারত/স্থাপনার অনুমোদনের ক্ষেত্রে গঠিত কমিটির কার্যপরিধি পরিপত্রের ২.২ দফাতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়। পরিপত্রের ২.২ (গ) দফা অনুযায়ী প্রতি তিন মাসে কমিটির ন্যূনতম একটি সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও তা পরিপালন করা হয়নি। আরো দেখা যায় যে, বাঁশখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র এস এম তোফাইল বিন হোছাইন ২০২২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট পর্যন্ত মেয়র হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। তার দায়িত্ব পালনকালে সর্বমোট ২৬৭ টি ইমারত/স্থাপনার নকশা অনুমোদন প্রদান করা হয়। উক্ত সময়ে ইমারত/স্থাপনার নকশা অনুমোদনের জন্য মাত্র দুটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। যার একটি সভা হয় ২০২৩ সালের ৪ সেপ্টেম্বর এবং অপর সভাটি হয় ২০২৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি। উক্ত দুটি সভায় সর্বমোট ৮৯ টি ইমারত/স্থাপনার নকশার অনুমাদন প্রদান করা হয়। অন্যদিকে স্থানীয় সরকার বিভাগের ২০১৭ সালের পরিপত্রের নির্দেশনা মোতাবেক গঠিত কমিটির সুপারিশ ব্যতীত অবশিষ্ট ১৭৪ টি ইমারত/স্থাপনার নকশার অনুমাদন প্রদান করা হয়। অর্থাৎ এস এম তোফাইল বিন হোছাইন স্থানীয় সরকার বিভাগ, পৌর–১ শাখা কতৃক ২০১৭ সালের ২২ জুনের জারীকৃত পরিপত্রের নির্দেশনাবলী পরিপালন না করে অসৎ উদ্দেশ্যে নিজ ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে নিজে এককভাবে ১৭৪ টি ইমারত/স্থাপনার নকশার অনুমোদন দিয়ে দেন। যা দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম–২ এর উপপরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন দৈনিক আজাদীকে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, তদন্তে অন্য কারো সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে আমলে নেওয়া্ হবে।












