যুবশক্তি একটি দেশের অন্যতম সম্পদ। যুবারাই পারে পরিবর্তন আনতে। দেশ পরিচালনায় নিযুক্ত যাঁরা তাঁদের সদিচ্ছা এবং মহৎ পরিকল্পনা দেশের যুব সমাজকে পরিণত করতে পারে সম্পদে। আমরা যদি একটু পিছনের দিকে তাকাই, তাহলে দেখা যাবে যুবশক্তির অপরিমেয় শক্তি। ভারতবর্ষে সাম্রাজ্যবাদী বৃটিশ শাসকদের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিলে ১৯৩০ সালের সশস্ত্র চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহ, তার পাশাপাশি, সারা ভারতবর্ষে অগণিত তরুণ ও যুবককে স্বাধীনতার অগ্নিমন্ত্রে উদ্দীপ্ত করেছিল রক্তঝরা চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহ। অগ্নিগর্ভ চট্টগ্রামের সে ইতিহাস আজও মুক্তিপ্রত্যাশী মানুষের চেতনায় ঝড় তোলে, নিপীড়িত মানুষের মধ্যে মুক্তির আকাঙ্ক্ষা জাগ্রত করে বারংবার।
সূর্য সেন–প্রীতিলতার ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন, উনসত্তরের গণ–অভ্যুত্থান, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে এ দেশের যুবসমাজের। দেশের এক বিশাল জনগোষ্ঠী আজ যুবক। তাদেরকে সঠিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যোগ্য ও দক্ষ করে তুলতে হবে। সহযোগিতা আর ভালোবাসায় তাদেরকে দেশের উন্নয়নে লাগাতে হবে। বিশাল এই জনগোষ্ঠীকে যদি আমরা ঠিকঠাক কাজে লাগাতে পারি তাহলে দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির গতিবেগ ত্বরান্বিত হবে নিঃসন্দেহে। যুবসমাজ স্বভাবতই আদর্শবাদী, উদ্যমী এবং আশাবাদী। তাদের শক্তিকে উচ্চতর উদ্দেশ্যে পরিচালিত করা উচিত। স্বার্থপরতা দ্বারা অনুপ্রাণিত নয় এমন উচ্চতর আদর্শের জন্য কাজ করার জন্য তাদের চ্যালেঞ্জ জানানো উচিত। যুবসমাজকে স্বার্থের চেয়ে সেবাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য উৎসাহিত করতে হবে। অহিংসাকে আরও কার্যকর করার জন্য আমাদের সহিংসতার কারণগুলি বুঝতে হবে। আমাদের চিন্তাভাবনায়, অহিংস আচরণ এবং যোগাযোগ স্বাভাবিকভাবেই আসে। সমগ্র মহাবিশ্ব পরস্পর সংযুক্ত। যুবসমাজের প্রতিটি সদস্যকে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তারাই হয়ে ওঠবে এক আদর্শবান শক্তি। এই আদর্শ মানুষ বলতে এমন ব্যক্তিকে বুঝানো হয়েছে, যে উন্নত মানবিক গুণাবলি ধারণ করবে ও অন্যের জন্য অনুসরণযোগ্য হবে। অর্থাৎ সামাজিকভাবে যা কিছু ভালো–শ্রেষ্ঠ, মহৎ ও কল্যাণকর সব কিছুই থাকবে যুবসমাজের প্রতিটি সদস্যের মধ্যে। আদর্শ মানুষ হতে হলে সবার ভেতর যেসব গুণ থাকা দরকার সেগুলো হলো– সততা, নিষ্ঠা, পরিশ্রমী ও পরোপকারী মনোভাব, মানবদরদি–সহমর্মিতা, নির্লোভ–নিরহংকার এবং সাহস। যুবসমাজকে একটি জাতির স্তম্ভ, সভ্যতা–সংস্কৃতি ও উন্নয়নের কারিগর বলা যেতে পারে। যুবকরা শারীরিক ও মানসিকভাবে শক্তিশালী, জাগ্রত জ্ঞানের অধিকারী এবং রাষ্ট্র–সমাজের পরিবর্তন–সংগ্রামের অগ্রনায়ক। যুবকদের জীবনের লক্ষ্য হল নিঃস্বার্থতা এবং অন্যদের জন্য বেঁচে থাকা। জীবন সম্পূর্ণরূপে ত্যাগের বিষয়। ত্যাগ ও সেবার মহিমায় ভাস্বর হয়ে উঠুক আমাদের যুব সমাজ। জয়তু যুবশক্তি।












