এবার নতুন বছরের আগেই নতুন বই পাবে শিক্ষার্থীরা

চট্টগ্রামে আসা বই মজুদ হচ্ছে বিভিন্ন স্কুলে

আজাদী প্রতিবেদন | শুক্রবার , ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ at ৮:০২ পূর্বাহ্ণ

নতুন বছরের প্রথমদিনে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন পাঠ্যবই তুলে দেওয়ার রেওয়াজ রয়েছে দেশে। তবে এবার তার আগেই শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দিতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে চট্টগ্রাম জেলায় নতুন বই আসতে শুরু করেছে। বিভিন্ন স্কুলে মজুদও হচ্ছে। গতকাল নগরীর ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে নতুন বইয়ের একটি চালান ঢুকতে দেখা গেছে। জেলা শিক্ষা অফিস সূত্র জানিয়েছে, কিছুদিন ধরে চট্টগ্রামে নতুন বই আসতে শুরু করেছে। এবার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ২৪ ডিসেম্বর নতুন পাঠ্যবই হাতে পাবে। মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদেরও ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহের মধ্যে নতুন বই দেওয়া হবে। শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে বলেছেন, ডিসেম্বরের শেষের দিকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা বা মূল্যায়ন থাকলে শিক্ষকরা ব্যস্ত থাকবেন। তাই আমরা ২৪ ডিসেম্বর বই বিতরণের চিন্তাভাবনা করছি। এরপর শিক্ষার্থীরা ক্রিসমাস ও নতুন বছরের ছুটিতে যাবে। ছুটি শেষে ক্লাসে ফিরে নতুন বই ও নতুন মলাট নিয়ে পড়াশোনা শুরু করবে।

জানা গেছে, এবার প্রাক–প্রাথমিকে ৫৭ লাখ ৩০ হাজার ৬৪০ কপি পাঠ্যবই ছাপা হচ্ছে। প্রাথমিকের প্রথম থেকে পঞ্চমের শিক্ষার্থীদের জন্য ছাপা হচ্ছে ৭ কোটি ৬২ লাখ ৯৪ হাজার ৭৫৮ কপি বই। এছাড়া ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের জন্য তাদের ভাষায় লেখা বই প্রয়োজন এক লাখ ৪২ হাজার ৩৩২ কপি। প্রাক–প্রাথমিক, প্রাথমিক ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী মিলিয়ে মোট বই ছাপানো হেচ্েছ ৮ কোটি ২১ লাখ ৬৭ হাজার ৭৩০ কপি। এছাড়া ইবতেদায়ি প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির বইয়ের সংখ্যা ৩ কোটি ৩২ লাখ ৯৬ হাজার ৪০০ কপি। নিম্নমাধ্যমিকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ৪ কোটি ৩৪ লাখ ৬১ হাজার ৫৭৭ কপি, সপ্তম শ্রেণিতে ৪ কোটি ৯ লাখ ৬০ হাজার ৬০১ কপি, অষ্টমে ৩ কোটি ৯৩ লাখ ৭৩ হাজার ৫১৫ কপি পাঠ্যবই ছাপানো হবে। মাধ্যমিকে নবম শ্রেণিতে রয়েছে সবচেয়ে বেশি বই। এ শ্রেণির জন্য ছাপা হেচ্েছ ৫ কোটি ৫৬ লাখ ২৭ হাজার ২৩৫ কপি পাঠ্যবই। এছাড়া দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য ব্রেইল বই ছাপা হবে ৯ হাজার ৪ কপি।

পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের তথ্যমতে, চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে এবার নতুন চারটি বিষয় চালু হচ্ছে। চতুর্থ শ্রেণিতে নতুন যুক্ত হওয়া বিষয় দুটি হলো– খেলাধুলা ও আমাদের সংস্কৃতি। এ দুই বিষয়ের বই সংখ্যা ৬২ লাখ ৫৯ হাজার ২৮কপি। অন্যদিকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে নতুন দুই বিষয় হলো– আনন্দময় শিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষা। এ দুটি বইয়ের সংখ্যা ৭১লাখ ৫৭হাজার ৫৯০কপি। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য মোট ৩০ কোটি ৯২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩৯ কপি পাঠ্যবই ছাপানো হবে। আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্য বই ছাপাতে মোট এক হাজার ৮৯০ কোটি ১৬ লাখ ৩৯ হাজার ৩২৮ টাকা ব্যয় হবে। এর মধ্যে প্রাক–প্রাথমিক, প্রাথমিক ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের জন্য বই ছাপাতে খরচ হবে ৪৬৯ কোটি ৫৩ লাখ ৪৬ হাজার ৯৩৬ টাকা। নিম্নমাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও ইবতেদায়ি মিলিয়ে ব্যয় হবে এক হাজার ৪২০ কোটি ৬২ লাখ ৯২ হাজার ৩৯২ কোটি টাকা।

ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহেদা আক্তার গতকাল দৈনিক আজাদীকে বলেন, আমরা ইতিমধ্যে কিছু নতুন বই পেয়েছি। ৬ষ্ঠ, ৭ম ও ৮ম শ্রেণীর সব বই ইতিমধ্যে আমরা পেয়েছি। ৯ম শ্রেণীরও প্রায় সব পেয়েছি। বাকী বই যথাসময়ে চলে আসবে। তিনি জানান, আজকে (গতকাল) যেসব বই স্কুলে ঢুকতে দেখা গেছে সেগুলো আমাদের নয়। এসব বই শুধু এখানে মজুদ থাকবে। মজুদকৃত এসব বইয়ের সাথে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবন্দরে ৪৯৪ কোটি টাকার সিগারেটের তামাক জব্দ
পরবর্তী নিবন্ধসকালে উচ্ছেদের পর বিকালে আবারো বসল দোকান, আটক ৩