৭১ ও ২৪-এর পরাজিত শক্তির ভাষা একই

মহানগর যুবদলের সমাবেশে মীর হেলাল তারা চায় দেশকে অস্থিতিশীল করতে

আজাদী প্রতিবেদন | বুধবার , ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ at ৭:১৭ পূর্বাহ্ণ

৭১–এর পরাজিত শক্তি এবং ২৪–এর পরাজিত শক্তির ভাষা একই বলে মন্তব্য করেছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। তিনি বলেন, তারা চায় না বাংলাদেশে সুপ্রতিষ্ঠিত হোক, তারা চায় না বাংলাদেশে গণতন্ত্র স্থায়ী হোক। তারা চায় দেশ অস্থিতিশীল থাকুক। যাতে আবার বহির্বিশ্বের কোনো অপশক্তি এখানে এসে মাথা ঘামাতে পারে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের উদ্যোগে আয়োজিত র‌্যালিপূর্বক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ ময়দানে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন নগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন বক্কর ও মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী বেলাল উদ্দিন। সভাপতিত্ব করেন নগর যুবদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তি। সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ শাহেদ। সমাবেশ শেষে জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ থেকে জিইসি মোড় পর্যন্ত বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়।

বিএনপি’র সহ–সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগ) মীর হেলাল একটি রাজনৈতিক দলকে ইঙ্গিত করে বলেন, সংসদে এক কথা বলবেন, ঠিক বিপরীতটা মাঠে গিয়ে বলে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করবেন? সংসদে তদ্বির করবেন, মন্ত্রণালয়ে গিয়ে তদ্বির করবেন, মাঠে গিয়ে সরকারবিরোধী কথা বলবেন– এই ধরনের দ্বিচারিতা চট্টগ্রামবাসী মেনে নেবে না, বাংলাদেশের মানুষ মেনে নেবে না।

মীর হেলাল বলেন, মনে রাখবেন, বর্তমান সরকার আমি–ডামির নির্বাচনে নির্বাচিত নয়, বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সরকার। আমরা যেমন সংসদে কথা বলতে পারি, আমরা যেমন মন্ত্রিসভায় কথা বলতে পারি, রাজপথে নামতে এক সেকেন্ডও দেরি হবে না। রাজপথ আমাদের দখলে ছিল, দখলে আছে এবং ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও দখলে থাকবে। তাই দেশের কল্যাণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ গঠনে মনোনিবেশ করুন এবং জুলাইয়ের শহীদদের রক্তের সাথে বেইমানি না করে বাংলাদেশের যে পরিবর্তন আনার ঘোষণা দিয়েছেন, প্রত্যয় করেছিলেন, সেটিতে আপনারা কাজ করুন। ইনশাআল্লাহ আপনাদেরকে আমরা সহযোগিতা করব।

মীর হেলাল সাংগঠনিকভাবে দলকে শক্তিশালী করার কথা জানিয়ে বলেন, আমরা আমাদের সংগঠন আরো শক্তিশালী করব, আমরা সংগঠনে ঐক্যবদ্ধ হয়ে যে কোনো দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র আমরা মোকাবেলা করব।

দলের নেতাকর্মীদের তিনি বলেন, জনগণ ম্যান্ডেট দিয়ে আমাদেরকে সংসদ সদস্য নির্বাচন করে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। প্রতিদিন আমাদের সরকারকে সহযোগিতা করার জন্য আমাদের রাজপথে সক্রিয় থাকতে হবে। আমরা যদি মাঠে অবস্থান করি, ভোটের হিসাবে প্রমাণ করে তাদের ঠাঁই বাংলাদেশে হবে না। কিন্তু যদি শুধু বৈষয়িক বিষয় নিয়ে আমরা ব্যস্ত থাকি, সংগঠনের দিকে মনোনিবেশ না করি তাহলে কিন্তু বিপদ আসতে বেশি সময় লাগবে না।

মীর হেলাল বলেন, প্রধানমন্ত্রী যখন জাতিসংঘ সফরে যাচ্ছিলেন তখন দেখলাম রাত ২টা, আড়াইটা, ৪টা বাজে ১০টা ছেলে দৌড় দিয়ে জয় বাংলা বলে। ‘জয়’ এখানে বলে তো দৌড়ে গিয়ে ‘বাংলা’ আধা মাইল দূরে বলে। তখন আমরা সাংগঠনিকভাবে সিদ্ধান্ত নিলাম, আমরা কয়েকদিন কর্মীদেরকে নিয়ে মাঠে হাঁটাচলা করি। গিয়েছিলাম? আমরা তখন একদিন যুবদল, একদিন ছাত্রদল, একদিন স্বেচ্ছাসেবক দল, একদিন বিএনপি– এভাবে করে মনে হয় সপ্তাহ–১০ দিন আমরা রাজপথে অবস্থান করেছি। এরপর তাদের মিছিলও শেষ, খেলাও শেষ, মেলাও শেষ, সবাই ঘরে ঢুকে গেছে। চট্টগ্রাম–৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ বলেন, যুবদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে আমাদের অঙ্গীকার হোক আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকব, সংগঠনকে শক্তিশালী করব, মানুষের পাশে দাঁড়াব। তিনি এসময় যুব সমাজকে দেশ গঠনের কাজে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

নগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান বলেন, আমাদের প্রত্যকের দায়িত্ব ব্যক্তি স্বার্থের উর্ধ্বে ওঠে দলীয় শৃঙ্খলা পারস্পরিক সম্মান এবং জনমানুষের প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দেওয়া। একটি সাম্য ও মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানো এবং সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

নগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন বক্কর বলেন, এদেশের প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রাম বিশেষ করে স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলন, ফ্যাসিস্ট হাসিনা বিরোধী আন্দোলনে যুবদলের নেতাকর্মীরা রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। চট্টগ্রাম মহানগর যুবদল অতীতের ন্যায় সুশৃঙ্খল ও ঐকবদ্ধ সংগঠন।

নগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী বেলাল উদ্দিন বলেন, যুব ঐক্য প্রগতির মূলমন্ত্রে ১৯৭৮ সালের ২৭ অক্টোবর প্রতিষ্ঠার পর থেকে জাতীয়তাবাদী যুবদল স্বগৌরবে এগিয়ে যাচ্ছে আপন মহিমায়। প্রতিহিংসা নয়, সহনশীলতা, বিভেদ নয়, ঐক্য, দখল দারিত্ব নয়, জনসেবায় হোক আমাদের রাজনৈতিক চর্চার মূল ভিত্তি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধরেফারেল প্রথা নেই, সময়ের সাথে রোগীদের অর্থেরও অপচয়
পরবর্তী নিবন্ধতরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ৫শ কোটি টাকার স্টার্টআপ তহবিল