কলম মানুষের জীবনের এক অনন্য ও পরম বন্ধু হতে পারে, যদি তার সাথে সুগভীর সখ্য গড়ে তোলা যায় এবং তার কাছে হৃদয়ের গহিন কথাগুলো অকাতরে বিলিয়ে দেওয়া যায়। এই জটিল ও স্বার্থপর পৃথিবীতে নিঃসঙ্গতার মুহূর্তে যখন কেউ পাশে থাকে না, কলম তখন বিশ্বস্ত সুহৃদ হয়ে আমাদের মনের না–বলা কথাগুলো কাগজের বুকে ফুটিয়ে তোলে। কলমের সেই সূক্ষ্ম তুলির পরশে আঁকা হয়ে যায় আপনার, আমার, রূপসী প্রকৃতির এবং বৈচিত্র্যময় জীবজগতের নিখুঁত ছবি।
কলমের হাত ধরেই মানুষের জীবন–বিতানে আনন্দধারার এক অনাবিল সুবাতাস বয়ে যায়। সেই নির্মল হাওয়ায় পরিবেশ ও মন স্নিগ্ধতার সৌরভ ছড়ায়।
কলম কেবল অনুভূতির বাহক নয়; কলম মানুষের অধিকারের কথা বলে, বিশুদ্ধ বিনোদন ছড়ায় এবং সমাজের বুক থেকে অন্ধকার ঘুচিয়ে আলোর দিশা দেখায়। এটি দুর্বল মনে অদম্য শক্তি সঞ্চার করে, সত্য ও ন্যায়ের সত্তাকে বসায় গৌরবের উচ্চাসনে। কলম যেমন কাজের স্বীকৃতি এনে দেয়, তেমনি কর্মসংস্থান ও আর্থিক সক্ষমতার পথও উন্মুক্ত করে।
প্রকৃতপক্ষে, কলমই আমাদের জীবনের সুগভীর আত্মোপলব্ধির জাগরণ ঘটায়, সমাজ থেকে দূর করে যুগের পর যুগ জমে থাকা কুসংস্কার এবং মেধা ও সাহিত্যের অফুরন্ত আলো ছড়িয়ে দেয় চারিপাশে। তাই কলমই হোক আমাদের পথচলার চিরন্তন পাথেয়।












