অক্টোবরের মাঝামাঝি সময় থেকে বাজারে শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়ে। শীতকালীন সবজির মধ্যে রয়েছে ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম ও মুলা। তবে সরবরাহ সংকটের অজুহাতে নগরীর কাঁচাবাজারগুলোতে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে শীতকালীন সবজি। বর্তমানে প্রতিকেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায় এবং ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। এই দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। তবে কিছুটা নাগালে রয়েছে মুলা ও বাঁধাকপির দাম। সবজি দুটি প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায়।
সবজির আড়তদাররা বলছেন, আগে স্থানীয় উপজেলাগুলো থেকে নগরীর বাজারগুলোয় প্রচুর পরিমাণে সবজি আসত। তবে এবার আসার পরিমাণ অনেক কমে গেছে। বাজারে এর প্রভাব পড়েছে।
আগে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ, বাঁশখালী, সীতাকুণ্ড এবং হাটহাজারীসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে শীতকালীন সবজি আসত। এখন শীতকালীন সবজির বড় অংশের যোগান আসে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে।
ভোক্তারা বলছেন, সবজি উৎপাদন করে কৃষক বর্তমান বাজারমূল্যের অর্ধেক দামও পাচ্ছেন না। অথচ এক শ্রেণীর সবজি ব্যবসায়ী কৃষকের কাছ থেকে কম দামে সবজি কিনে নিয়ে সিন্ডিকেট করে দ্বিগুণ দামে বাজারে বিক্রি করছেন। বিষয়টি প্রশাসনের নজর দেওয়া উচিত।
এদিকে শীতকালীন সবজির দাম চড়া হলেও গত এক সপ্তাহে গ্রীষ্মকালীন ও বারোমাসি সবজির দাম কেজিতে ১০ টাকা পর্যন্ত কমেছে বলে জানিয়েছেন কাজীর দেউড়ি এবং ২ নং গেট কর্ণফুলী কমপ্লেঙ কাঁচাবাজারের সবজি বিক্রেতারা।
কাজীর দেউড়ি বাজারের সবজি বিক্রেতা মোহাম্মদ আজম আজাদীকে বলেন, শীতকালীন সবজি আসার পরিমাণ অনেক কম। পাইকারিতে সরবরাহ বাড়লে আমরাও কম দামে কিনতে পারি। এখন যে পরিমাণ শীতকালীন সবজি আসছে তা চাহিদার তুলনায় অনেক কম। ফলে দামও চড়া রয়েছে।
২ নং গেট কর্ণফুলী কমপ্লেঙের সবজি বিক্রেতা ইসমাইল হোসেন বলেন, আগামী মাস থেকে শীতকালীন সবজির দাম কমে যাবে। অনেক জায়গায় শীতকালীন সবজি এখনো কৃষকের ঘরে উঠেনি। এছাড়া চট্টগ্রামের স্থানীয় উপজেলাগুলো থেকেও শীতকালীন সবজি আসার হার কমে গেছে।
কাঁচাবাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শীতকালীন সবজি ছাড়া অন্যান্য সবজির দাম নিম্নমুখী। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ১০ টাকা কমে শসা বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা, ঝিঙ্গা ১০ টাকা কমে ৯০ টাকা, চিচিঙ্গা ৫ টাকা কমে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পটল ১০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়, ভারতীয় টমেটো ৫ টাকা কমে ১২০ টাকা, দেশি টমেটো ১০ টাকা কমে ১৬০ টাকা, আলু ২৫ টাকা, নতুন আলু ১৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া কাঁচা ১০ টাকা কমে ৬০ টাকা এবং মিষ্টি কুমড়া পাকা ৫ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। পেঁপে ৫ টাকা কমে ৪০ টাকা, বেগুন ১০ টাকা কমে ৮০ টাকা, বরবটি ১০ টাকা কমে ৬০ টাকা, ঢেড়স ৫ টাকা কমে ৮০ টাকা এবং লাউ ১০ টাকা কমে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কনজ্যুমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি এসএম নাজের হোসেন আজাদীকে বলেন, শীতকালীন সবজি এখনো চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। এটি অস্বাভাবিক। এ সময়ে এত দাম থাকার কথা নয়। তারপরও সবজি বিক্রেতারা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বৃদ্ধি করছেন। আসলে বাজারে ব্যবসায়ীরা যা ইচ্ছা তাই করছেন। এখানে প্রশাসনের কোনো নিয়ন্ত্রণ আছে বলে মনে হয় না।












