চসিকের পূর্ণকালীন প্রশাসক হলেন ডা. শাহাদাত

মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন জারি মেয়রের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন

আজাদী প্রতিবেদন | সোমবার , ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ at ৬:০৫ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে ডা. শাহাদাত হোসেনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। পদ প্রশাসক হলেও তিনি মেয়রের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন। গতকাল রোববার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ সিটি করপোরেশন–১ শাখা থেকে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এর আগে আদালতের রায়ের প্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ৮ অক্টোবর ডা. শাহাদাতকে মেয়র ঘোষণা করে সংশোধিত প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্বাচন কমিশন। একই বছরের ৩ নভেম্বর শপথ গ্রহণ শেষে ৫ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে মেয়রের দায়িত্বগ্রহণ করেন তিনি। মেয়র পদে দায়িত্বপালনকালীন সময়েই তাকে পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হল।

গতকাল জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) (সংশোধন) আইন, ২০২৬’–এর ধারা ৪ অনুযায়ী করপোরেশন গঠিত না হওয়া পর্যন্ত অথবা পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত ডা. শাহাদাত হোসেনকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলো। তিনি মেয়রের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন এবং বিধিমোতাবেক সম্মানী ভাতা পাবেন। জনস্বার্থে জারিকৃত আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়। এদিকে চসিকে বর্তমানে কোনো কাউন্সিলর নেই। ষষ্ঠ পর্ষদের (সর্বশেষ নির্বাচিত পর্ষদ) নির্বাচিত কাউন্সিলরদের ২০২৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর অপসারণ করা হয়। পরবর্তীতে ২৯ সেপ্টেম্বর চসিকের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য ২১ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।

সংশোধিত আইনটিতে কী বলা আছে : চলতি বছরের ১০ এপ্রিল স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন–২০০৯ সংরেশাধন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) (সংশোধন) আইন, ২০২৬’–এর ধারা ৪–এ বলা আছে– ‘এই আইনের অন্যান্য বিধানে কিংবা আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যা কিছুই থাকুক না কেন, সরকার, বিশেষ পরিস্থিতিতে, অত্যাবশ্যক বিবেচনা করলে বা জনস্বার্থে, যে কোনো সিটি কর্পোরেশনে তার কার্যাবলি সম্পাদনের উদ্দেশ্যে, একজন উপযুক্ত ব্যক্তি বা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত উপযুক্ত কর্মকর্তাকে পরবর্তী আদেশ না দেয়া পর্যন্ত প্রশাসক হিসাবে নিয়োগ প্রদান করতে পারবে’। সংশোধিত আইনটির ধারা–৪ এর উপধারা–৩ অনুযায়ী নিযুক্ত প্রশাসক মেয়র–এর ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন’।

যেভাবে মেয়র হয়েছেন :

২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় চসিকের ষষ্ঠ পরিষদের নির্বাচন। এ নির্বাচনে ভোটার ছিলেন ১৯ লাখ ৩৮ হাজার ৭০৬ জন। নির্বাচনে ভোট পড়ে মাত্র ২২ দশমিক ৫২ শতাংশ। নির্বাচনে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ডা. শাহাদাত। তিনি ৫২ হাজার ৪৮৯ ভোট পান। তবে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী মো. রেজাউল করিম চৌধুরীকে ৩ লাখ ৩৯ হাজার ২৪৮ ভোট দেখিয়ে নির্বাচিত ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। একই বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি শপথ নেন এবং ১৫ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বগ্রহণ করেন রেজাউল করিম।

পরবর্তীতে ২০২১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ডা. শাহাদাত ৯ জনকে বিবাদী করে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা করেন। এজাহারে তিনি নির্বাচন পরবর্তী ফলাফল সংক্রান্ত প্রকাশিত গেজেট (রেজাউল করিমকে মেয়র ঘোষণা করে) বেআইনি, অবৈধ ও ন্যায় নীতির পরিপন্থী বলে দাবি করেন। ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর চট্টগ্রামের প্রথম যুগ্ম জেলা জজ ও নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের বিচারক খাইরুল আমিন ডা. শাহাদাতকে মেয়র ঘোষণা করে এ মামলার রায় দেন। রেজাউল করিম চৌধুরীর মেয়র নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করেন। পাশাপাশি ১০ দিনের মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারির জন্য নির্বাচন কমিশন সচিবকে নির্দেশ দেন। এরপর ৮ অক্টোবর ডা. শাহাদাত হোসেনকে মেয়র ঘোষণা করে সংশোধিত প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্বাচন কমিশন। ৩ নভেম্বর শপথ গ্রহণ করেন শাহাদাত।

এদিকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর ১৯ আগস্ট চট্টগ্রামসহ দেশের ১২ সিটি কর্পোরশনের মেয়রদের অপসারণ করে প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হয়। ওইদিন চসিকের প্রশাসক নিয়োগ করা হয় তৎকালীন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারকে। পরবতীতে প্রজ্ঞাপন সংশোধন করে ১৭ অক্টোবর চসিক থেকে প্রশাসক বাদ দেয়া হয়।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ৪ দিনের জাপান সফরে প্রধানমন্ত্রী
পরবর্তী নিবন্ধনভেম্বরের ১ তারিখ থেকে সেন্টমার্টিন যেতে পারবেন পর্যটকরা