বিজয়া দশমী : বিভেদের ঊর্ধ্বে মানবতার বন্ধন

বর্ষা ঘোষ | বুধবার , ২১ অক্টোবর, ২০২৬ at ৯:৪৯ পূর্বাহ্ণ

বিজয়া দশমী কেবল একটি ধর্মীয় উৎসবের পরিসমাপ্তি নয়; এটি সত্য, ন্যায়, সাহস, আত্মশক্তি ও মানবিক মূল্যবোধের চিরন্তন বিজয়ের এক মহিমান্বিত প্রতীক। দেবী দুর্গার মহিষাসুরমর্দিনী রূপ আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়–অন্যায় যতই শক্তিশালী হোক, অশুভের দাপট যতই বিস্তৃত হোক, সত্য ও ন্যায়ের সম্মিলিত শক্তির কাছে তার পরাজয় অনিবার্য। তাই বিজয়া দশমী কেবল দেবীর বিজয়োৎসব নয়, বরং মানুষের অন্তর্নিহিত অশুভ প্রবৃত্তিকে পরাভূত করে বিবেক, শুভবোধ ও মনুষ্যত্বকে জাগ্রত করার এক চিরন্তন প্রেরণা। দেবী দুর্গার বিজয়ের অন্তর্নিহিত শিক্ষা হলো–অসুরের বিনাশ শুধু বাহ্যিক শক্তির প্রয়োগে নয়, বরং আত্মবিশ্বাস, ন্যায়নিষ্ঠা, সংযম ও সম্মিলিত শুভশক্তির জাগরণে সম্ভব। মানুষের হৃদয়ে লুকিয়ে থাকা হিংসা, অহংকার, লোভ, বিদ্বেষ ও অসহিষ্ণুতাই প্রকৃত অশুভ। এই প্রবৃত্তিগুলোকে পরাভূত করতে পারলেই জীবনে সত্যিকারের বিজয়া প্রতিষ্ঠিত হয়। যে বিজয় মানুষের মধ্যে প্রেম, সহমর্মিতা, সমপ্রীতি ও কল্যাণবোধের বিকাশ ঘটায়, সেই বিজয়ই উৎসবের প্রকৃত সার্থকতা।

বিজয়া দশমী আমাদের আরও শেখায়–ধর্মের মহত্ত্ব বিভেদ সৃষ্টিতে নয়, বরং মানবিকতার বন্ধন সুদৃঢ় করতে। ধর্মীয় পরিচয়, মতাদর্শ কিংবা সামাজিক অবস্থানের ঊর্ধ্বে উঠে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সৌহার্দ্যের চর্চাই হোক আমাদের অঙ্গীকার। বিদায়বেলার বিষাদ মুছে যাক সমপ্রীতির আলিঙ্গনে; প্রতিটি হৃদয়ে জাগুক শান্তি, প্রতিটি পরিবারে প্রসারিত হোক আনন্দ, আর সমাজজুড়ে প্রতিষ্ঠিত হোক ন্যায় ও মানবতার অনিন্দ্য সুন্দর বন্ধন।

বিজয়া দশমীর প্রকৃত তাৎপর্য প্রতিমা বিসর্জনে নয়, বরং অন্তরের অন্ধকার বিসর্জন দিয়ে শুভশক্তির আলোয় জীবনকে উদ্ভাসিত করার মধ্যে। আসুন, অশুভের বিরুদ্ধে শুভের, অসত্যের বিরুদ্ধে সত্যের এবং বিদ্বেষের বিরুদ্ধে ভালোবাসার বিজয়কে জীবনের আদর্শ হিসেবে ধারণ করি। মানবিক, অসামপ্রদায়িক, শান্তিময় ও সমৃদ্ধ সমাজ বিনির্মাণে ঐক্যবদ্ধ হই। শুভবোধের জয় হোক, মনুষ্যত্বের জয় হোক, সর্বোপরি জয় হোক চিরন্তন মানবতার। শুভ বিজয়া দশমী।

পূর্ববর্তী নিবন্ধউপজেলা পর্যায়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা
পরবর্তী নিবন্ধদূরের টানে বাহির পানে