নিয়ম পরিবর্তনে ব্যাটিং-বোলিং দুই বিভাগেই ভুগছে বাংলাদেশ

| মঙ্গলবার , ২০ অক্টোবর, ২০২৬ at ৮:৪৫ পূর্বাহ্ণ

আধুনিক ক্রিকেটে বেশিরভাগ নিয়মই করা হয় ব্যাটারদের বাড়তি সুবিধা দেওয়ার জন্য। এটার পেছনের কারণটা অবশ্য ক্রিকেটীয় কম, বাণিজ্যিকই বেশি। কারণ দর্শকরা রান উপভোগ করতে পছন্দ করেন। ফলে একটা ধারণা তৈরি হয়েছে যে, কোনো ম্যাচে যত বেশি রান হবে সেটা তত বেশি দর্শক টানবে। ব্যাটারদের এমন জয়জয়কারেও বোলারদের কিছুটা বাড়তি সুবিধা দিতে গত বছর ওয়ানডের নিয়মে পরিবর্তন আনে আইসিসি। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ওয়ানডে ক্রিকেটে বল ব্যবহারেরর শর্তে একটি পরিবর্তন আনা হয়। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, দুই প্রান্ত থেকে দুটি বল ৩৪ ওভার পর্যন্ত ব্যবহার করা হবে এবং এরপর ফিল্ডিং দলের অধিনায়ক বেছে নেবেন কোন বলটি দিয়ে ইনিংসের বাকি ১৬ ওভার করবেন। স্বাভাবিক ভাবেই তুলনামূলক সবচেয়ে পুরোনো হওয়া বলটিই তখন বেছে নেওয়া হয়। ফিল্ডিং করা দল বলের একপাশ নিয়মিত ঘষে চকচকে রাখে, আর অন্যপাশটি স্বাভাবিকভাবে খসখসে হতে দেয়। ফলে বলের দুই পাশের বায়ুপ্রবাহে বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়। বল ডেলিভারির পর উচ্চগতির কারণে খসখসে পাশের বায়ুপ্রবাহে প্রচণ্ড টার্বুলেন্স তৈরি হয়। এতে চকচকে পাশের দিকে বায়ুর চাপ কমে যায় এবং বলটি স্বাভাবিকের বিপরীত দিকে সুইং করে। অনেক ক্ষেত্রেই ইনিংসের শুরুতে নতুন বলে যতটা সুইং হয়, পুরোনো বলে তার চেয়েও বেশি রিভার্স সুইং আদায় করতে দেখা গেছে। তবে সেটা বোলারের দক্ষতার ওপরও নির্ভর করে। ইনিংসের শেষের দিকের এই রিভার্স সুইং বেশ ভুগায় ব্যাটারদের। তবে অনেক ব্যাটারই পায়ের ব্যবহার করে রিভার্স সুইংয়ের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে শট খেলতে পারেন। আইসিসির এই নিয়ম পরিবর্তনের পর বাংলাদেশের অবস্থা যেন জলে কুমির, ডাঙায় বাঘ! একে তো বোলাররা রিভার্স সুইংয়ের বাড়তি সুবিধা কাজে লাগাতে পারছেন না, আবার ব্যাটাররাও এই সুইং সামলাতে পারছেন না। সবমিলিয়ে এই নিয়মের বড় প্রভাব পড়েছে টাইগারদের পারফরম্যান্স গ্রাফে। নতুন নিয়ম চালুর পর ডেথ ওভারে মোস্তাফিজুর রহমানের বোলিংয়ে সুইং বেড়েছে ৪৯.৫ শতাংশ। কিন্তু বাড়তি সুইং তাকে সাফল্য এনে দিতে পারেনি। ডেথ ওভারে মোস্তাফিজের বোলিং গড় কমেনি, বরং বেড়েছে। একই সঙ্গে তার ইকোনমি রেটও বেড়েছে ০.৯। অর্থাৎ বেশি সুইং পেলেও উইকেট পেতে আগের চেয়ে বেশি রান খরচ করছেন। ওভারপ্রতি রানও বেশি দিচ্ছেন এই পেসার। পরিসংখ্যান বলছে, মোস্তাফিজের পথেই হাঁটছেন তাসকিনও। তার বলের সুইং বেড়েছে ৪০.৮ শতাংশ। অথচ বোলিং গড় বেড়েছে ১.৯, ইকোনমি রেট ১.৬। অথচ অন্যান্য দেশের পেসারদের ক্ষেত্রে পুরোপুরি ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। আলজারি জোসেফের সুইং বেড়েছে ৮৩.৬ শতাংশ। তার বোলিং গড় কমেছে ৬.৭। দক্ষিণ আফ্রিকার লুঙ্গি এনগিডির সুইং বেড়েছে ৬৩.৩ শতাংশ। তার বোলিং গড় কমেছে ১০.৬, ইকোনমি কমেছে ৩.৩। বোলিংয়ের মতোই বাংলাদেশের বাজে অবস্থা ব্যাটিংয়েও। নিয়ম পরিবর্তনের পর স্লগ ওভারে বাংলাদেশের রান তোলার গতি কমেছে। এই নিয়ম চালুর আগে ডেথ ওভারে বাংলাদেশের রানরেট ছিল ৭.৮৪। নিয়ম পরিবর্তনের পর সেই রানরেট নেমে এসেছে ৬.৫৬–তে। ওভারপ্রতি রান কমেছে ১.২৮।

পূর্ববর্তী নিবন্ধদুই ফরম্যাটে দুই অধিনায়ক অসুবিধা দেখছে না বিসিবি
পরবর্তী নিবন্ধআফগানিস্তান ম্যাচে ফিরবেন মিরাজ, আশাবাদী সিমন্স