বাংলাদেশ জাতীয় নারী হ্যান্ডবল দলের নতুন হেড কোচ হিসেবে যোগ দিয়েছেন স্পেনের কোচ আনা আলোনসো ফ্রাগুয়া। দেশের বাইরে সম্পূর্ণ অচেনা এক পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া যেকোনো কোচের জন্যই এক বিরাট চ্যালেঞ্জ। তবে আনা আলোনসো শুধু পেশাদারিত্ব দিয়েই নয়, বরং তাঁর চমৎকার ব্যক্তিত্ব এবং খেলোয়াড়দের সঙ্গে বন্ধুসুলভ আচরণ দিয়ে খুব কম সময়েই জিতে নিয়েছেন সবার মন। নতুন দেশে এসে সংস্কৃতি আর পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার যাত্রার শুরুটা সহজ ছিল না। কোচ আনা আলোনসো জানান, শুরুতে ভাষার সমস্যার কারণে খেলোয়াড়দের কাছাকাছি যাওয়া কিছুটা কঠিন ছিল। তবে প্রতিদিনের কঠোর অনুশীলনের পাশাপাশি ডাগআউটের বাইরেও তৈরি হয়েছে এক সুন্দর বন্ধন। খেলোয়াড়দের সঙ্গে নিজের মধুর সম্পর্কের কথা বলতে গিয়ে কোচ হাসিমুখে বলেন, ‘আমরা সত্যিই কঠোর পরিশ্রম করছি, তবে এর মাঝে একটু হাসাহাসি করার মতো কিছু মুহূর্তও থাকে। আমি কীভাবে তাদের নাম উচ্চারণ করি বা কীভাবে আমি একাই রিকশায় উঠি, এসব নিয়ে তারা সবসময়ই কথা বলে। আমরা সবসময় এই ধরনের গল্পই করি।’ বাংলাদেশের চিরচেনা যানবাহন রিকশায় বিদেশিনী কোচের একা একা চড়ার দৃশ্যটি যে হ্যান্ডবল ক্যাম্পের মেয়েদের বেশ বিনোদন জোগায়, তা তাঁর কথাতেই স্পষ্ট। আর এই খুনসুটিই প্রমাণ করে, কোচ ও খেলোয়াড়দের মধ্যকার দূরত্ব এখন আর নেই বললেই চলে; তারা এখন একই সুতোয় গাঁথা এক পরিবার।
তবে মাঠের অনুশীলনেও মেয়েরা শতভাগ নিবেদিত। আজ থেকে ঢাকায় শুরু হচ্ছে বেগম খালেদা জিয়া আইএইচএফ নেশন্স ট্রফি। আন্তর্জাতিক এই আসরটিকে সামনে রেখে পল্টনের ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী স্টেডিয়ামে চলছে দলের কঠোর অনুশীলন। তিনি বলেন, ‘গত কয়েক সপ্তাহে আমরা অনেক অনুশীলন করেছি। আমার কাছে সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয়টি হলো তাদের শেখার আগ্রহ। তারা সর্বদা মনোযোগ দিয়ে শোনে, পরবর্তী অনুশীলন বা হ্যান্ডবল সম্পর্কে নতুন কিছু শেখার জন্য সবসময় প্রস্তুত থাকে।’ এই অদম্য স্পৃহা দেখেই কোচ বিশ্বাস করেন, এই দলটি সামনে দেশের জন্য দারুণ কিছু বয়ে আনবে। টুর্নামেন্টের স্বাগতিক দেশ বাংলাদেশ। এছাড়াও আসছে ভারত, নেপাল এবং মালদ্বীপ। আফগানিস্তানের আসার কথা থাকলেও খেলোয়াড় জটিলতার কারণে শেষ মুহূর্তে তারা আসতে পারেনি। যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনও পারেনি নিজেদের গুছিয়ে বাংলাদেশের প্লেন ধরতে। এখন এই টুর্নামেন্টে হট ফেভারিট স্বাগতিক মেয়েদের সঙ্গে ভারতও।











