ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য হাইস্কুল প্রতিষ্ঠা

ফটিকছড়ির পশ্চিম আন্দারমানিক এলাকা স্কুলের জন্য সপরিবারে জমি লিখে দিলেন তরুণ ব্যাংকার

ফটিকছড়ি প্রতিনিধি | বৃহস্পতিবার , ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ at ১০:১৭ পূর্বাহ্ণ

শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত ছিলো চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নের পশ্চিম আন্দারমানিক এলাকা। ভৌগোলিক দুর্গমতা আর কোনো উচ্চ বিদ্যালয় না থাকায় বছরের পর বছর ধরে প্রাথমিক গণ্ডি পার হতেই শত শত শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন এখানে থমকে যেত। ঝরে পড়া এই শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশই দেশের পিছিয়ে পড়া আদিবাসী গোষ্ঠীর। কিন্তু আঁধারে ঘেরা এই জনপদে শিক্ষার আলো ছড়াতে এক অনন্য ও অনুকরণীয় উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে এসেছেন তরুণ ব্যাংকার মোহাম্মদ ইব্রাহিম। নিজের জমানো অর্থ ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহযোগিতায় ২০২৩ সালে মাত্র ৬ষ্ঠ শ্রেণি দিয়ে যে স্বপ্নের সূচনা করেছিলেন, আজ তা ৮ম শ্রেণিতে উন্নীত হয়েছে। এবার সেই স্বপ্নের বিদ্যাপীঠকে স্থায়ী রূপ দিতে নিজের ২০ শতক মূল্যবান জায়গা স্কুলের নামে লিখে দিলেন তিনি।

গতকাল বুধবার ব্যাংকার মোহাম্মদ ইব্রাহিম, তার সহধর্মিণী জেসমিন আক্তার এবং একমাত্র পুত্র মোহাম্মদ ইফতেখার আনুষ্ঠানিকভাবে ২০ শতক জায়গার দলিল রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করে স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে বুঝিয়ে দেন। এই জমি দানের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের উচ্চশিক্ষার পথ আরও সুগম ও স্থায়ী হলো।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিম আন্দারমানিক এবং আশেপাশের এলাকায় ৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকলেও কোনো উচ্চ বিদ্যালয় ছিল না। ফলে প্রাথমিকের পর মাইলের পর মাইল দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে অন্য এলাকায় গিয়ে পড়াশোনা করা দরিদ্র ও আদিবাসী শিক্ষার্থীদের জন্য ছিল প্রায় অসম্ভব। ফলে প্রতি বছরই ঝরে পড়ত অসংখ্য শিক্ষার্থী। এই করুণ চিত্র দেখে স্থির থাকতে পারেননি ব্যাংকার মোহাম্মদ ইব্রাহিম। ২০২৩ সালে তিনি সম্পূর্ণ নিজস্ব উদ্যোগে এবং কিছু হৃদয়বান মানুষের সহায়তায় ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী নিয়ে পাঠদান শুরু করেন। পর্যায়ক্রমে ধাপে ধাপে এটি এখন ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত উন্নীত হয়েছে। বর্তমানে এই অঞ্চলের শত শত শিক্ষার্থী ঘরে বসেই মাধ্যমিক শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে।

জমি হস্তান্তরের পর এক আবেগঘন অনুভূতিতে মোহাম্মদ ইব্রাহিম জানান, আমি চাই না এই দুর্গম এলাকার কোনো শিশু শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হোক, বিশেষ করে আমাদের আদিবাসী ভাই–বোনেরা যেন অবহেলার শিকার না হয়। আমরা শুধু মাধ্যমিক স্কুলেই থেমে থাকতে চাই না। আমার স্বপ্ন–অজপাড়াগাঁয়ের এই স্কুলটিকে একদিন একটি পূর্ণাঙ্গ কলেজে রূপান্তরিত করা, যাতে এই এলাকার সন্তানরা একদিন দেশের উচ্চপর্যায়ে নেতৃত্ব দিতে পারে। এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে তিনি সমাজের বিত্তবান ও শিক্ষা–অনুরাগী মানুষদের এগিয়ে আসার উদাত্ত আহ্বান জানান।

পূর্ববর্তী নিবন্ধব্রেস্ট ক্যান্সার নিয়ে সচেতনতা সেমিনার
পরবর্তী নিবন্ধবৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ছেলেমেয়ের শিক্ষায় আরও গুরুত্ব দিতে হবে : রাষ্ট্রপতি