দেশের ভোগ্যপণ্যের বৃহৎ পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে এলাচ নিয়ে চলছে লাগামহীন স্লিপ বাণিজ্য। সাদা কাগজে এলাচের নাম ও দাম লিখে এই বাণিজ্যের ফলে গত তিন সপ্তাহে পণ্যটির দাম কেজিতে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বাইরে এক কেজি এলাচও ডেলিভারি না করে কেবল নিজেদের মধ্যে ট্রেডিং বা হাতবদল করে গরম মসলার বাজার অস্বাভাবিক করে তুলছেন এক শ্রেণীর ব্যবসায়ীরা। যাদের বেশির ভাগই খাতুনগঞ্জে তেল–চিনি ও গমের স্লিপ বেচাকেনায় জড়িত।
খাতুনগঞ্জের মসলা ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে বলা যায়, ব্যবসায়ীদের এক কেজি পণ্যও বাইরে বেচাকেনা হয়নি। কিছু ভ্রাম্যমাণ মৌসুমী ব্যবসায়ী ও এক শ্রেণীর অসাধু মসলা ব্যবসায়ী ডিও (ডেলিভারি স্লিপ) বেচাকেনার মাধ্যমে ইচ্ছেমতো বাজার ওঠানামা করাচ্ছেন। এতে প্রকৃত মসলা ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। জানা গেছে, গত তিন সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি এলাচ বিক্রি হয়েছে ৩ হাজার ৫৮০ টাকায়। তিন সপ্তাহের ব্যবধানে বর্তমানে সেই এলাচ বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৩৪৫ টাকায়। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে প্রায় সব ধরনের মসলা আমদানি করতে হয়। এলাচ আসে গুয়াতেমালা থেকে। বাকি সব পণ্য ভারত থেকে আসে। তবে এটা ঠিক, বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে গরম মসলার বুকিং না বাড়লেও খাতুনগঞ্জে হাওয়ার ওপর বাড়ছে গরম মসলা বাজার।
খাতুনগঞ্জের একাধিক মসলা ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, খাতুনগঞ্জের এক শ্রেণীর ডিও বা স্লিপ ব্যবসায়ী বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পণ্য নিয়ে এক প্রকার জুয়া খেলেন। তারা নিজেদের মধ্যে ট্রেডিং করে ইচ্ছেমতো পণ্যের দাম ওঠানামা করান। দেখা যাচ্ছে, বাজারে যে পরিমাণ এলাচ মজুদ রয়েছে তার চেয়ে বেশি স্লিপ বিক্রি হচ্ছে। দিনে যে পরিমাণ এলাচ কেনাবেচা হয়, এর মধ্যে এক কেজিও বাইরে ডেলিভারি হয় না। এসব পণ্য কেবল গুদাম পরিবর্তন হয়। খাতুনগঞ্জের মসলা আমদানিকারকরা বলছেন, এলাচের বাজার স্লিপ ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্যের কারণে লাগামহীন হয়ে পড়েছে। এখানে যে বাজারের চাহিদা আছে তা নয়। এদের বেশির ভাগই আবার প্রকৃত ব্যবসায়ী নন। খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমান মিন্টু আজাদীকে বলেন, খাতুনগঞ্জের ট্রেডিং ব্যবসা দীর্ঘদিনের প্রথা। তবে এখন এলাচ নিয়ে যারা ট্রেডিং করছে, তারা কেউ খাতুনগঞ্জের প্রকৃত ব্যবসায়ী নয়। এদের মধ্যে ৯৯ শতাংশই ভ্রামম্যাণ ব্যবসায়ী।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন আজাদীকে বলেন, ভোগ্যপণ্যের বাজার ব্যবসায়ীদের মর্জির ওপর নির্ভরশীল। ওরা প্রয়োজন মতো দাম ওঠানামা করান। গরম মসলা স্লো আইটেম। এটি প্রতিদিনের রান্নায় বেশি ব্যবহৃত হয় না। তারপরও থেমে নেই ব্যবসায়ীদের কারসাজি। প্রশাসনকে অনুরোধ করব বাজার নিয়ন্ত্রণে তারা যেন নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে।












