পিস্তল-গুলিসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৪

জঙ্গল সলিমপুরে পুলিশের বিশেষ অভিযান

আজাদী প্রতিবেদন | শনিবার , ১০ অক্টোবর, ২০২৬ at ১০:৪৬ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযানে জঙ্গল সলিমপুরের আলিনগর বাহাদুর ঘোনা এলাকা থেকে শর্টগান, চাইনিজ পিস্তল, গুলি ও চাঁদা সংগ্রহের তালিকাসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করেছে সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের দিক–নির্দেশনায় এবং সীতাকুণ্ড থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয়। গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে জঙ্গল সলিমপুরের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা আলিনগরের বাহাদুর ঘোনা থেকে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার এবং অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এসময় যৌথ বাহিনীর সদস্যরা সহযোগিতা করেন। গতকাল শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১ টায় সীতাকুণ্ড মডেল থানায় সাংবাদিকদের সাথে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানিয়েছে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) জুনায়েদ কাউসার।

প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, জঙ্গল সলিমপুরের বিস্তৃত পাহাড়ি এলাকা, ঘন জঙ্গল ও দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থার কারণে সেখানে অভিযান পরিচালনা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য চ্যালেঞ্জিং। প্রতিকূল ভূপ্রকৃতি অতিক্রম করে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে লক্ষ্যস্থল শনাক্ত করে সতর্কতা ও কৌশলের সঙ্গে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের একপর্যায়ে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত মো. রাসেলের (৩০) নামে পূর্বে ৩টি অস্ত্র মামলা রয়েছে, মো. মোরশেদের (৩৩) নামে পূর্বে ২টি ডাকাতি ও ১টি অস্ত্র মামলা রয়েছে, মো. বাবু (৩২) ও মো. সাব্বির (৩২)। তারা চট্টগ্রাম ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা এবং বর্তমানে জঙ্গল সলিমপুরের ছিন্নমূল এলাকায় বসবাস করছিলেন। অভিযানে ১টি শর্টগান, ১টি চাইনিজ পিস্তল, ৯টি সীসা বুলেট, ৬টি কার্তুজ বুলেট, ১টি টেডা, ৪টি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, ১টি পাওয়ার ব্যাংক ও চাঁদা সংগ্রহের তালিকা সংবলিত ১টি খাতা উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় বিভিন্ন ধরনের চাঁদাবাজিসহ অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। জঙ্গল সলিমপুরের দুর্গম পাহাড়ি এলাকাকে কেন্দ্র করে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার, চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও পুলিশ জানিয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে সব সম্প্রদায়ের মানুষের অবদান রয়েছে
পরবর্তী নিবন্ধসবাই মিলে বাংলাদেশ গড়তে চাই