তিন বছর ধরে অচল দমদমিয়া জেটিঘাট

সেন্টমার্টিনের রুট পরিবর্তন

কক্সবাজার প্রতিনিধি | শনিবার , ১০ অক্টোবর, ২০২৬ at ১০:১৮ পূর্বাহ্ণ

দীর্ঘকাল ধরে সেন্টমার্টিনের পর্যটক যাত্রার প্রধান ঘাট ছিল টেকনাফের দমদমিয়া জেটিঘাট। আরো ঘাট থাকলেও নিরাপদ ও আরামদায়ক হওয়ায় এই ঘাট থেকে পর্যটন বহন করতো সেন্টমার্টিনগামী জাহাজগুলো। আবার ফেরার সময় এই ঘাটে ভিড়তো। পাশাপাশি সেন্টমার্টিনের মালামাল পরিবহনেরও নৌযানগুলো এই ঘাট বেশি ব্যবহার করতো। কিন্তু সেই জৌলুস হারিয়েছে এক সময়ের জমজমাট এই জেটিঘাট। মিয়ানমার সীমান্তে সে দেশের জান্তা ও বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির লাগাতার সংঘর্ষের কারণে দমদমিয়া জেটিঘাট অনিরাপদ হয়ে যায়। একই সাথে নদীর নাব্যতা লোপ পাওয়াও অন্য কারণ। এতে গত তিন বছর ধরে অচল হয়ে পড়ে এই জেটিঘাট। অনেকটা জনশূন্য হয়ে পড়েছে এলাকাটি। এই ঘাট ঘিরে গড়ে উঠা বহু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২৩ সাল থেকে দমদমিয়া জেটিঘাট থেকে সেন্টমার্টিনে সব ধরনের পযর্টকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বন্ধের কারণ হিসেবে নাফ নদীর বিভিন্ন স্থানে পানির গভীরতা কমে যাওয়া এবং মিয়ানমার অভ্যন্তরীর সংঘাতের জেরে দেশটির সীমান্ত থেকে বাংলাদেশি ট্রলারে গুলি এসে পড়াকে উল্লেখ করা হয়।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, টেকনাফের দমদমিয়া জেটিঘাট সংলগ্ন এলাকা পর্যটন মৌসুমে পযর্টকদের পদচারণায় ভরপুর থাকত। পাশাপাশি স্থানীয় দোকানদাররা ব্যবসা–বাণিজ্য করে আর্থিকভাবে সচ্ছল থাকতে পারতেন। তবে যেদিন থেকে দমদমিয়া জেটিঘাট থেকে সেন্টমার্টিন যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়, সেদিন থেকে ওই জেটিঘাট এলাকায় থাকা সব দোকানপাট বন্ধ করতে বাধ্য হন ব্যবসায়ীরা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এই দমদমিয়া জেটিঘাট দিয়ে জাহাজে করে পর্যটকরা দেড় থেকে দুই ঘণ্টায় সেন্টমার্টিন পৌঁছে যেতে পারতেন। যাত্রাপথে নাফ নদী, পাহাড় ও মিয়ানমার সীমান্তের দৃশ্য উপভোগ করতেন তারা। যেসব পর্যটক দিনের বেলায় ঘুরে আসতে চাইতেন, তাদের জন্য এ নৌপথটি ছিল সময়সাশ্রয়ী ও আরামদায়ক। কিন্তু এখন সেই সুযোগ নেই। অন্যদিকে দমদমিয়ার ঘাট বন্ধের পর পর্যটন মৌসুমে উখিয়ার ইনানী নৌবাহিনীর জেটিঘাট ও পরে কক্সবাজার নুনিয়াছড়া থেকে জাহাজে করে সেন্টমার্টিনে যায় পর্যটকরা। দমদমিয়া জেটিঘাটের বাসিন্দা আব্দুল করিম বলেন, জেটিঘাট থেকে সেন্টমার্টিনে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় এই এলাকার স্থানীয় অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তাদের দোকানপাট বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন। কারণ পর্যটক না এলে এখানে ব্যবসা হয় না। পর্যটন মৌসুমে পর্যটকরা সেন্টমার্টিন যাওয়ার জন্য দমদমিয়া জেটিঘাটে এলে তখন সকাল–বিকাল পুরো এলাকাটি জমজমাট থাকত। এখন বলতে গেলে এলাকাটি জনশূন্য।

স্থানীয় আরেক দোকানি আবদুল কাদের বলেন, আমরা দীর্ঘদিন এই ঘাট এলাকায় দোকান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলাম। কিন্তু ঘাটটি বন্ধ হওয়ায় আমার দোকান অচল হয়ে গেছে। তাই বন্ধ করে দিতে বাধ্য হই। বর্তমানে বেকার সময় কাটাচ্ছি। স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কথা বিবেচনা করে আবারও দমদমিয়া জেটিঘাট চালু করা দরকার।

সেন্টমার্টিনের ব্যবসায়ী নুর আহমেদ বলেন, কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা জাহাজে সেন্টমার্টিন পৌঁছাতে ৭–৮ ঘণ্টা সময় লাগে। সেক্ষেত্রে যাত্রীদেরকে দীর্ঘসময় জাহাজে অবস্থান করতে হয়। পাশাপাশি যারা দিনে এসে দিনে ফিরে যেতে চান, তারা যথেষ্ট সময় নিয়ে সেন্টমার্টিন ঘোরাঘুরি করতে পারেন না। কারণ নির্ধারিত সময় তাদের আবারও কক্সবাজারের উদ্দেশে রওয়ানা হতে হয়।

হোয়াইক্যং এলাকা নৌযান মালিক শহীদুল্লাহ বলেন, এই ঘাটে নৌযান ভিড়তো সবচেয়ে বেশি। সহজে, নিরাপদে ও কম ভাড়ায় যাত্রী ও মালামাল পরিবহন করা যেতো। কিন্তু ঘাটটি অচল হয়ে গেছে। দমদমিয়া জেটিঘাট থেকে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালু করা হলে টেকনাফ, দমদমিয়া ও সেন্টমার্টিনের পর্যটননির্ভর ব্যবসায়ীসহ স্থানীয়রা আর্থিকভাবে উপকৃত ও সচ্ছল হতে পারবেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, দমদমিয়া জেটিঘাট থেকে সেন্টমার্টিনে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ইস্যু জড়িত। এ বিষয়ে আমার সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার নেই। দমদমিয়া থেকে সেন্টমার্টিন যাত্রার কোনো পরিকল্পনার কথা এখনো শুনিনি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধদুই মাস আগে বিয়ে, প্রবাসে ফেরার আগেই সড়কে মৃত্যু
পরবর্তী নিবন্ধঅভিযুক্ত যুবক রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গ্রেপ্তার