ছয় পদের বিপরীতে কর্মরত দুই শিক্ষক, পাঠদান ব্যাহত

লোহাগাড়া পহরচাঁদা প্রাইমারি স্কুল

লোহাগাড়া প্রতিনিধি | বৃহস্পতিবার , ১ অক্টোবর, ২০২৬ at ৫:৪০ পূর্বাহ্ণ

লোহাগাড়ার পুটিবিলায় শিক্ষক সংকটের কারণে পহরচাঁদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যালয়টিতে ৬টি শিক্ষক পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ২ জন শিক্ষক। এতে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম। শিক্ষক সংকটের কারণে একসাথে একাধিক শ্রেণির পাঠদান পরিচালনা করতে হচ্ছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষক সংকটের কারণে প্রতিদিনই বিভিন্ন শ্রেণির পাঠদান কার্যক্রম সমন্বয় করে চালাতে হচ্ছে। বিশেষ করে কোনো শিক্ষক ছুটিতে থাকলে পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে পড়ে। তখন বাধ্য হয়ে দুটি শ্রেণির শিক্ষার্থীদের এক কক্ষে বসিয়ে একই সময়ে পাঠদান করানো হয়। এতে শিক্ষার্থীদের প্রতি প্রয়োজনীয় মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হয় না। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকটের বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকি ২০২০, ২০২২ ও ২০২৩ সালে দেশব্যাপী নতুন সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হলেও পহরচাঁদা সরকারি বিদ্যালয়ের শূন্য পদগুলো পূরণ হয়নি।

সম্প্রতি পহরচাঁদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সরেজমিনে দেখা যায়, প্রত্যন্ত অঞ্চল হলেও বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি সন্তোষজনক। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আয়াজ মাহমুদ বাবর ছুটিতে থাকায় সহকারী শিক্ষক মুহাম্মদ আবছার উদ্দীন একই কক্ষে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাচ্ছেন। অন্য একটি কক্ষে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাচ্ছেন স্থানীয়ভাবে নিয়োগ দেওয়া একজন নারী শিক্ষক। একাধিক অভিভাবক অভিযোগ করে জানান, একজন শিক্ষককে একসাথে একাধিক শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পড়াতে হলে প্রতিটি শিশুর প্রতি প্রয়োজনীয় মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হয় না। এতে শিক্ষার্থীরা পাঠ বুঝতে সমস্যায় পড়ছে। তারা ধীরে ধীরে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে। শিক্ষক সংকটের কারণে বিদ্যালয়ে দিন দিন শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন শিক্ষক সংকট চলতে থাকলে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম আরও ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দ্রুত বিদ্যালয়টির শুন্য পদে শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন।

সহকারী শিক্ষক মুহাম্মদ আবছার উদ্দীন জানান, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় যাতে আরও বেশি ব্যাঘাত না ঘটে সেজন্য বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে নিজেদের অর্থায়নে স্থানীয়ভাবে একজন শিক্ষক রাখা হয়েছে। তবে মাত্র দুজন সরকারি শিক্ষক দিয়ে বিদ্যালয়ের পুরো পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে নিতে গিয়ে প্রতিদিনই তাদের প্রচন্ড চাপের মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে। ফলে চাইলেও শিক্ষার্থীদের মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

লোহাগাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আবু জাফর জানান, শিক্ষক সংকটে থাকা প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোর অগ্রাধিকারভিত্তিক তালিকা চেয়েছে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে সে অনুযায়ী তালিকা পাঠানো হয়েছে। আশা করছি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পহরচাঁদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শূন্য পদে শিক্ষক পদায়নের ব্যবস্থা করবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধপ্রধানমন্ত্রীর নিউ ইয়র্ক সফর বিশ্বে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করেছে : মাহদী আমিন
পরবর্তী নিবন্ধমগনামায় ১৫৯ কোটি টাকায় নতুন জেটিঘাট নির্মাণের উদ্যোগ