জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের অষ্টম বৃহত্তম দেশ বাংলাদেশ। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী জনসংখ্যায় ঢাকা বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় জনবহুল শহর। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী বন্দর নগরী চট্টগ্রাম জেলার মোট জনসংখ্যা ৯১ লক্ষ ৬৯ হাজার ৪৬৫ জন। প্রায় ৫৩ শতাংশ মানুষ শহরে বাস করে। জনসংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ভিন্নতা রয়েছে। ঢাকা–চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন শহরে নগরবাসীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। যানজট এখন নগরবাসীর নিত্যসঙ্গী। ট্রাফিক সিগন্যাল বাতি প্রায় অচল। সিগন্যাল কেউ মেনে চলে না।
রাস্তায় যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে ট্রাফিক সিগনালের সাহায্য নেওয়া হয়। বিশ্বের প্রায় সব দেশে এটাই নিয়ম। ট্রাফিক সিগন্যালের সঠিক সংকেতের ফলে যানজটের সমস্যা এড়ানো যায়। আবার কোনও কারণে ট্রাফিক লাইট নষ্ট হয়ে গেলে যানজট বা দুর্ঘটনার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
বিশ্বে এমন একটি দেশ আছে যেখানে কোথাও কোনো ট্রাফিক সিগনাল নেই। শুনলে অনেকে আঁতকে উঠবেন। কিন্তু ব্যাপারটি সত্য। দক্ষিণ এশিয়ার দেশটি হলো ভুটান। দেশটির ট্রাফিক নিয়ম যেমন কঠোর, তেমনই সচেতন নাগরিকরা। রাস্তায় কোনো ট্রাফিক সিগন্যাল নেই। মজার ব্যাপার হল সিগন্যালের অভাবেও এখানে কোনো ট্রাফিক জ্যামও হয় না। ট্রাফিক পুলিশরাই গাড়ি রাস্তার সিগন্যাল নিয়ন্ত্রণ করেন। তাই ট্রাফিক পুলিশের নির্দেশ বা জেবরা ক্রসিং এলে গাড়ি নিজেই থামিয়ে দেন গাড়ির চালক। ভুটানের কোনো রাস্তায় একটিও সিগনাল বসানো হয়নি। এর পেছনে অবশ্য বেশ কয়েকটি কারণ আছে। পরিবেশ সুরক্ষার কারণে এখানে যানবাহনের সংখ্যা সীমিত রাখা হয়েছে। ভুটানে রাস্তার নেটওয়ার্ক এমনভাবে প্রসারণ করা হয়েছে যে যাত্রী বা গাড়ির চালককে কোনো মোড়ে থামতে হবে না।
ভুটানে মানুষ এবং পশুপাখির মধ্যে রয়েছে অগাধ ভালোবাসা। গরু, মহিষ, ছাগলের পাল ভুটানের রাস্তায় অবাধে বিচরণ করে। আর এই কারণেও যানবাহনের গতি কম রাখতে হয়। প্রতিটি মোড়ে এবং প্রধান সড়কে ট্রাফিক পুলিশ থাকে। তারাই ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করে। জেবরা ক্রসিং দিয়ে নিশ্চিন্তে রাস্তা পারাপার করেন পথচারী। গাড়ি ওভারটেকের বালাই নেই। চলন্ত গাড়িকে হাত দেখিয়ে রাস্তা পারাপারের বদ অভ্যাসও নেই ভুটানবাসীর। এখানে এতটাই নিয়মানুবর্তিতা মেনে চলা হয় যে সেখানে কাউকে কখনও ট্রাফিক জ্যামের মুখে পড়তে হয় না। এরকম দেশে বসবাস করার আনন্দই আলাদা।
ভুটান দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ায় হিমালয়ের কোলে অবস্থিত একটি সুন্দর দেশ। রাষ্ট্রপুঞ্জের সমীক্ষা অনুযায়ী ভুটান বিশ্বের সবচেয়ে সুখি দেশ। দূষণ হোক মহামারি ভুটান কাউকেই তার কাছে ঘেঁষতে দেয় না। ভুটানে শিল্প ও যানবাহনের সংখ্যা খুবই কম, যে কারণে কার্বন নির্গমণের পরিমাণও এখানে খুব কম। ভুটানে যত কার্বন ডাই অক্সাইড উৎপন্ন হয় তার চেয়ে বেশি অক্সিজেন এখানে নির্গত হয়। এককেন্দ্রিক সংসদীয় সাংবিধানিক রাজতন্ত্রের মাধ্যমে বর্তমান ভুটান পরিচালিত হচ্ছে।








