‘মানুষের বাসযোগ্য সমাজ বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখতেন ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক’

৬৪তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা ভালোবাসায় স্মরণ, মিলাদ মাহফিল

আজাদী প্রতিবেদন | শনিবার , ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ৫:৪৪ পূর্বাহ্ণ

বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করা হলো স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সংবাদপত্র হিসেবে স্বীকৃত দৈনিক আজাদীর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক, এতদঞ্চলের প্রথম মুসলিম ইঞ্জিনিয়ার মরহুম আলহাজ্ব আবদুল খালেক ইঞ্জিনিয়ারকে। দীর্ঘ প্রায় ৬৭ বছর ধরে চট্টগ্রামের মুখপত্র হিসেবে আজাদী যে ভূমিকা রাখছে, তার সূচনা করেছিলেন এই কৃতী পুরুষ। তাঁর ৬৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল বাদ আছর দৈনিক আজাদী মিলনায়তনে মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশেষ মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। মিলাদ মাহফিল পরিচালনা করেন মধ্যম হালিশহর তৈয়বিয়া ইসলামিয়া সুন্নিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার অধ্যক্ষ, আলা–হযরত ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও কদম মোবারক শাহী জামে মসজিদের খতিব আলহাজ্ব মাওলানা মোহাম্মদ বদিউল আলম রিজভী। মাহফিলে বিভিন্ন স্তরের বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নেন। মিলাদ মাহফিল শেষে বিশেষ মোনাজাতে মরহুম আবদুল খালেক ইঞ্জিনিয়ার, সাবেক সম্পাদক অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদসহ দৈনিক আজাদীর প্রয়াত কর্মকর্তা–কর্মচারীদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করা হয়। একই সঙ্গে দেশ ও জাতির সুখ–সমৃদ্ধি কামনা করা হয়। মোনাজাতে দেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখার জন্যও মহান রবের রহমত কামনা করা হয়।

ইঞ্জিনিয়ার আলহাজ্ব আবদুল খালেক সম্পর্কে বলতে গিয়ে সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বহু গুণের অধিকারী আলহাজ্ব আবদুল খালেক ইঞ্জিনিয়ার সমাজটাকে সুন্দর করার জন্য, রাষ্ট্রকে ভালো করার জন্য দৈনিক আজাদী প্রকাশ করেছিলেন। দৈনিক আজাদী বিগত সময়ের মতো সামনের দিনগুলোতে রাষ্ট্রকে সুন্দর রাখতে কাজ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক একটি শোষণমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত, মানুষের বাসযোগ্য সমাজ বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখতেন। দৈনিক আজাদী তাঁর সেই স্বপ্ন পূরণের হাতিয়ার ছিল। দৈনিক আজাদী সামনের দিনগুলোতেও ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেকের স্বপ্ন পূরণে কাজ করবে বলে সিটি মেয়র আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, আলহাজ্ব আবদুল খালেক এ অঞ্চলের প্রথম মুসলিম ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন, এটা অনেক গৌরবের। তৎকালীন সমাজ ব্যবস্থায় এই অর্জন অবশ্যই অনন্য ছিল। শুধু ইঞ্জিনিয়ার হিসেবেই নয়, দৈনিক আজাদীর মতো একটি পত্রিকা প্রকাশ করে তিনি চট্টগ্রামের মাটি ও মানুষকে ঋণী করে গেছেন বলেও মন্তব্য করেন।

মিলাদ মাহফিল পূর্ব আলোচনায় আলহাজ্ব মাওলানা মোহাম্মদ বদিউল আলম রিজভী মরহুম আবদুল খালেক ইঞ্জিনিয়ারকে বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্ব এবং চট্টগ্রামের মানুষের নবজাগরণের অগ্রদূত হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, তিনি শুধু একটি সংবাদপত্র প্রতিষ্ঠাই করেননি, বরং অঞ্চলকে এগিয়ে নিতে, আলোকিত করতে সারাজীবন নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত দৈনিক আজাদী আজ মাটি ও মানুষের মুখপত্র হিসেবে স্বীকৃত।

আলোচনায় বলা হয় যে, আবদুল খালেক ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন জাতীয় ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এক ভাস্বর মিনার। তিনি জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়াসহ বহু শিক্ষা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। জামেয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছিল কোহিনুর প্রেসের দোতলা থেকে, যা বর্তমানে ১০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর শিক্ষা কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।

আলহাজ্ব মাওলানা মোহাম্মদ বদিউল আলম রিজভী বলেন, আবদুল খালেক ইঞ্জিনিয়ারের হাতে গড়া প্রতিষ্ঠানগুলো যুগের পর যুগ সমাজে আলো ছড়িয়ে যাবে। আর তাঁর আদর্শ বাস্তবায়নে অতীতের মতো ভবিষ্যতেও দৈনিক আজাদী অটল ও একাগ্র থাকবে।

তিনি বলেন, আলহাজ্ব আবদুল খালেক (রহঃ) শুধু একজন সাংবাদিক ছিলেন না; তিনি শিক্ষক ছিলেন, লেখক ছিলেন, উদ্যোক্তা ছিলেন। তিনি সমাজটাকে পরিবর্তন করে সবার বাসযোগ্য একটি সুন্দর সমাজ বিনির্মাণে জীবনভর কাজ করে গেছেন। দৈনিক আজাদী তাঁর সেই আদর্শেরই বাতিঘর বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবিরোধী দল বহুরূপী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত : মীর হেলাল
পরবর্তী নিবন্ধমারণাস্ত্র নয়, বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার হাতিয়ার হবে যুক্তিতর্ক