উচ্ছেদের একদিনের মাথায় ফের বেদখল সড়ক বিভাগের সাড়ে ৩ কোটি টাকার জায়গা!

পটিয়ার মহাসড়কের শান্তির হাট-পাঁচুরিয়া

পটিয়া প্রতিনিধি | বৃহস্পতিবার , ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ১০:২৯ পূর্বাহ্ণ

পটিয়ায় চট্টগ্রামকক্সবাজার মহাসড়কের যানজটপূর্ণ এলাকা শান্তির হাট ও পাঁচুরিয়ায় উচ্ছেদের একদিনের মাথায় ফের বেদখল করা হলো সড়ক বিভাগের সাড়ে ৩ কোটি টাকার জায়গা! প্রশাসন ও সড়ক বিভাগকে বৃদ্ধাঙ্গলী দেখিয়ে উচ্ছেদ হতে না হতেই একদিনের ব্যবধানে আবারও যেন দখল বুঝে নিল অবৈধ দখলদাররা। পটিয়ার এমপি এনামুল হক এনামের নির্দেশে এ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হলেও, অবৈধ দখলদাররা কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে ফের অবৈধ দখল করলো জায়গা। এতে আবারও সড়কে যানজট বেড়েছে। বেড়েছে জনগণের দুর্ভোগও।

এর আগে গত সোমবার পটিয়া উপজেলা প্রশাসন ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক ও জনপথ বিভাগের অভিযানে বুলডোজার দিয়ে অবৈধ স্থাপনাগুলো গুড়িয়ে দেয়া হয়। ওইদিন দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত অভিযানকালে মহাসড়কের শান্তির হাট এলাকায় সড়কের দু’পাশ ও পাঁচুরিয়া এলাকায় পৃথক দুটি সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রবেশ পথ ও সামনে থেকে এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। উচ্ছেদের পরদিনই দখলকারীরা আবার সড়কে তাদের পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছে। এছাড়া ভ্যান ও ত্রিপল দিয়ে অস্থায়ী দোকান সেট নির্মাণ করে নিয়েছে। এতে আবারও সড়কে গাড়ি চলাচল বাধাগ্রস্থ হচ্ছে।

ভুক্তভোগীরা মনে করেন, উচ্ছেদের পর পর সড়ক বিভাগের জায়গার সীমান্তে পাকা খুঁটি স্থাপন করে সড়কে গাড়ি চলাচলের ব্যবস্থা না করা পর্যন্ত এ বেদখল কোনোভাবেই ঠেকানো যাবে না। এ বেদখলকারীদের পেছনে স্থানীয় কতিপয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতার সেল্টার রয়েছে বলেও জানান তারা।

উচ্ছেদকৃত ভূমির পরিমাণ প্রায় সাড়ে তিন একর এবং এসব জমির বাজার মূল্য প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা বলে জানান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারহানুর রহমান ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগের পটিয়ার উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী আবদুল্লাহ আল নোমান পারভেজ। এসময় বার বার নির্দেশনার পরও দোকানের মালামাল সড়ক বিভাগের জায়গায় রাখার দায়ে সড়ক বিভাগ আইনে এক মুদি দোকানিকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, চট্টগ্রামকঙবাজার মহাসড়কের পটিয়ার শান্তির হাট এলাকায় যানজট যেন নিত্য নৈমেত্তিক বিষয়। সড়কের দু’পাশে অবৈধ দখলদাররা অবৈধভাবে দোকান ও পণ্যের পসরা বসিয়ে মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি করে। ক্ষমতার পালাবদল হলেও, এক শ্রেণীর রাজনৈতিক দলের নেতাদের আশ্রয় প্রশ্রয়ে চলে এসব দখল বেদখেলর মহোৎসব। স্থানীয়দের দেয়া তথ্য মতে, গত ২০ বছর যাবতই চলছে এসব অবৈধ ব্যবসা। এক শ্রেণীর রাজনৈতিক নেতারা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত টাকা আদায় করেন। এতে উচ্ছেদ হওয়ার কয়েকদিনের মাথায় এবারও বেদখল হয়ে যায় ব্যস্ততম মহাসড়কের দু’পাশ।

এ বিষয়ে পটিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারহানুর রহমান বলেন, পটিয়ার শান্তির হাট একটি জনবহুল এলাকা। আমরা প্রায় সময় অভিযোগ পাই, সড়ক বেদখলের কারণে প্রায় সময় যানজটের সৃষ্টি হয়ে মানুষের ভোগান্তি হয়। যার কারণে পটিয়ার এমপি এনামুল হক স্যারের নির্দেশনায় এ উচ্ছেদ অভিযান করা হয়। উচ্ছেদ করার একদিনের ব্যবধানে ফের সড়কের জায়গাগুলো বেদখল হয়ে যাওয়া খুবই দুঃখজনক। এ বিষয়ে হাইওয়ে পুলিশের তৎপরতা খুবই প্রয়োজন ছিল। এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধরাষ্ট্রপতি ও মন্ত্রী-এমপিদের বেতন বৃদ্ধির উদ্যোগ নিলে বাধা দেব : শফিকুর
পরবর্তী নিবন্ধরাসূল (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণের মধ্যেই মানবজাতির কল্যাণ নিহিত