বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, শুধু রবিউল আউয়াল মাসের মধ্যে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আলোচনা সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না, সারা বছর তাঁর আদর্শের আলোচনা অব্যাহত রাখতে হবে। রাসূল (সা.)-এর আগমনের উদ্দেশ্য আমাদের অনুধাবন করতে হবে। তাঁর আদর্শ অনুসরণের মধ্যেই সমগ্র মানবজাতির কল্যাণ নিহিত। জীবনের প্রতিটি স্তরে প্রিয় নবী (সা.)-কে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করতে পারলেই দুনিয়া ও আখেরাতে শান্তি লাভ করা সম্ভব। তিনি গতকাল বুধবার নগরীর জিইসি কনভেনশন সেন্টারে জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরী আয়োজিত সীরাতুন্নবী (সা.) মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আল্লাহতায়ালা পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধানসহ রাসূল (সা.)-কে দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন। এই জীবনবিধান অনুসরণ করতে পারলে বিশ্বব্যবস্থায় কল্যাণ প্রতিষ্ঠিত হবে। যুগে যুগে আল্লাহতায়ালা নবী–রাসূলদের জীবনবিধান দিয়ে পাঠিয়েছেন। এই জীবনবিধান পরিপূর্ণ। রাসূল (সা.)-এর আদর্শে বিশ্বাসীরা ক্ষমতা বা গদির জন্য রাজনীতি করে না, তারা ইসলামী জীবনবিধান রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে রাজনীতি করে। তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রাম দিয়েই ইসলামের প্রবেশ ঘটেছিল। এই চট্টগ্রামেই ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠিত হবে। আগামী বাংলাদেশ হবে রাসূল (সা.)-এর আদর্শভিত্তিক বাংলাদেশ।
মহানগরী জামায়াতের আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে মাহফিলে প্রধান বক্তা ছিলেন– মদীনাতুল উলূম কামিল মাদরাসা, ঢাকার মুহাদ্দিস ড. মুফতি আবুল কালাম আজাদ বাশার। বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী এমপি। বিশেষ বক্তা ছিলেন–বায়তুশ শরফ আদর্শ কামিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ ড. মাওলানা সাইয়্যেদ মুহাম্মদ আবু নোমান এবং আইআইইউসির প্রফেসর ড. বি এম মফিজুর রহমান আজহারী।
প্রধান বক্তা মুফতি ড. আবুল কালাম আজাদ বাশার বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) সমগ্র মানবজাতির নবী। আমরা সফল হতে চাইলে তাঁর আদর্শ মেনে চলতেই হবে। তাঁকে মানতে হলে তাঁর সীরাত সম্পর্কে জানতে হবে। দিনের পর দিন, বছরের পর বছর পড়লেও রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বিশাল ও তাৎপর্যপূর্ণ জীবন সম্পর্কে পুরোপুরি জানা সম্ভব নয়। তাঁর জীবন থেকে কিছু গ্রহণ করব, কিছু বর্জন করব–এভাবে তাঁর আদর্শ অনুসরণ করা যায় না। যারা সত্যিকার অর্থে নবীজি (সা.)-কে ভালোবাসে, তারা তাঁর জীবনের সবকিছু থেকেই শিক্ষা গ্রহণ করবে। আমরা রান্নাঘর থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ স্তর পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ ও বাস্তবায়ন করতে চাই।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, রাসূল (সা.) ছিলেন নেতাদের মধ্যে ব্যতিক্রমধর্মী নেতা। পৃথিবীর অন্য কোনো নেতার সঙ্গে তাঁর তুলনা হতে পারে না। তাঁর জীবনে ছিল সর্বোত্তম আদর্শ। তৎকালীন সময়ের শ্রেষ্ঠ মানুষদের নিয়ে তিনি ইসলামী সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শাহজাহান চৌধুরী এমপি বলেন, বাংলাদেশের প্রত্যেক মুসলমান রাসূল (সা.)-এর আদর্শকে ভালোবাসেন। বর্তমান অর্থনৈতিক দুরবস্থার মধ্যে রাসূল (সা.) প্রদর্শিত যাকাতভিত্তিক অর্থব্যবস্থা অত্যন্ত প্রয়োজন। ইসলামে সম্পত্তি বণ্টনের সুস্পষ্ট আইন থাকা সত্ত্বেও সরকার কেন এই আইনে হস্তক্ষেপ করেছে, তা জনগণের কাছে পরিষ্কার করা প্রয়োজন। ইসলামী খেলাফত ব্যবস্থা রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠিত হলে ধর্ম–বর্ণ নির্বিশেষে সবার জন্য কল্যাণ নিশ্চিত হবে।
প্রফেসর ড. বি এম মফিজুর রহমান আজহারী বলেন, রাসূল (সা.)-এর রাজনৈতিক প্রজ্ঞার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল ন্যায়নিষ্ঠা ও ন্যায়বিচার। তিনি বাস্তবতাকে বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে শূরা বা যোগ্য ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সঙ্গে পরামর্শ করতেন।
সভাপতির বক্তব্যে মহানগরী জামায়াতের আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, বিশ্বের চলমান মানবিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণের কোনো বিকল্প নেই।
মাহফিলে আরও বক্তব্য দেন, মহানগরী জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন, নেজামে ইসলাম পার্টি চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি মাওলানা জিয়াউল হোসাইন, নগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা খাইরুল বাশার, মুহাম্মদ উল্লাহ, ফয়সাল মুহাম্মদ ইউনুস, মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী এবং সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. এ কে এম ফজলুল হক। মাহফিলে চট্টগ্রাম কালচারাল একাডেমির শিল্পীদের পরিবেশনায় ইসলামী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।










