চমেক হাসপাতালে বিশেষ মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা ক্রাশ প্রোগ্রাম

আজাদী প্রতিবেদন | বুধবার , ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ১০:২১ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় বিশেষ মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা ক্রাশ প্রোগ্রাম চালিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। এসময় মশক নিধন ও লার্ভা ধ্বংসে কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়। একই সঙ্গে সম্ভাব্য মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করে তা ধ্বংস করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে সচেতন করতে বিতরণ করা হয় সচেতনতামূলক লিফলেট।

গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের গোলচত্বরে এ ক্রাশ প্রোগ্রাম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর সহকারী ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এ এন এম মনোয়ারুল কাদির (বিটু)। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন এর সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ ফজলে রাব্বি, চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন সাজিদুর রহমান, ড্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ডা. তমিজউদ্দিন আহমেদ মানিক, ড্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব ডা. বেলায়েত হোসেন ঢালী, ডা. ইফতেখার উদ্দিন লিটন, ড্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল করিম চৌধুরী।

এসময় ডা. শাহাতাত হোসেন ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে নগরবাসীকে সচেতন ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ এবং জ্বর হলে সময়মতো পরীক্ষা ও চিকিৎসা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।

তিনি জানান, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য পৃথক ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেমন মাতৃসদন হাসপাতালেও ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনার জন্য বিশেষ সেন্টার চালু করা হয়েছে, যেখানে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। করা হচ্ছে ডেঙ্গু পরীক্ষাও।

মেয়র বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আমরা নিয়মিত মশক নিধন, লার্ভা ধ্বংস, ওষুধ প্রয়োগ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করছি। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে শুধু সিটি কর্পোরেশনের কার্যক্রমের মাধ্যমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে নগরবাসীকেও সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এ এন এম মনোয়ারুল কাদির (বিটু) বলেন, ডেঙ্গু নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। জ্বর হলে অবহেলা না করে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করাতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিতে হবে। বিশেষ করে জ্বর তিন দিন স্থায়ী হলে ডেঙ্গু পরীক্ষার পাশাপাশি শারীরিক অবস্থার ওপর নজর রাখা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ডেঙ্গু একটি ভাইরাসজনিত রোগ। এডিস মশার মাধ্যমে ডেঙ্গুর পাশাপাশি চিকুনগুনিয়া ও জিকা ভাইরাসসহ বিভিন্ন রোগ ছড়াতে পারে। তাই এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা সবার দায়িত্ব।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবিপিসি চেয়ারম্যান চট্টগ্রাম আসছেন আজ
পরবর্তী নিবন্ধচবিতে অননুমোদিত ফি আদায় বন্ধ