
চটট্টগ্রামে গ্রুপ থিয়েটার বা নবনাট্য আন্দোলনের প্রথম দশকেই নাট্যকর্মীরা চিন্তা বিনিময়ের মাধ্যম হিসাবে নাট্যপত্রিকা প্রকাশে উদ্যোগী হয়। নাট্যচর্চার পাশাপাশি নাট্যপত্রিকার প্রকাশ চট্টগ্রামের নাট্যাঙ্গনের বৌদ্ধিক উচ্চতার পরিচয় বহন করে। এ–অঞ্চলের নাট্যচর্চার সৃজনচিন্তনের বিভিন্ন প্রান্তকে স্পর্শ করার চেষ্টা করেছে চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত নাট্যপত্রিকাসমূহ।
স্বাধীনতা–উত্তর চট্টগ্রামের নাট্যচর্চার অনেক তথ্য–উপকরণ সংরক্ষিত আছে চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত নাট্যপত্রিকাসমূহে। কালের করাল গ্রাস মুছে দিয়েছে আমাদের অতীতের নাট্যচর্চার অনেক সোনালি গল্প। যা কিছু আজও টিকে আছে তার একক কৃতিত্ব নাট্যপত্রিকার। এ অঞ্চলের নাট্যচর্চার ইতিহাস রচনা করতে গেলে নাট্যপত্রিকা এখন অন্যতম প্রধান অবলম্বন। চট্টগ্রামের উন্মেষ ও বিকাশপর্বের নাট্যচর্চা অনুধাবন ও তথ্যানুসন্ধানে উল্লিখিত নাট্যপত্রিকাগুলো এখন অনুসন্ধিৎসু গবেষকের প্রধান অবলম্বন।
চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত (১৯৭৬–২০২৬) নাট্যপত্রিকায় চট্টগ্রামের নাট্যচর্চাকে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার চেষ্টা করেছেন লেখকরা। মুদ্রিত হয়েছে একগুচ্ছ মঞ্চসফল মৌলিক নাটক। চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত নাট্য পত্রিকায় এ অঞ্চলের নাট্যকর্মীদের চিন্তার রূপরেখা ও নাট্যমানস প্রতিফলিত হয়েছে। চট্টগ্রামের নাট্যাঙ্গনের অর্জন, সাফল্য–ব্যর্থতা, বঞ্চনা, হতাশা, ক্ষোভ–বিক্ষোভ প্রভৃতির সাথে সমগ্র বাংলাদেশের নাট্যচর্চার বহুমাত্রিক মূল্যায়নের প্রচেষ্টাও পরিলক্ষিত হয়েছে পত্রিকাগুলোতে। এ প্রবন্ধে চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত নাট্যপত্রিকার পরিচয় তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।
চট্টগ্রামে গ্রুপ থিয়েটার তথা নিয়মিত নাট্যচর্চার চতুর্থ বর্ষে প্রকাশিত হয় এ–অঞ্চলের প্রথম নাট্যপত্রিকা ‘তির্যক’। ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের বৈশাখ মাসে (মে, ১৯৭৬) নাট্যকার রবিউল আলমের সম্পাদনায় পত্রিকাটি আত্মপ্রকাশ করে। প্রথম দুই সংখ্যায় পত্রিকার সম্পাদকীয় কার্যালয়ের ঠিকানা দেওয়া হয়েছে– ৯, মৌলানা মো. আলী সড়ক, দামপাড়া, চট্টগ্রাম। নভেম্বর ১৯৭৯ পর্যন্ত মাত্র সাড়ে ৩বছরের মধ্যে পত্রিকাটির মোট ৯টি সংখ্যা (৩টি যুগ্মসংখ্যা) প্রকাশিত হয়। প্রতিটি সংখ্যার সম্পাদক ছিলেন রবিউল আলম। সহকারী সম্পাদক হিসেবে ছিলেন– সৈয়দ আসাদ চৌধুরী ও কাজী জাকির হাসান। চতুর্থ সংখ্যা ছাড়া প্রতিটি সংখ্যার প্রচ্ছদ করেছেন এনায়েত হোসেন। চতুর্থ সংখ্যার প্রচ্ছদ করেছেন আজাদ। পত্রিকার আকার ১/৮। তির্যকের ৯ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে ৩০টি মৌলিক নাটক।
১৯৭৭ খ্রিস্টাব্দের ডিসেম্বর মাসে আবসার হাবীবের সম্পাদনায় অরিন্দম নাট্য সম্প্রদায় কর্তৃক ৬০, হাইলেভেল রোড, লালখান বাজার চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত হয় ‘অরিন্দম’ নাট্যপত্রিকা। পত্রিকাটির দুটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়। প্রথম সংখ্যা প্রকাশের একবছর পর প্রকাশিত হয় দ্বিতীয় সংখ্যা– প্রকাশকাল মার্চ ১৯৭৯। দ্বিতীয় সংখ্যার প্রচ্ছদ করেছেন শিল্পী এনায়েত হোসেন ও সম্পাদক নিজে। সহযোগী সম্পাদক ছিলেন মাহবুব কামরান। ‘অরিন্দম’ নাট্যপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে মোট তিনটি মৌলিক নাটক।
গণায়নের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মনোতোষ ধর মনুর সম্পাদনায় ৩৩ হাজারী লেইন থেকে ১৯৭৮ সালের আগস্ট মাসে প্রকাশিত হয় নাট্যপত্রিকা ‘গণায়ন’। দ্বিতীয় ও তৃতীয় সংখ্যার প্রকাশকাল যথাক্রমে ১৯৭৮ সালের নভেম্বর ও ১৯৭৯ সালের সেপ্টেম্বর। ১৯৮২ সালের এপ্রিল মাসে ম. সাইফুল আলম চৌধুরীর সম্পাদনায় চতুর্থ সংখ্যা প্রকাশিত হওয়ার পর পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যায়।
চট্টগ্রামের প্রথম গ্রুপ থিয়েটার দল থিয়েটার–৭৩ নাট্যপত্রিকা প্রকাশেও ভূমিকা পালন করেছে। শাহ আলম নিপুর সম্পাদনায় থিয়েটার–৭৩ প্রকাশ করে নাট্যপত্রিকা মঞ্চ। পত্রিকাটির প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয় অক্টোবর ১৯৭৮ খ্রি.। তৃতীয় সংখ্যা থেকে সহ–সম্পাদক হিসেবে যুক্ত হয়েছেন জিয়াউল হাসান এবং নুরুল আলম। ত্রৈমাসিক নাট্য পত্রিকা হিসাবে প্রকাশিত পত্রিকাটির সম্পাদকীয় যোগাযোগের ঠিকানা মুদ্রিত হয়েছে– নিবেদন, ৩১৪, বঙ্গবন্ধু সড়ক, চট্টগ্রাম। ১/৮ সাইজের এই পত্রিকাটি নভেম্বর ১৯৮৬ খ্রি. পঞ্চম সংখ্যা প্রকাশিত হওয়ার পর বন্ধ হয়ে যায়। পাঁচ সংখ্যার স্বল্পায়ু জীবনে মঞ্চ প্রকাশ করেছে ৪টি নাটক।
১৩৮৯ বঙ্গাব্দের ফাল্গুন মাসে (মার্চ, ১৯৮৩) শান্তনু বিশ্বাসের সম্পাদনায় তৎ–কর্তৃক প্রকাশিত হয় প্রসেনিয়াম ষাণ্মাসিক নাট্যপত্রের প্রথম সংখ্যা।১৩৯৬ বঙ্গাব্দের জৈষ্ঠ্যমাসে (১৯৮৯) ষষ্ঠ সংখ্যা প্রকাশের পর প্রসেনিয়াম–এর যবনিকা পড়ে। ত্রিশ বছর পর পত্রিকাটির সপ্তম সংখ্যা প্রকাশিত হয়। পত্রিকাটির প্রধান প্রবণতা ছিল সমকালীন বাংলাদেশের নাট্যচর্চার গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ এবং বিশ্বনাট্য ও নাট্যভাবনার সাথে নাট্যকর্মীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে তাদের বোধের জগতকে সমৃদ্ধ করা। এ লক্ষ্যে প্রসেনিয়াম–এর প্রতি সংখ্যায় মৌলিক নাটক ও প্রবন্ধের পাশাপাশি প্রকাশিত হয়েছে একাধিক বিদেশি নাটক ও প্রবন্ধের অনুবাদ। প্রসিনিয়ামের সাত সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে মোট দশটি নাটক।
প্রসেনিয়াম–এর প্রতিটি সংখ্যা শান্তনু বিশ্বাসের সম্পাদনায়, ৫জুবিলী রোড চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত। প্রথম, দ্বিতীয় ও পঞ্চম সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছে সম্পাদক কর্তৃক এবং ষষ্ঠ সংখ্যায় প্রকাশক হিসাবে মুদ্রিত হয়েছে শুভ্রা বিশ্বাসের নাম। সপ্তম সংখ্যার প্রকাশক খড়িমাটি, ৩৫, মমিন রোড, চট্টগ্রাম। তৃতীয় ও চতুর্থ সংখ্যায় প্রকাশকের নাম নাই। প্রথম, দ্বিতীয়, ষষ্ঠ ও সপ্তম সংখ্যার প্রচ্ছদ করেছেন পীযুষ দস্তিদার। তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম সংখ্যার প্রচ্ছদশিল্পী খালিদ আহসান। পত্রিকার আকার প্রথম দুই সংখ্যা ১/৪, শেষের পাঁচ সংখ্যা ১/৮।
চট্টগ্রামের নাট্যচর্চার বয়স যখন প্রায় দুই দশক তখন আকস্মিক এক স্ফুলিঙ্গের মতো ‘থিয়েটার ফ্রন্ট’–এর আবির্ভাব। ‘থিয়েটার ফ্রন্ট’ পরিবর্তনকামী নাট্যকর্মীদের কথা বলার ছোট কাগজ। থিয়েটার ফ্রন্ট একটি আন্দোলন; একটি সংগ্রাম। চট্টগ্রামের নাট্যকর্মীদের মননশীলতার জগতে প্রচণ্ড এক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল থিয়েটার ফ্রন্ট–কে কেন্দ্র করে। এই একটি কাগজকে ঘিরে চট্টগ্রামসহ রাজধানীর কোথাও কোথাও সৃষ্টি হয়েছিল তীব্র একটি অভিঘাত। একাধারে অপরিমেয় নিন্দা এবং প্রশংসা অর্জন করেছে পত্রিকাটি। সমকালে থিয়েটার ফ্রন্ট হয়ে উঠেছিল নবীন–প্রবীণ নাট্যকর্মীদের মধ্যে শাণিত চিন্তা বিনিময়ের নির্ভরযোগ্য প্ল্যাটফর্ম। পত্রিকার প্রথম সংখ্যার প্রকাশকাল ফেব্রুয়ারি ১৯৯০ এবং শেষ সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৯৩ সালের ডিসেম্বর মাসে। চার বছরের দ্রোহীজীবনে ফ্রন্ট প্রকাশিত হয়েছে সাত সংখ্যা। এই সাতটি সংখ্যা চট্টগ্রামের নাট্যচিন্তায় খুলে দিয়েছিল অবারিত প্রাণ–প্রবাহ।
পত্রিকাটির প্রতিটি সংখ্যা সম্পাদিত হয়েছে ‘সম্পাদকীয় পরিষদ’– এর মাধ্যমে কিন্তু গোপন থেকেছে সম্পাদকীয় পরিষদের সদস্যদের নাম। ফ্রন্ট প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছে ১১ আইস ফ্যাক্টরী রোড, চট্টগ্রাম থেকে। দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ এবং পঞ্চম সংখ্যায় যোগাযোগের ঠিকানা হিসেবে মুদ্রিত হয়েছে– স্কেচ, জাহান বিল্ডিং নং ৩ (৩য় তলা), ৭৯ আগ্রাবাদ বা/এ, চট্টগ্রাম ৪০০০ এবং ষষ্ঠ ও সপ্তম সংখ্যায় বাড়ি ২৩/এ, রোড–২২, সিডিএ আ/এ আগ্রাবাদ, চট্টগ্রাম। ধারণা করা যেতে পারে, সম্পাদকীয় যোগাযোগের জন্য এগুলো ডাক ঠিকানা মাত্র। প্রথম, দ্বিতীয় ও চতুর্থ সংখ্যার প্রচ্ছদশিল্পী কাজী মামুনুর রশীদ এবং তৃতীয়, পঞ্চম, ষষ্ঠ সংখ্যার প্রচ্ছদ করেছেন ওসমান পাশা, সপ্তম সংখ্যার প্রচ্ছদ করেছেন প্রদীপ চক্রবর্তী। পত্রিকার আকার ১/৮, প্রতিটি সংখ্যাতে পৃষ্ঠা ছিল ৮০–১৬০ এর মধ্যে সীমিত। ফ্রন্টের বিভিন্ন সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে মোট চারটি নাটক।
থিয়েটার ফ্রন্ট প্রকাশনা বন্ধ হওয়ার পর দীর্ঘ ছয় বছর চট্টগ্রামে নাট্যপত্রিকা প্রকাশে শূন্যতা পরিলক্ষিত হয়। এ পরিস্থিতিতে ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দের জুলাই মাসে ইউসুফ ইকবালের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় নাটক কথা। ১/৮ সাইজে বত্রিশ পৃষ্ঠার নাটক কথার প্রস্তুতি সংখ্যার প্রকাশের পর ‘রাজধানীর বাইরের নাট্যক্রিয়া ও নাট্যচিন্তার কাগজ’ হিসাবে পত্রিকাটি নাট্যকর্মীদের মাঝে পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করে। পত্রিকাটির প্রধান লক্ষ্যই ছিল ঢাকার বাইরের নাট্যচর্চা ও চিন্তাকে তুলে ধরা। নাটক কথা প্রস্তুতি সংখ্যা প্রকাশিত হয় ১০ জুলাই ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দ, পৃষ্ঠা সংখ্যা বত্রিশ, দাম দশ টাকা, দ্বিতীয় সংখ্যা প্রকাশিত হয় ১০ নভেম্বর ১৯৯৯, পৃষ্ঠা সংখ্যা আটচল্লিশ, দাম বিশ টাকা, তৃতীয় সংখ্যা প্রকাশিত হয় ২০ জুন ২০০০ খ্রিস্টাব্দ, পৃষ্টা সংখ্যা চৌষট্টি, দাম ১৫ টাকা। নাটক কথার প্রথম তিন সংখ্যার প্রচ্ছদ করেছেন চারুশিল্পী তাসাদ্দুক হোসেন দুলু। পত্রিকার উপদেষ্টা সম্পাদক ছিলেন নাট্যকার স্বপন ভট্টাচার্য্য, সমন্বয়কারী দুলাল কান্তি নাথ। অলক মাহমুদ কর্তৃক ৭৫, হাইলেভেল রোড, লালখানবাজার, চট্টগ্রাম থেকে পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়। তৃতীয় সংখ্যার পর অলক মাহমুদের সম্পাদনায় পত্রিকাটির কয়েকটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছে।
২০০০ খ্রিস্টাব্দের নভেম্বর মাসে অভিজিৎ সেনগুপ্তের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় ফ্রন্টলাইন থিয়েটার। ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত পত্রিকাটির মোট নয়টি সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছে। প্রথম দুই সংখ্যার সম্পাদকীয় ঠিকানা ছিল ১৯. মোমিন রোড (৩য় তলা), আন্দরকিল্লা, চট্টগ্রাম। তৃতীয় সংখ্যা থেকে সপ্তম সংখ্যা পর্যন্ত পাঁচটি সংখ্যার সম্পাদকীয় ঠিকানা ছিল– প্রযত্নে: রয়েল লজেস্টিক সার্ভিসেস, আল ইসলাম চেম্বার, ৫ম তলা, ৯১, আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকা, চট্টগ্রাম। সব সংখ্যার প্রচ্ছদ করেছেন পীযুষ দস্তিদার। পত্রিকার সাইচ ১/৮। ফ্রন্টলাইন থিয়েটার–এর আট সংখ্যায় আটটি মৌলিক নাটক, দুটি বিদেশি নাটকের অনুবাদ/রূপান্তর, চারটি বাংলা নাটকের রূপান্তর, দুইটি গল্পের নাট্যরূপসহ মোট ষোলটি নাটক প্রকাশিত হয়েছে।
২০১৪ খ্রিস্টাব্দের নভেম্বর মাসে জাহেদুল আলমের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় নাট্যমঞ্চ। পত্রিকাটি এখনো সচল আছে। এ পর্যন্ত প্রকাশিত হয়েছে এগারোটি সংখ্যা। নাট্যমঞ্চ প্রথম সংখ্যা ৪৬৩ হাইওয়ে সোসাইটি, সিডিএ এভিনিউ, চট্টগ্রাম থেকে; দ্বিতীয় সংখ্যা ৩৭/৬ মল্লিকা ভবন, কাজীর দেউড়ি, চট্টগ্রাম থেকে; এবং এর পরবর্তী পাঁচ সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছে ৫ মোমিন রোড, চট্টগ্রাম থেকে। প্রথম ছয় সংখ্যা সম্পাদক কর্তৃক এবং সপ্তম সংখ্যা ইয়াসমীন জাহান কর্তৃক প্রকাশিত হয়েছে। প্রথম তিন সংখ্যা বছরের বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত হলেও চতুর্থ সংখ্যা থেকে পত্রিকাটি একটি নির্দিষ্ট তারিখে (তিন জানুয়ারি) প্রকাশিত হয়েছে। ১/৮ সাইজে প্রকাশিত নাট্যমঞ্চ পত্রিকার সব সংখ্যার প্রচ্ছদ করেছেন শিল্পী তাসাদ্দুক হোসেন দুলু। নাট্যমঞ্চ মৌলিক নাটক প্রকাশের ক্ষেত্রে ঈর্ষণীয় ভূমিকা পালন করেছে। ২১টি মৌলিক নাটক, ১টি গল্পের নাট্যরূপ, ১টি শিশুতোষ নাটক মিলিয়ে সাত সংখ্যার নাট্যমঞ্চ–তে প্রকাশিত হয়েছে মোট ২৩টি নাটক।
উপর্যুক্ত নাট্যপত্রিকাগুলো ছাড়াও চট্টগ্রাম থেকে বিভিন্ন সময়ে ত্রৈমাসিক শহীদনগর, মঞ্চসন্ত, ভূমি নাট্যালাপ, থিয়েটার বুলেটিন, নাট্যসমীক্ষা নামে বিভিন্ন আঙ্গিকের নাট্যপত্রিকা প্রকাশিত হয়েছে। চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত নাট্যপত্রিকার মধ্যদিয়ে প্রতিফলিত হয়েছে চট্টগ্রামের নাট্যসাহিত্য, নাট্যচর্চা ও চিন্তার বিসতৃত রূপরেখা। নাট্যকর্মীদের সৃজন–চিন্তনের বিনিময়, নাট্যচর্চার সংবাদ আদান–প্রদান, দেশ–বিদেশের নাট্যপরিস্থিতি সম্পর্কে জানা, সমকালীন নাট্যাঙ্গনের সংকট উন্মোচন, ভবিষ্যতের জন্য নতুন নাট্যসড়ক আবিষ্কার, নাট্যচিন্তাচর্চা প্রভৃতি ক্ষেত্রে সমকালের নাট্যকর্মীদের চাহিদা মিটিয়েছে পত্রিকাগুলো। কালের সাক্ষী হিসাবে এবং অনুসন্ধিৎসু নাট্যকর্মীদের গবেষণার তথ্যসূত্রের জন্য নাট্যপত্রিকাগুলো হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ অবলম্বন।
লেখক : প্রাবন্ধিক, নাট্যগবেষক, কলেজ শিক্ষক












