প্রতিবছরের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে কানাডার টরন্টোতে আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল চট্টগ্রাম সমিতির বার্ষিক ‘মেজবান’। গতকাল ১৯ সেপ্টেম্বর টরন্টোর ডেনফোর্থ সুন্নাতুল জামাত মসজিদ প্রাঙ্গণে এ মেজবান অনুষ্ঠিত হয়।
চট্টগ্রামের মেজবানি রান্নার রয়েছে এক নিজস্ব কৌশল। বিশেষ মসলার অনুপাত এবং রান্নার সুনির্দিষ্ট নিয়ম—যা শত শত বছর ধরে কেবল চট্টগ্রামের মানুষই বংশপরম্পরায় লালন করে আসছেন। দেশেই হোক কিংবা প্রবাসে, এই খাঁটি স্বাদ ফুটিয়ে তোলার মুন্সিয়ানা কেবল চট্টগ্রামবাসীদেরই জানা। সেই প্রথাগত ঐতিহ্য ও রান্নার বিশেষ পদ্ধতি অনুসরণ করে গত রাতে এখানে টরেন্টোতে সারারাত ধরে এই বিশেষ মেজবানি রান্নার আয়োজন ও প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়।
চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী এই স্বাদের টানে প্রতিবছর শুধু চট্টগ্রামবাসীই নন, বরং কানাডার টরন্টোতে বসবাসরত বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রবাসীরাও অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন। এবারও সকল অঞ্চলের প্রবাসীদের স্বতঃস্ফূর্ত ও বিপুল অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি প্রবাসী বাংলাদেশীদের এক বিশাল মিলনমেলায় পরিণত হয়।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় কাউন্সিলর থেকে শুরু করে কানাডার স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনের উচ্চপদস্থ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন;তারা এ ধরনের মহতী আয়োজনের ভূয়সী প্রশংসায় ভরিয়ে দেন।
টরন্টোর ব্যস্ত জীবনের মাঝে শিকড়ের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে ধারণ করতেই নিয়মিত এই আয়োজন করে আসছে চট্টগ্রাম সমিতি। অনুষ্ঠানে ঐতিহ্যবাহী বিশেষ মশলায় তৈরি সুস্বাদু মেজবানি মাংস, ঝাল চনার ডাল এবং নলা পরিবেশন করা হয়। প্রবাসে বসে চট্টগ্রামের চেনা স্বাদ ও ঘ্রাণ পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন আগত অতিথিরা।
খাবারের পাশাপাশি আয়োজনে ছিল পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময় ও প্রাণবন্ত আড্ডা। চট্টগ্রাম সমিতির সভাপতি মঞ্জুর চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন আগত সকল অতিথি ও প্রবাসীদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। আয়োজনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন অনুষ্ঠানের কনভেনর জসিম উদ্দিন, সদস্য সচিব তানভি হক, রফিকুল ইসলাম এবং সাইফ মাহমুদ। নেতৃবৃন্দ বলেন, “প্রবাসে নতুন প্রজন্মের কাছে আমাদের নিজস্ব ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সামাজিক মেলবন্ধন তুলে ধরাই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।” আয়োজকরা ভবিষ্যতেও প্রবাসী সমাজকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে এমন আয়োজন অব্যাহত রাখার দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।











