ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমালোচনা, আবাসন–পরিবহন সংকট ও আবহাওয়ার অনিশ্চয়তার মধ্যে আজ থেকে জাপানের নাগোয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে এশিয়ার বৃহত্তম ক্রীড়া আসর এশিয়ান গেমস। দীর্ঘ ৩২ বছর পর জাপান আবারও এশিয়ান গেমসের আয়োজক হবার সুযোগ সফলভাবে কাজে লাগাতে চায়। নাগোয়ার মিজু হো পার্ক স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায় শুরু হবে বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। এশিয়ার ক্রীড়াঙ্গনের মহাযজ্ঞ হিসেবে এই গেমস পরিচিত। চার বছর পরপর যে আসরকে ঘিরে এশিয়া মহাদেশের সেরা ক্রীড়াবিদদের মিলনমেলা বসে, সেই এশিয়ান গেমসের ২০তম আসর শুরু হচ্ছে জাপানের আইচি–নাগোয়া অঞ্চলে। তবে আজ আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগেই উৎসবের মঞ্চে জমেছে সমালোচনার মেঘ। আবাসন, পরিবহন, ব্যবস্থাপনাগত ত্রুটি– বিভিন্ন প্রশ্নের মুখে পড়ে আয়োজকদের এখন মাঠের বাইরেও লড়তে হচ্ছে। টোকিও থেকে নাগোয়া, জাপানের দুই শহরের পরিবেশেও রয়েছে কিছুটা পার্থক্য। টোকিওতে এশিয়ান গেমস ঘিরে তেমন দৃশ্যমান উদ্দীপনা চোখে না পড়লেও নাগোয়ায় বড় ক্রীড়াযজ্ঞের কিছুটা আমেজ মিলছে। শহরের স্বাভাবিক ব্যস্ততার সঙ্গে যোগ হয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি। তবে সর্বত্র উৎসবের আবহ রয়েছে এমনটা বলার সুযোগ নেই।
আয়োজকদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে আবাসন। প্রায় ১৭ হাজার ক্রীড়াবিদ ও কর্মকর্তার জন্য ঐতিহ্যবাহী অ্যাথলেটস ভিলেজ তৈরি না করে হোটেল, অস্থায়ী কক্ষ ও ক্রুজশিপে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। খরচ নিয়ন্ত্রণ এবং গেমস শেষে অব্যবহৃত স্থাপনা এড়ানোর যুক্তিতে এই সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে অলিম্পিক কাউন্সিল অব এশিয়া (ওসিএ)। কিন্তু কক্ষের সংকীর্ণতা, ছোট বিছানা ও আবাসন নিয়ে বিভিন্ন দলের অভিযোগে বিতর্ক থামেনি। এশিয়ান গেমসে হাজারো ক্রীড়াবিদকে আবাসন দেওয়ার জন্য একটি ক্রুজ জাহাজ গত সপ্তাহের মঙ্গলবার জাপানে পৌঁছেছে। গেমসের অন্যতম ভেন্যু নাগোয়ায় ইতালীয় ক্রুজ জাহাজ কোস্টা সেরেনা ভিড়েছে। এবারের গেমসে এই ক্রুজ জাহাজে আবাসনের ব্যবস্থা নানা অব্যব্যবস্থাপনার মধ্যেও বাড়তি আর্কষণ কেড়েছে। প্রায় ৪ হাজার ক্রীড়াবিদ ও কর্মকর্তা এই জাহাজে থাকবেন। জাহাজটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৩০০ মিটার, ওজন ১ লাখ টনের বেশি এবং এতে রয়েছে ১ হাজার ৫০০টি কেবিন। আবাসন সমস্যার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আবহাওয়ার অনিশ্চয়তা। সামপ্রতিক ভারী বৃষ্টিতে নাগোয়া ও আশপাশের অঞ্চলে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়েছে, কয়েকশ ক্রীড়াবিদকে অস্থায়ী আবাসন থেকে অন্যত্র সরিয়ে নিতে হয়েছে। গেমসের শুরুর দিকেই টাইফুনের আশঙ্কা থাকায় সতর্ক রয়েছে আয়োজকেরা। তবে গত দুই দিনের ঝলমলে আবহাওয়া কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে। অন্যান্য সব আসরের তুলনায় এবার জাপানের আয়োজন গেমসের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ। ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে প্রতিযোগিতা।
৪৫টি দেশ ও অঞ্চলের ১১ হাজারের বেশি ক্রীড়াবিদ অংশ নেবেন ৪৩টি খেলায়, ৪৬৯টি পদক ইভেন্টে। এটি জাপানের তৃতীয় এশিয়ান গেমস আয়োজন। এর আগে ১৯৫৮ সালে টোকিও ও ১৯৯৪ সালে হিরোশিমায় বসেছিল এই আসর। মূল আয়োজক শহর আইচি–নাগোয়ার বাইরেও টোকিওতে হবে সাঁতার এবং ওসাকায় ফুটবলসহ কয়েকটি ইভেন্ট। প্যাডেল, সার্ফিং, ভার্চুয়াল তায়কোয়ান্দো, টেকবল ও মিক্সড মার্শাল আর্টসের মতো নতুন ডিসিপ্লিন এবারের আসরে বাড়তি আগ্রহ তৈরি করছে। ই–স্পোর্টসও রয়েছে এবারের গেমসে। কয়েকটি খেলা ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকের যোগ্যতা অর্জনের পথ হিসেবেও কাজ করবে। শিল্প ও নৌপরিবহন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত নাগোয়া গেমস আয়োজনের জন্য এখন পুরোপুরি প্রস্তুত। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের জৌলুসের চেয়েও বড় হয়ে উঠছে ক্রীড়াবিদদের স্বাচ্ছন্দ্য, নিরাপত্তা, সময়মতো পরিবহন এবং প্রতিযোগিতার নির্বিঘ্ন আয়োজন। মাঠের লড়াইয়ে মেতে ওঠাই এখন আয়োজকদের মূল লক্ষ্য।













