ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে রাঙ্গুনিয়ার ২৫ কমিউনিটি ক্লিনিক

ছাদের আস্তরণ খসে পড়ছে, দুর্ঘটনার শঙ্কা

জগলুল হুদা, রাঙ্গুনিয়া | শনিবার , ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ৯:৪৮ পূর্বাহ্ণ

রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ২৫টি কমিউনিটি ক্লিনিক ভবন এখন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। জরাজীর্ণ ও বেহাল এসব ভবনে ঝুঁকি নিয়েই সেবা নিচ্ছেন সাধারণ মানুষ এবং দায়িত্ব পালন করছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, জরুরি ভিত্তিতে এসব ক্লিনিক পুনর্নির্মাণ না করলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের এসব ক্লিনিক ভবন দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ক্লিনিকগুলোর মধ্যে রয়েছে রাঙ্গুনিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ সাবেক নাথপাড়া, মরিয়মনগরের দক্ষিণ ইছামতি ও মৌলভীপাড়া, পারুয়ার উত্তর ও মধ্য পারুয়া, পোমরার মধ্যম নোয়াগাঁও, শিলকের নটুয়ারটিলা ও ফকিরাঘাট, পদুয়ার ফলাহারিয়া, চন্দ্রঘোনার সুফিপাড়া, দক্ষিণ রাজানগরের ফুলবাগিচা, লালানগরের বেড়িবাঁধ, বেতাগীর তিনসৌদিয়া এবং সরফভাটার দক্ষিণ সরফভাটা ও মৌলানাগ্রাম কমিউনিটি ক্লিনিক। এছাড়া আরও বেশ কিছু ক্লিনিককে মধ্যম ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রাখা হয়েছে।

উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের ফলাহারিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকটি পুরোনো ওয়ার্ড বিন্যাসে ৩ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত হলেও বর্তমানে এটি ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের হাজারো মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসার একমাত্র ভরসাস্থল। ছাদের আস্তরণ খসে পড়া ও দেয়ালে ফাটল ধরা এই ভবনে প্রতিদিন নারী, শিশু ও বয়স্করা চিকিৎসা নিতে আসেন। সেখানে দায়িত্বরত কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) নঈম উদ্দিন জানান, ভবনের বেহাল দশার পরও এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত না করতে তারা নিয়মিত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে বৃষ্টি বা দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় এই শঙ্কা বহুগুণ বেড়ে যায়। দ্রুত ভবনটি পুনর্নির্মাণ করা হলে স্বাস্থ্যকর্মী ও রোগী উভয়ের জন্যই একটি নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

দক্ষিণ সরফভাটা বড়খোলাপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকের দায়িত্বরত সিএইচসিপি মো. হাসান জানান, তার কমিউনিটি ক্লিনিকেরও বেহাল দশা। দেয়ালগুলোতে ফাটল ধরেছে। ছাদের আস্তরণ খসে পড়ছে। এটিসহ উপজেলার ঝুকিপূর্ণ ২৫ কমিউনিটি ক্লিনিকের তালিকা উর্ধ্বতন মহলে পাঠানো হলেও, এসবের ব্যাপারে কোন অগ্রগতি নেই। অথচ তার কমিউনিটি ক্লিনিকটিতে দৈনিক ৩০৫০ জন রোগী চিকিৎসা নেন বলে জানান তিনি।

শুধু উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণই নয়, মধ্যম ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রয়েছে রাজানগরের এসএম খাগড়াকুল, হোসনাবাদের দক্ষিণ নিশ্চিন্তাপুর, মরিয়মনগরের মাইজপাড়া, সরফভাটারের মীরেরখীল, পদুয়ার নারিশ্চা মৌলভীপাড়া ও পশ্চিম খুরশিয়া, ইসলামপুরের উত্তর ঘাগড়া, দক্ষিণ রাজানগরের খোরশেদ তালুক এবং লালানগরের আলমশাহ কমিউনিটি ক্লিনিক।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টিতেই ছাদ চুইয়ে পানি পড়া এবং যেকোনো মুহূর্তে ছাদ ধসে পড়ার উপক্রম হওয়ায় চরম আতঙ্ক নিয়ে তাদের সেবা নিতে হয়। বিশেষ করে প্রসূতি নারী ও শিশুদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি মারাত্মক রূপ নেয়। গ্রামীণ জনপদে স্বাস্থ্যসেবা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ক্লিনিকগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুনর্নির্মাণ এবং মধ্যম ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো দ্রুত সংস্কারের জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এ ব্যাপারে সিএইচসিপি এসোসিয়েশনের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি নঈম উদ্দিন বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ক্লিনিকগুলো সংস্কারে মমন্ত্রণালয়ের নির্দেশে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী সাহাব উদ্দিন সমপ্রতি তদন্ত করে গেছেন। এরমধ্যে ১২টি ক্লিনিক পুনর্নির্মাণ করা হবে এবং বাকিগুলো সংস্কার করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জয়নাব জমিলা বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর তালিকা এবং সার্বিক পরিস্থিতি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচকরিয়ায় এক মাসে কয়েকশ একর সংরক্ষিত বনভূমি দখল
পরবর্তী নিবন্ধখাগড়াছড়িতে জুমে ধানের নতুন জাত, ফলন দ্বিগুণ