রাতে চুরি-ছিনতাই, দিনেদুপুরেও বন্ধ কারখানার মালমাল নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা

কালুরঘাট বিসিক শিল্পনগরী শিল্প পুলিশ ও সিএমপির সমন্বিত উদ্যোগ চান মালিক-শ্রমিকরা

আজাদী প্রতিবেদন | বুধবার , ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ৬:৪১ পূর্বাহ্ণ

নগরীর কালুরঘাট বিসিক শিল্পনগরীতে রাতের আঁধারে চুরিছিনতাইয়ের পাশাপাশি দিনেদুপুরে বন্ধ শিল্পকারখানার মালামাল নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এখানকার মালিক শ্রমিকরা এ অভিযোগ জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, শুধু শিল্পকারখানা নয়, শিল্পনগরীর সড়কে শ্রমিকদের ছিনতাইয়ের শিকার হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। রাস্তার পাশে ভাসমান দোকান বসিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগও করেছেন তারা। বলেছেন, অপরাধীদের দৌরাত্ম্যের কারণে শিল্পনগরীর স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। কালুরঘাট বিসিক শিল্পনগরীর সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইল নামে একটি বন্ধ কারখানায় গিয়ে দেখা যায়, এর সব যন্ত্রপাতি দুর্বৃত্তরা নিয়ে গেছে। দরজাজানালা থেকে শুরু করে টিনের ছাউনি কিছুই বাদ যায়নি। এখন কেবল আছে ইটের গাঁথুনি।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, সংঘবদ্ধ একটি চক্র ওয়েল মার্ট নামে বন্ধ কারখানার তিনতলার বাতাস চলাচলের ছোট একটি জায়গা দিয়ে সুড়ঙ্গ তৈরি করে প্রায় অর্ধকোটি টাকার ক্যাবল ও দামি যন্ত্রপাতি নিয়ে গিয়েছে। লুট করা ক্যাবলের প্লাস্টিকের অংশ সরিয়ে তামা আলাদা করে কেটে নেওয়া হয়। এরপর সুড়ঙ্গপথ দিয়ে এসব মালামাল বাইরে নিয়ে যায় চক্রটি। সানজি টেক্সটাইল মিলস নামে আরেকটি ফ্যাক্টরিতেও লুটপাট করা হয়েছে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ফ্যাক্টরির এক কর্মকর্তা বলেন, ফ্যাক্টরির মধ্যে আমরা সুতা তৈরি করি। আমাদের একটা ইউনিট চলমান, আরেকটা ইউনিট ‘র’ মেটেরিয়ালসের জন্য বন্ধ। একদিন বন্ধ ফ্যাক্টরি খুলে দেখি একটা ফ্লোরের সবগুলো মেশিন ডিসকানেক্ট করে ক্যাবল নিয়ে গেছে। কালুরঘাট বিসিকের শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়েও রয়েছে উদ্বেগ। এলাকায় পর্যাপ্ত সড়কবাতি নেই। শ্রমিকদের অনেকে কর্মস্থলে যাতায়াতের পথে ছিনতাইয়ের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

মেরিডিয়ান ফ্যাক্টরির ডিজিএম ফয়জুল ইসলাম বলেন, ওয়াল ভেঙে ঢুকে প্রায় দুইআড়াই লাখ টাকার ক্যাবল নিয়ে গেছে। পরে আমরা সিসি ক্যামেরা থেকে শনাক্ত করেছি, কিন্তু লোক ধরতে পারিনি।

ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ৩ চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাহমুদা বেগম বলেন, যখন শ্রমিকদের ইনআউট হয়, ওই সময়টাতে আমাদের পার্টিগুলো বেশি মুভমেন্টে থাকে। তারপরও যেহেতু বিভিন্ন দিকে কথা উঠছে, আমাদের মুভমেন্ট বাড়িয়েছি এবং তৎপর রয়েছে। সাম্প্রতিক এসব ঘটনায় কেউ অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কালুরঘাট শিল্পনগরী বিষয়ে সিএমপির বিশেষ কোনো উদ্যোগ আছে কি না জানতে চাইলে সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলেন, এলাকায় থানা পুলিশের নিয়মিত টহল টিম রয়েছে। শিল্প পুলিশের পাশাপাশি বিসিক এলাকায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখা হবে। তিনি বলেন, আরো ইনটেন্সিফাই করব, যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে। কোনো কিছুর দিকে তাকানোর কোনো সুযোগ নেই। পুলিশ যেহেতু আইনগত কাজ করে সেখানে এসব বিষয়ের কোনো রকমের সুযোগ দেওয়ার প্রশ্নই আসে না।

চট্টগ্রাম৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ বলেন, অপরাধী যেই হোক, স্থানীয় বা অস্থানীয়, দলীয় হোক, নির্দলীয় হোক, সে অপরাধী। এই ব্যাপারে আমাদের জিরো টলারেন্স।

কালুরঘাট শিল্প এলাকায় প্রয়োজনীয় সড়কবাতি স্থাপনসহ বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা দূর করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, সরাসরি অথবা অ্যাপসের মাধ্যমে তারা যদি এই কমপ্লেইনগুলো আমাদের কাছে দিতে পারত, তাহলে এই সমস্যা সমাধান করাটা সহজ হতো। প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ও ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টকে বলা হয়েছে। তারা সমাধান করবেন।

প্রসঙ্গত, কালুরঘাট বিসিক শিল্পনগরীতে রপ্তানিমুখী ও উৎপাদনশীল প্রায় ১৫৬টি শিল্পকারখানা আছে। এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় ৯৫ হাজার মানুষের।

বিসিক চট্টগ্রাম জেলার ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার এস এম আলমগীর কাদেরী বলেন, কীভাবে একটা শিল্পনগরীকে আরো ফোর্সফুল করা যায়, এটার ব্যাপারে আমাদের কাছ থেকে বিভিন্ন সময় মতামত নেওয়া হয়। তখন এই বিষয়গুলো নিয়ে আসি। বিশেষ করে কালুরঘাটের বিষয়টা স্পেশালি বিভিন্ন সময় মতামতের মধ্যে আমরা রাখি।

অপরাধীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে শিল্প পুলিশ ও সিএমপির সমন্বিত টহল জোরদার, শিল্পনগরীতে প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পর্যাপ্ত সড়কবাতি ও সিসিটিভি স্থাপন এবং দ্রুত অভিযোগ গ্রহণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন মালিকশ্রমিকরা।

পূর্ববর্তী নিবন্ধশিল্প-কারখানায় গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে আসছে : ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি
পরবর্তী নিবন্ধসাতজনের মৃত্যুদণ্ডের রায়ে শুকরিয়া আদায় করছি : চিফ প্রসিকিউটর