একটি সময় ছিল ছেলেমেয়েরা নিজের পরিবারের গুরুজনদের কথা শুনত। বড়জনদের শ্রদ্ধা করত। কিন্তু এখন অনেক ক্ষেত্রেই শ্রদ্ধাবোধের অভাব দেখা যাচ্ছে।
আমাদের কিশোর, আমাদের ছাত্র, আমাদের ছেলেরা যদি শ্রদ্ধাশীল হয় দেশের জন্য অনেক শুভ হবে, মংগল হবে। আমরা প্রত্যেকে প্রত্যেকের জায়গা থেকে আগামী প্রজন্মকে সুশিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করব। লেখাপড়ার পাশাপাশি সুশিক্ষা না দিলে এর দায়ভার আমাদেরও বহন করতে হবে। আমরা প্রত্যেকে প্রত্যেকের জায়গা থেকে আগামী প্রজন্মকে সুশিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করব। লেখাপড়ার পাশাপাশি সুশিক্ষা না দিলে এর দায়ভার আমাদেরও বহন করতে হবে। ছোট ছোট ছাত্র–ছাত্রীদের লেলিয়ে দিয়ে শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়া, কোনো শিক্ষককে নাজেহাল করা অথবা শিক্ষকের গায়ে হাত তোলা মহা অন্যায়। যে ছাত্র তার শিক্ষকের গায়ে হাত তুলছে সে ছাত্র বড় হয়ে তার মা–বাবার গায়েও হাত তুলতে পারে। আমরা শিশুগুলোর সামনে এমন একটি পরিবেশ দেব যাতে তারা ভালো মন মানসিকতার মাঝে বেড়ে উঠতে পারে।
আমরা ব্যক্তিগতভাবে নিরপেক্ষ ব্যক্তি নই। প্রত্যেকের রাজনৈতিক মতাদর্শ ভিন্ন। একজন শিক্ষক তিনিও রাজনীতিমুক্ত নন। তার ব্যক্তিগত পছন্দ অপছন্দ থাকতে পারে। মানুষ হিসেবে আমাদের মানবতা থাকবে এবং চরিত্রবান হওয়ার চেষ্টা থাকবে। একজন মানুষের বিবেক থাকবে কিন্তু কোনো কোনো সময় বিবেক নাও থাকতে পারে। আর এই প্রেক্ষিতে সব শিক্ষক দুর্নীতিমুক্ত এটাও বলব না। একজন শিক্ষক দুর্নীতির কাছে হেরে যান কেন সে প্রশ্নটা আমাদের নিজেকে করতে হবে। গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে যারা প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে থাকেন তাদের অনেকে খুব চাপের মধ্যে থাকেন। লোকমুখে শোনা যায় বিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষক স্থানীয় নেতা এবং পরিচালনা পরিষদের সভাপতিকে ভয় করেন। আর এই ভয়ের কারণে কিছু শিক্ষক অনিচ্ছাকৃতভাবে হলেও কিছু জায়গায় সরকারিভাবে প্রাপ্ত টাকা ভিন্ন দিকে পরিচালিত করেন। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে শিক্ষকের বক্তব্য শুনতে হবে কী কারণে তিনি টাকার অপচয় করেছেন। এই ধরনের ঘটনায় ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার জন্য শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের যদি উস্কে দেওয়া হয় তাহলে সমাজে সুসন্তান সৃষ্টি হবে না। বর্তমান সরকারকে অনুরোধ জানাব বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে সারা বাংলাদেশে যেসব শিক্ষক–শিক্ষিকাদের পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন তার একটা তালিকা তৈরি করে তাদেরকে স্বপদে ফিরিয়ে আনুন কারণ প্রত্যেক শিক্ষকের পেছনে একটা পরিবার আছে এবং ছেলেমেয়ে আছে। প্রয়োজনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত সংশ্লিষ্ট বিভাগ দুর্নীতির সাথে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার ব্যবস্থা করবেন তবে খেয়াল রাখতে হবে রাজনৈতিক অথবা ধর্মীয় বিভাজন সৃষ্টি করে কোনো মেধাবী শিক্ষকের মেধার যেন অপমৃত্যু না হয়। শিক্ষক নির্যাতনে স্থানীয় কারো ইন্ধন থাকলে তাদেরও চিহ্নিত করা প্রয়োজন। বিভিন্ন ভিডিও দেখে অনেক শিক্ষকের মনোবল ভেঙে গেছে। তাই এমন একটি বাংলাদেশ নির্মাণ হোক যেখানে পারস্পরিক শ্রদ্ধা থাকবে, ভালোবাসা থাকবে, শিক্ষক এবং ছাত্রের মধ্যে শ্রদ্ধা এবং স্নেহের সম্পর্ক থাকবে।
লেখক : প্রাবন্ধিক












