ব্যাংক কর্মকর্তার আত্মহত্যা, চিরকুটে মানসিক ও আর্থিক চাপের কথা

আজাদী প্রতিবেদন | মঙ্গলবার , ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ৬:৪৭ পূর্বাহ্ণ

নগরীর হালিশহর থানাধীন হালিশহরের খুরশিদাবাগ আবাসিক এলাকার নিজ বাসা থেকে জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আবুল হোসাইনের (৪৬) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

গতকাল সোমবার ভোরে ইম্পিরিয়াল আরকিট ভবনের ৬/বি নম্বর ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে তার লেখা একটি চিরকুটও উদ্ধার করা হয়েছে। সন্দ্বীপের সারিকাইত ইউনিয়নে আবুল হোসাইনের বাড়ি। জনতা ব্যাংক মুরাদপুররের মোহাম্মদপুর শাখার ঋণ শাখার দায়িত্বে ছিলেন। আবুল হোসাইন অফিসের ‘চাপ ও হতাশা’ থেকেই আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা পুলিশের।

চিরকুটে তিনি লেখেন, গত কয়েক মাস ধরে নানা সমস্যায় ভুগছিলেন। বিশেষ করে ‘মোহাম্মদপুর জিবি শাখার’ দায়িত্ব নেওয়ার পর তার ওপর পেশাগত চাপ তৈরি হয়। চিরকুটে একটি মামলার কারণে দুশ্চিন্তা এবং নিজের আর্থিক সংকটের কথাও উল্লেখ করেছেন আবুল হোসাইন।

চিরকুটে লেখা রয়েছে, ‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। আমাকে সবাই ক্ষমা করে দেবেন। আমার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে আপনারা দেখে রাখবেন।’ চিরকুটে আরও লিখেছেন, ‘ব্যবসার বকেয়া ও মানুষের কাছে পাওনা টাকা আদায় না হওয়ায় তিনি আর্থিক সংকটে পড়েছিলেন।’ ওই সংকটের মধ্যে গত ৪ আগস্ট স্ত্রীর নামে থাকা একমাত্র ফ্ল্যাটটিও বিক্রি করতে বাধ্য হন বলে উল্লেখ করা হয় চিঠিতে।

চিঠিতে ২০২১ সালের একটি ঋণ বিতরণের বিষয়ও এসেছে। তিনি উল্লেখ করেন, ওই ঋণ বিতরণকে কেন্দ্র করে লালদীঘি শাখার তৎকালীন ব্যবস্থাপক হিসেবে তার এবং আরও তিন সহকর্মীর বিরুদ্ধে একটি সিআর মামলা করা হয়েছে। ‘আমি নির্দোষ ও নিরপরাধ শতভাগ। এ চিন্তায় গত দুই সপ্তাহ যাবৎ আমি ঘুমাতে পারি নাই’ বলেও উল্লেখ ছিল চিঠিতে।

নিজের স্ত্রী সম্পর্কে আবুল হোসাইন লিখেছেন, ‘আমার স্ত্রীর মতো এত মমতাময়ী, দরদি স্ত্রী পাওয়া আমার সৌভাগ্য।’ তার দুই সন্তানের একজন ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে।

হালিশহর থানার ওসি মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন মন্ডল আজাদীকে বলেন, খবর পেয়ে হালিশহর খুশীদাবাদ আবাসিক এলাকার বাসা থেকে এক ব্যাংক কর্মকর্তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাাথমিকভাবে আত্মহত্যা মনে হচ্ছে। মরদেহের পাশ থেকে একটি চিঠি পাওয়া গেছে। এই ব্যাপারে একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিষয়টি আমরা নিবিড় ভাবে তদন্ত করে দেখছি।

পরিবরের লোকজন জানান, রবিবার রাতে খাওয়াদাওয়া শেষে আনুমানিক রাত ১টার দিকে আবুল হোসাইন তার রুমে ঘুমাতে যান। গতকাল ভোরে ফজরের নামাজ পড়ার জন্য তার স্ত্রী রুমে ডাকতে গেলে দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে তার স্বামীকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে চাদর পেঁচিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।

এ সময় তার চিৎকারে বড় ছেলে আদিব হোসাইন (১২) সেখানে আসে। পরে শারমিনের বোন সুরাইয়া আক্তারও ঘটনাস্থলে আসেন। তারা আবুল হোসাইনের গলায় পেঁচানো চাদর কেটে তাকে নিচে নামান। পরে স্বজনদের খবর দেওয়া হয়। শারমিনের বোনের জামাই মো. শাহাজালাল জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯এ ফোন করে পুলিশকে বিষয়টি জানান।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শারমিন আক্তার (৩৯) হালিশহর থানায় মৃত্যুর সংবাদ জানিয়ে একটি অপমৃত্যুর মামলা করেছেন। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

এর আগে গত ২২ আগস্ট নগরের ডবলমুড়িং হাজীপাড়া এলাকায় পারিবারিক ও আর্থিক চাপে নিজ বাসায় মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা শাহিদ হোসেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচট্টগ্রাম কাস্টমসে সপ্তাহের সাত দিনই ২৪ ঘণ্টা শুল্কায়ন চালু
পরবর্তী নিবন্ধবাইক চুরির সন্দেহ থেকে খুন