যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পাল্টাপাল্টি হামলা, আবারও উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য

| বৃহস্পতিবার , ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ১০:৪২ পূর্বাহ্ণ

মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ব্যালিস্টিক মিসাইল ছোঁড়ার অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার ওমান উপসাগর ও খারগ দ্বীপের কাছে ৫টি ইরানি তেল ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে জর্ডানের আল আজরাক ঘাঁটিতে মার্কিন বাহিনীর ওপর মিসাইল ছুঁড়ে হামলার জবাব দিয়েছে ইরান। এছাড়া আরো দুটি মার্কিন জাহাজ ও আটটি ট্যাংকারে হামলার দাবি করেছে ইরান। আমেরিকা ও ইসরায়েলের ইরান যুদ্ধের ছয় মাস পূর্তিতে উপসাগরীয় অঞ্চলে যখন উত্তেজনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই এই পাল্টাপাল্টি গোলাগুলির ঘটনা ঘটল। খবর বাংলানিউজের।

২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরু পর গত জুনে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছিল। আগস্ট মাসে খুব একটা সামরিক পদক্ষেপ না থাকলেও সাম্প্রতিক দিনগুলোতে পাল্টাপাল্টি হামলায় তাদের সেই যুদ্ধ বিরতি চুক্তি ভেস্তে গেছে। ওই সমঝোতা স্মারকে পারস্পরিক শত্রুতার অবসান, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা নিরসনের পদক্ষেপগুলোর কথা রূপরেখা হিসেবে উল্লেখ ছিল। পাল্টাপাল্টি হামলার পাশাপাশি তেহরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ রেখেছে এবং ওয়াশিংটন ইরানি বন্দরগুলোতে নৌঅবরোধ জারি রেখেছে।

এক বিবৃতিতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, গত ২ দিনে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে দুবার লক্ষ্যবস্তু করার চেষ্টা করেছিল, তবে জাহাজটি ইরানের হামলার সেই চেষ্টা সফলভাবে এড়িয়ে যায়। কোনো মার্কিন কর্মী হতাহত হননি।

সেন্টকম জানায়, মার্কিন যুদ্ধ জাহাজে ইরানের হামলার জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের তেলবাহী ট্যাংকার এম/টি কাভিজ, এম/টি চারমিনার, এম/টি হরাইজন ১ এবং এম/টি রিয়েস্কো এবং খারগ দ্বীপের কাছে এম/টি দেরিয়াতে হামলা চালিয়ে সেগুলোকে ধ্বংস করা হয়েছে। জাহাজগুলোতে আঘাত হেনে সেগুলোকে অকেজো করে দেওয়ার আগে মার্কিন বাহিনী নাবিকদের জাহাজ ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয়।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম আইআরআইবি খারগ দ্বীপের কাছের মার্কিন হামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছে। যুদ্ধ শুরুর আগে দেশটির মোট তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই এই দ্বীপের মাধ্যমে পরিচালিত হতো। ইরানের দাবি, তারা মার্কিন হামলার জবাবে জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ব্যাপক মিসাইল হামলা চালানো হয়েছে এবং হামলায় মার্কিন যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গারগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে। এছাড়া মার্কিন নৌবাহিনীর ডিডিজি১১৯ এবং ডিডিজি৫৩ ডেস্ট্রয়ারের ওপর ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলার দাবি করে আইআরজিসি জানায়, হামলায় জাহাজগুলোর মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে।

আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানায়, তাদের নৌবাহিনী এ অঞ্চলের ২টি মার্কিন জলযান ও ৮টি ট্যাংকে হামলা চালিয়েছে, যার ফলে সেগুলোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

ইরানের এসব দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। এদিকে জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ২০টি ব্যালিস্টিক মিসাইল মোকাবিলা করেছে এবং এর মধ্যে ১৮টিকে সফলভাবে প্রতিহত করে ধ্বংস করেছে। দুটি মিসাইল জনমানবহীন এলাকায় পড়েছে।

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ আলী আবদুল্লাহি সতর্ক করে বলেছেন, ইরানি ট্যাংকে হামলা চালানো হলে তেহরান এ অঞ্চলের সর্বত্র মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে পাল্টা হামলা চালাবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধব্রিটেনকে এক মাসের মধ্যে পূর্ব জেরুজালেম কন্স্যুলেট বন্ধ করতে বলল ইসরায়েল