কক্সবাজারের চকরিয়ার ভাড়া বাসায় চুরি করতে ঢুকেছিল চোরের দল। এ সময় দুই শিশু সন্তানকে রুমের ভেতর আটকে রেখে কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশে কর্মরত সদস্যের স্ত্রীকে রান্নাঘরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের ঘটনার মামলায় পারভেজ মো. আবুল কালাম নামের এক আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসাথে দুই লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এই অর্থ অনাদায়ে আরও ১০ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত।
গতকাল বুধবার দুপুরে কক্সবাজারের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল–১–এর বিচারক আবু হানিফ এই রায় প্রদান করেন। এ সময় আসামি আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। মামলার রাষ্ট্রপক্ষের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) ইফতেখার মাহমুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার বিবরণ ও রাষ্ট্রপক্ষের দেওয়া তথ্যানুযায়ী– ২০২৫ সালের ১৫ জুলাই ভোররাতে চকরিয়া থানায় কর্মরত এক পুলিশ সদস্যের বাড়িতে হানা দেয় চোর পারভেজসহ কয়েকজন। এ সময় তারা বাড়ির মালামাল লুট করার পর ওই পুলিশ সদস্যের স্ত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। এই ঘটনা জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে।
মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল পরবর্তী দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য–প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত পারভেজ মো. আবুল কালামকে ধর্ষণের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। পাশাপাশি দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও ১০ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
এদিকে, আদালতের রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী পুলিশ কনস্টেবলসহ বাদীপক্ষ। তারা বলেন, এমন ঘটনা যেন আর কোনো পরিবারের সঙ্গে না ঘটে–এটাই তাদের প্রত্যাশা। একইসঙ্গে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে সমাজে এই ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর বার্তা যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তারা।












