ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের সাবেক প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ ও তার ছোট ভাই এবিএম শাহরিয়ারের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগে দুই মামলায় অভিযোগপত্র অনুমোদন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বুধবার বিকালে কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান কমিশনের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান। খবর বিডিনিউজের।
তিনি বলেন, হারুনের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর করা মামলার তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিলের অনুমোদন দিয়েছে কমিশন। তদন্তে হারুনের ২১ কোটি ২৮ লাখ ৯ হাজার ৬০৫ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়ার কথা বলেছে দুদক। এর বিপরীতে তার বৈধ উৎস থেকে সম্পদ অর্জনের সক্ষমতা পাওয়া গেছে ১ কোটি ২৯ লাখ ১৫ হাজার ৬ টাকার। এ হিসাবে সাবেক এ পুলিশ কর্মকর্তা হারুন ১৯ কোটি ৯৮ লাখ ৯৪ হাজার ৫৯৯ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। অপরদিকে আরেক মামলায় হারুনের ভাই এবিএম শাহরিয়ার ও হারুনকে আসামি করা হয়েছিল। এ মামলায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র অনুমোদন করা হয়েছে।
তদন্তে শাহারিয়ারের ১৮ কোটি ৭৬ লাখ ৯৭ হাজার ১৮৫ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। ২০১৯–২০ থেকে ২০২৩–২৪ করবর্ষ পর্যন্ত তার মোট আয় পাওয়া গেছে ৬৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩০৪ টাকা। ব্যয় ছিল ১৬ লাখ ৪৭ হাজার ১৭৪ টাকা। ব্যয় বাদ দিলে সম্পদ অর্জনের বৈধ উৎস দাঁড়ায় ৪৮ লাখ ৯০ হাজার ১৩০ টাকা। এ হিসাবে শাহরিয়ারের ১৮ কোটি ২৮ লাখ ৭ হাজার ৫৫ টাকার সম্পদ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত বলে অভিযোগ করেছে দুদক।
২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর হারুন, তার স্ত্রী শিরিন আক্তার ও ভাই শাহরিয়ারের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা করেছিল দুদক। তখন হারুনের বিরুদ্ধে ১৭ কোটি ৫১ লাখ ১৭ হাজার ৮০৬ টাকার এবং শাহরিয়ারের বিরুদ্ধে ১২ কোটি ৯৬ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৪ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের অভিযোগ আনা হয়েছিল। তদন্তে আরও সম্পদের তথ্য পাওয়ার পর হারুনের ক্ষেত্রে অভিযোগের অঙ্ক বেড়ে ১৯ কোটি ৯৮ লাখ ৯৪ হাজার ৫৯৯ টাকা এবং শাহারিয়ারের ক্ষেত্রে ১৮ কোটি ২৮ লাখ ৭ হাজার ৫৫ টাকা হয়েছে।
হারুনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র অনুমোদনের বিষয়ে দুদক সচিব বলেন, তিনি ১৯ কোটি ৯৮ লাখ ৯৪ হাজার ৫৯৯ টাকার মূল্যের জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনপূর্বক ভোগ দখলে রেখে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭ (১) ধারার শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।
হারুন ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের প্রধানসহ পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন তুলে ধরে তিনি বলেন, ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে এসব সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তদন্তে পাওয়া গেছে।
দুদকের অভিযোগ, হারুন অবৈধ সম্পদের উৎস, অবস্থান, মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ গোপন করতে বিপুল অর্থ নগদে সংরক্ষণ ও লেনদেন করেছেন। ব্যাংক হিসাবেও ‘অস্বাভাবিক’ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। তার সম্পদের একটি বড় অংশ বাবা–মায়ের নামে কিনে পরে নিজের নামে হস্তান্তর ও রূপান্তর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে দুদক।












