সারা দেশের কোথাও সরব নয় ক্রীড়াঙ্গন। চট্টগ্রামের ক্রীড়াঙ্গনেও চলছে তেমন ধারা। চরম স্থবিরতায় সময় কাটাচ্ছে চট্টগ্রামের এ অঙ্গন। ফুটবল, ক্রিকেট ছাড়াও খেলাধুলার নানা ইভেন্ট স্থবিরতায় আটকে আছে। দিন গুনছেন খেলোয়াড়রা কখন সুদিন আসবে আর তাদের প্রিয় ইভেন্ট নিয়ে তারা মাঠে নামবেন। এর মাঝে একটা সুখবর পেয়েছে ক্রিকেট। ২০২৪ এর পর মাঠে গড়ায়নি চট্টগ্রামের কোন লিগ। ফলে ক্রিকেটার এবং ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরাও রয়েছেন চরম অনিশ্চয়তায়। জেলা লিগসমূহ হচ্ছে না। এগুলো আয়োজন করতে পারে কেবলমাত্র জেলা ক্রীড়া সংস্থা। কিন্তু ২০২৪ এর আগের কমিটি ভেঙ্গে দেয়ার পর কোথাও আর নির্বাচন হয়নি। নির্বাচন না হওয়ায় সংস্থাগুলোতেও নেই কোন নির্বাচিত কমিটি। জেলা ক্রীড়া সংস্থা এবং বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা চলছে অ্যাডহক কমিটি দিয়ে। দেশব্যাপী একই চিত্র। এরমধ্যে চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার ক্লাব সমিতি মাঠে খেলাধুলা চালু রাখতে নিজেদের উদ্যোগে একাধিক টুর্নামেন্ট আয়োজন করেছে। তা অবশ্য ফুটবল এবং ক্রিকেটের মত বড় ইভেন্টের জন্য। বর্ধিত আকারের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য এমন উদ্যোগ মোটেও যথেষ্ঠ নয়। এমতাবস্থায় খরাক্রান্ত চট্টগ্রামের ক্রিকেট অঙ্গনকে কিছুটা হলেও স্বস্তি দিতে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে নির্বাচিত বিসিবি পরিচালক মিনহাজুল আবেদীন নান্নুর উদ্যোগে আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হচ্ছে চার দলের একটি টি–টোয়েন্টি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট। এই টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম বিভাগকে চারটি জোনে ভাগ করে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে। এই প্রতিযোগিতায় কেবল চট্টগ্রাম বিভাগের ক্রিকেটাররা অংশগ্রহন করবেন। তবে প্রতিযোগিতার দলসমূহকে নিজ নিজ দলে অনূর্ধ্ব–১৯ দলের দুজন করে ক্রিকেটার রাখতে হবে। তাদের মধ্য থেকে প্রতি ম্যাচে একজনকে খেলাতে হবে। চারটি দলের মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগর ও চট্টগ্রাম জেলার ক্রিকেটারদের নিয়ে গড়া দলের নাম ইস্পাহানী কর্ণফুলী। রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও কক্সবাজার জেলার ক্রিকেটারদের নিয়ে গড়া দলের নাম সাম্পান। দলটির পৃষ্ঠপোষক বিসিবি পরিচালক সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ। নোয়াখালী জেলার ক্রিকেটারদের নিয়ে গড়া দলের নাম ভুলুয়া। নোয়াখালী জেলার বিসিবি কাউন্সিলর এই দলটির পৃষ্ঠপোষকতা করবেন। কুমিল্লা, চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ক্রিকেটারদের নিয়ে গড়া দলটির নাম ফর্টিস ময়নামতি। ফর্টিস গ্রুপ এই দলটি পরিচালনা করবে। আগামী ১৬, ১৭ ও ১৯ সেপ্টেম্বর হবে টুর্নামেন্টের লিগ পর্বের ম্যাচগুলো। লিগ পর্বে ম্যাচ হবে ৬টি। আর ফাইনাল সহ ৭টি। ২১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল। উদ্যোক্তারা মনে করেন টুর্নামেন্টটি ছোট হলেও চট্টগ্রামের ক্রিকেটারদের জন্য এটি মৌসুমের প্রাক প্রস্তুতি হিসেবে কাজ করবে। দীর্ঘদিনের অনিয়মিত আয়োজনের মধ্যে এই টুর্নামেন্ট নিয়মিত ক্রিকেট ফেরানোর একটি যোগসূত্র হিসেবেও কাজ করতে পারে।












