বিতর্ক সত্ত্বেও ফিফার শীর্ষ পদ থেকে সরতে নারাজ জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ফিফার পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে, আগামী মার্চের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তিনি। ‘তৃতীয় মেয়াদে’ ফিফার সভাপতি পদে নির্বাচন করার ঘোষণা গত এপ্রিলেই দেন ইনফান্তিনো। যদিও মাঝের সময়ে পরিস্থিতি অনেকটাই বদলে গেছে। উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে ফিফার কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্তে সরাসরি তার দিকে অভিযোগের আঙুল ওঠে। এরপর, বিশ্ব ফুটবলের অংশীদারদের সঙ্গে কোনোরকম আলোচনা না করেই, বিশ্বকাপের স্বত্ব বাইরের প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রির উদ্যোগ নেওয়ায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন ইনফান্তিনো। উয়েফা, কনক্যাকাফ ও এএফসির প্রবল বিরোধিতার মুখে সেই প্রস্তাব থেকে সরে এলেও সমালোচনা এড়াতে পারছে না ফিফা ও ইনফান্তিনো। অমন বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেওয়ায়, ফিফার শীর্ষ পদে ৫৬ বছর বয়সী এই সুইস কর্মকর্তার থাকার যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণাও এসেছে। এত বিরোধিতার মাঝে অবশ্য সমর্থনও পেয়েছেন তিনি। আফ্রিকা অঞ্চলের ফুটবল সংস্থা তার পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া দেশ হিসেবে আর্জেন্টিনাও তার পক্ষে। এবার ফিফার বিবৃতিতে ইনফান্তিনোর পুনরায় নির্বাচনে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হলো। বিশ্বকাপের অংশীদারিত্ব বিক্রির প্রস্তাব নিয়ে তুমুল আলোচনা–সমালোচনার পর, ফিফার পক্ষ থেকে এবারই প্রথম এই ঘোষণা দেওয়া হলো। ২০১৬ সাল থেকে ফিফার সভাপতি পদে আছেন ইনফান্তিনো। সেই হিসেবে ইতোমধ্যে তিনি ১০ বছর দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রথম দায়িত্ব নেওয়ার পর দুবার পুনঃনির্বাচিত হয়েছেন। সেই হিসেবে এখন তার তৃতীয় মেয়াদ চলছে। ফিফা সভাপতি পদে একজন সর্বোচ্চ তিনটি মেয়াদে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। তবে ইনফান্তিনোর ক্ষেত্রে একটা জটিলতা আছে। দুর্নীতির অভিযোগে সেপ ব্লাটারের পদত্যাগের পর, ২০১৬ সালে ইনফান্তিনো দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০২২ সালে ফিফার কাউন্সিল এই মর্মে সম্মত হয়েছিল যে, তার প্রথম তিন বছর তিন মেয়াদের সীমার মধ্যে গণনা করা হবে না, কারণ তিনি ব্লাটারের অসমাপ্ত মেয়াদ পূর্ণ করছিলেন। সেই বিবেচনায় এটা ইনফান্তিনোর দ্বিতীয় মেয়াদ এবং তাই তিনি পুনরায় নির্বাচনের যোগ্য। তবে ফেয়ারস্কয়ার নামক একটি মানবাধিকার সংস্থার যুক্তি, ফিফার নিয়ম অনুযায়ী তিনি ইতোমধ্যেই তার তৃতীয় ও চূড়ান্ত মেয়াদ পূর্ণ করছেন। আগামী বছরের ১৮ মার্চ মরক্কোতে ফিফা কংগ্রেসে সভাপতি পদে ভোট হওয়ার কথা রয়েছে।











