নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন

হিমবাহ ধসের ৩৮ মিনিট পর সতর্ক বার্তা

| শুক্রবার , ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ৮:৫৫ পূর্বাহ্ণ

নেপালের তিব্বত সীমান্তের অদূরে বিশাল হিমবাহ ধসের ৩৮ মিনিট পর রসুয়া জেলার আক্রান্ত এলাকার মানুষের মোবাইলে জরুরি সতর্ক বার্তা পৌঁছায়। কিন্তু বার্তা পাওয়ার আগেই নেমে আসা হড়পা বান ও পাথরের আঘাতে বহু গ্রাম ও ঘরবাড়ি মাটির সঙ্গে মিশে যায়। দেশটির গণমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্ট লিখেছে, সেই ভয়ংকর প্রলয়ের মুখে পড়েন রসুয়া জেলার হাকুবেসি গ্রামের বাসিন্দা নিমা দোর্জে তামাং। খবর বিডিনিউজের।

নিমেষেই মাথার চেয়েও উঁচু পাহাড়ি ঢল এসে আঘাত হানে তার ওপর। তারমধ্যেই কোনোমতে পাহাড়ের উপরের দিকে উঠে যাওয়ার চেষ্টা করেন তিনি, কিন্তু একটি পাথর পড়ে পা ভেঙে যায় তামাংয়ের। এরপর ঢলের তোড়ে ভেসে গেলেও অলৌকিকভাবে একটি গাছ ধরে বেঁচে যান তিনি।

দীর্ঘ ২৪ ঘণ্টা অর্ধচেতন অবস্থায় থাকার পর উদ্ধার পান তিনি, হেলিকপ্টারে করে তাকে কাঠমান্ডুর হাসপাতালে নেওয়া হয়। তামাং প্রাণে বাঁচলেও হারিয়েছেন তার চাচা, চাচি, বোন ও ভগ্নিপতিকে। ২৬ অগাস্ট সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে তিব্বত সীমান্তবর্তী লেন্দে উপত্যকায় হিমবাহের বিশাল একটি অংশ ধসে পড়ার পর এভাবেই বরফ, পানি ও কাদায় প্লাবিত হয় চারপাশ।

৩৮ মিনিটের বিলম্ব ও কাঠামোগত দুর্বলতা : হিমবাহ ধসের পর রসুয়া, নুয়াকোট, ধাদিং ও চিতওয়ান অঞ্চলের মানুষের মোবাইলে সতর্কবার্তা পৌঁছাতে সময় লাগে ৩৮ মিনিট। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের পাঠানো ক্ষুদে বার্তায় তাৎক্ষণিকভাবে উঁচু নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু ততক্ষণে নদী তীরের অনেক বসতি ও অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নেপালের দুর্যোগ সতর্কীকরণ ব্যবস্থাটি মূলত কোনো একটি নির্দিষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগভিত্তিক, যা ধসের ফলে সৃষ্ট জটিল পাহাড়ি ঢল ও হঠাৎ সৃষ্টি হওয়া বন্যা মোকাবিলায় যথেষ্ট নয়। নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এনডিআরআরএমএ) সাবেক প্রধান নির্বাহী অনিল পোখরেল বলেন, নেপালে প্রকৃত অর্থে সমন্বিত কোনো আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা নেই।

পূর্ববর্তী নিবন্ধট্রাম্প প্রশাসন চলছে অযোগ্যদের দিয়ে : জর্জ ক্লুনি
পরবর্তী নিবন্ধস্বামীকে হত্যা করে নিজেই পুলিশ ডাকলেন স্ত্রী