ফাতেমা এবার এশিয়ান গেমসে

কক্সবাজার সৈকতে শুরু, প্রতিকূলতা জয়

শাহেদ মিজান, কক্সবাজার | বুধবার , ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ১০:৪৪ পূর্বাহ্ণ

হাতে সার্ফবোর্ড, চোখে বড় স্বপ্ন। কক্সবাজারের সৈকত থেকে শুরু হয়েছিল ফাতেমার পথচলা। ঢেউকে সঙ্গী করে, নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে সেই পথ এবার গিয়ে ঠেকেছে এশিয়ান গেমসের মঞ্চে। সার্ফিংয়ে প্রথমবারের মতো অংশ নিতে যাওয়া বাংলাদেশের নারী প্রতিনিধি তিনি।

এশিয়ান গেমসে প্রথমবারের মতো অন্তর্ভুক্ত হয়েছে সার্ফিং। এই আসরে লালসবুজের পতাকা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার স্বপ্নে বিভোর কক্সবাজারের সার্ফার ফাতেমা আকতার। সেপ্টেম্বরে জাপানের আইচিনাগোয়ায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২০তম এশিয়ান গেমসে সার্ফিং ইভেন্টে এটিই হবে বাংলাদেশের প্রথম ঐতিহাসিক অভিষেক। দেশের ক্রীড়া ইতিহাসে প্রথম নারী সার্ফার হিসেবে এশিয়ান গেমসে যোগ্যতা অর্জন করে ইতোমধ্যেই ইতিহাস গড়েছেন ফাতেমা।

বাংলাদেশ সার্ফিং এসোসিয়েশনের তথ্য মতে, জাপানের আইচি ও নাগোয়া শহরকে কেন্দ্র করে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে ২০তম এশিয়ান গেমস। এর মধ্যে সার্ফিং প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে জাপানের আইচি প্রিফেকচারের তাহারা সিটির প্যাসিফিক লং বিচ ও আকাবানে লং বিচে। সার্ফিংয়ের ইভেন্টগুলো ২৬ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

বাংলাদেশ সার্ফিং এসোসিয়েশনের কর্মকর্তারা জানান, এশিয়ান গেমসের এই আসর বাংলাদেশের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এবারই প্রথম এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ এই ক্রীড়া আসরে সার্ফিং ডিসিপ্লিনে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ। পুরুষ বিভাগে মোহাম্মদ মান্নানের পাশাপাশি নারী বিভাগে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন ফাতেমা আক্তার।

সমপ্রতি কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে সতীর্থ সার্ফার মোহাম্মদ মান্নানের সঙ্গে নিয়মিত প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন তিনি। বাংলাদেশ সার্ফ গার্লস অ্যান্ড বয়েজ ক্লাবের কোচ রাশেদ আলমের তত্ত্বাবধানে চলছে তার নিবিড় অনুশীলন। প্রতিকূল আবহাওয়া ও উত্তাল ঢেউ উপেক্ষা করে প্রতিদিনই নিজের দক্ষতা বাড়াতে অনুশীলন করছেন ফাতেমা।

তথ্য মতে, ফাতেমার বাড়ি কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীতে। জীবিকার প্রয়োজনে তার পরিবার পরে কক্সবাজার শহরে চলে যায়। বর্তমানে কলাতলী এলাকায় বসবাস করছে তার পরিবার। চার ভাইবোনের মধ্যে ফাতেমা তৃতীয়। বাবা ফকির আহমদের সাধারণ পরিবারে বেড়ে ওঠা এই কিশোরীর সার্ফিংয়ে আসার পথটিও ছিল নানা প্রতিকূলতায় ভরা। আর্থিক সংকট ও সামাজিক নানা বাধা পেরিয়ে ফাতেমার এগিয়ে চলার পেছনে সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে তার পরিবার ও কোচদের সহযোগিতা। তাদের উৎসাহ ও ভালোবাসায় ধীরে ধীরে সার্ফিংয়ে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি।

ফাতেমার কোচ রাশেদ আলম বলেন, ফাতেমার সবচেয়ে বড় শক্তি তার অদম্য সাহস ও পরিশ্রম। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও সে নিয়মিত অনুশীলন করে যাচ্ছে। এশিয়ান গেমসে ফাতেমা বাংলাদেশের লালসবুজের পতাকাকে উজ্জ্বল করবে এমন প্রত্যাশা রাশেদ আলমের।

এশিয়ান গেমসে অংশ নেওয়ার সুযোগকে নিজের জন্য যেমন বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন ফাতেমা, তেমনি এটিকে দেশের নারী সার্ফারদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার হিসেবেও দেখছেন। সমুদ্রের ঢেউয়ের সঙ্গে লড়াই করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ কাজে লাগাতে চান তিনি।

কক্সবাজারের সৈকত থেকে ওঠে আসা ফাতেমা ও মান্নানের এশিয়ার সবচেয়ে বড় ক্রীড়া মঞ্চে অংশগ্রহণের সুযোগ আশার বার্তা দিলেও সার্ফিংয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে রয়েছে শঙ্কা। ক্রীড়া সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রাতিষ্ঠানিক স্পনসর না থাকলে সার্ফিংয়ের মতন খেলা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া কঠিন।

কক্সবাজারের সার্ফার প্রশিক্ষক ও কোচ সাইফুল্লাহ সিফাত বলেন, আমরা বহুদিন ধরে আশায় ছিলাম, এশিয়ান গেমসে সার্ফিং যুক্ত হবে। অবশেষে আমাদের আশা পূর্ণ হলো। সেই সাথে কক্সবাজারের মেয়ে ফাতেমাও অংশ নেয়ার সুযোগ পেয়েছে। আমরা দারুণ খুশি। আমাদের বিশ্বাস ফাতেমা তার সাফল্য দেখিয়ে বাংলাদেশের নাম বিশ্বদরবারে আরো একবার উজ্জ্বল করবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধরাঙ্গুনিয়ায় বন বিভাগের অভিযান, সরকারি সংরক্ষিত জমি দখলমুক্ত
পরবর্তী নিবন্ধমৌলিক অধিকার নির্বিঘ্ন করাই গণতন্ত্রের আসল রূপ : ভূমি প্রতিমন্ত্রী