প্রিয় নবীজি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু তা‘য়ালা আলাইহি ওয়ালিহী ওয়াসাল্লাম যেদিন পৃথিবীর জমিনে আগমন করেছিলেন সেদিন সমস্ত সৃষ্টি আনন্দিত হয়েছিলো। মহান আল্লাহ্ পাক রাব্বুল আলামীনও সেদিন খুশি হয়েছিলেন। মূলত তিনি নবীজিকে আমাদের নিকট প্রেরণ করে খুশি হয়েছিলেন আর সৃষ্টিজগত নবীজিকে পেয়ে খুশি হয়েছিলো। খুশি কিংবা আনন্দকে আরবীতে ঈদ বলা হয়। আল কামুসূল মুহদাস ডিকশনারিতে দিবসকেও ঈদ বলা হয়ে থাকে। আমরা নবীজির আগমনে তাঁর জন্মদিবস উদযাপন করে থাকি আর সেটাই হলো ঈদে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। মূলত ঈদ হলো প্রত্যেক সেই দিন, যেদিন আনন্দ, সমাগম এবং কোনো মহান ব্যক্তির স্মরণ করা হয়ে থাকে। ১২ ই রবিউল আউয়াল আমরা মহানবী ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামার স্মরণ করে থাকি। ইসলামে ঈদ শুধু দুইটি নয় বরং অসংখ্য–অগণিত ঈদ রয়েছে যেমন, কোটিপতি বাবা দীর্ঘদিন ধরে নিঃসন্তান আল্লাহ্ পাক মেহেরবানি করে তাঁকে সন্তান দান করলে সেই দিনটি তাঁর জন্য ঈদের দিন এভাবে অসহায় দরিদ্র ব্যক্তি যেই দিন পয়সা ওয়ালা হবে সেই দিনটিও তাঁর জন্য ঈদের দিন এভাবে বহু উদাহরণ পেশ করা যাবে। ঈদের আলোচনা করতে গিয়ে ৫০০ বছর আগের স্কলার ইমাম আল্লামা কুসতুল্লানী (রহ.) স্বীয় মাওয়াহেবে লাদুন্নিয়্যাহ্ কিতাবে বলেন, যে ব্যক্তি প্রতিটি রাতকে একেকটি ঈদের মুহূর্ত হিসাবে উদযাপন করবে আল্লাহ্ পাক তাঁর উপর রহমত নাজিল করার মাধ্যমে অনুগ্রহ তথা দয়া করবেন। এবার আসুন যারা বলে ইসলামে ঈদ শুধু দুইটি তাঁদের জবাব দিই, বিশ্ববিখ্যাত আলেমেদ্বীন শায়খ আল্লামা শাহ্ আহমাদ সাঈদ আল মুজাদ্দেদী দেহলভী (রহ.) কে প্রশ্ন করা হলো, ‘আপনারা নাকি দুই ঈদ ছাড়া আরো অনেক ঈদ উদযাপন করেন? বিশেষ করে আপনারা নাকি মিলাদুন্নবীর ঈদ উদযাপন করেন এটা কতটুকুন বৈধ? তখন তিনি জবাবে বললেন, “হ্যাঁ হ্যাঁ, শোন, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেদিন দুনিয়াতে আগমন করেছেন সেদিনকে শুধু ঈদের দিন নয় বরং আমরা সকল ঈদের সেরা ঈদ হিসাবে উদযাপন করি।” মূলত যারা নবীজির আগমনে আনন্দিত হয় না নিঃসন্দেহে তারা শয়তানের দোসর আর তাদের ব্যাপারে আফসোস করে ‘আল–ই‘লাম বি আ‘লামি বাইতিল্লাহীল হারাম’ কিতাবে ইমাম কুত্ববী (রহ.) বলেন, যে রাতে নবীজি আগমন করেছেন সে রাতে নবীজির উম্মতেরা কীভাবে আনন্দিত হবে না এটা ভাবতেই বড় অবাক লাগে! আল্লাহ্ পাক সকলকে হেফাজত করুন।












