ভৌগোলিকভাবে চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলা উঁচু–নিচু জমিসহ নানা বৈচিত্র্যের প্রকৃতিতে বেষ্টিত। বিশেষ করে পাহাড়ের পাদদেশের এলাকা অতিবৃষ্টিতেও তেমন ডোবে না। ভারী বৃষ্টি হলে পাহাড়ি ঢলে মধ্যবর্তী কিছু নিচু অঞ্চল প্লাবিত হলেও উপজেলার অনেক উঁচু জমি চাষযোগ্য থাকে। এসব উঁচু জমিতে চাষ হচ্ছে প্রয়োজনীয় কৃষিপণ্য লাউ। এবারও বর্ষামুখর মৌসুমে কিছু এলাকায় ভালো লাউয়ের ফলন হয়েছে। একই পদ্ধতি অনুসরণ করে অন্যান্য কৃষকরাও উপকৃত হতে পারেন।
মীরসরাই উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, শুধু শীতকালেই মীরসরাইয়ে প্রায় ৫০০ একর জমিতে লাউ চাষ করা হয়। উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নের পাহাড়ি ও সমতল–উভয় ধরনের ভূমিতে বাণিজ্যিকভাবে লাউ চাষ হয়ে থাকে। সমপ্রতি বর্ষাকালেও প্রায় ১০০ একর জমিতে লাউ চাষ হয়েছে।
উপজেলার উঁচু কৃষি এলাকার খৈয়াছড়া, মায়ানি, দুর্গাপুর, ওয়াহেদপুর ও করেরহাটসহ কয়েকটি ইউনিয়নের বিভিন্ন উঁচু সমতল ও পাহাড়ের ঢালু জমিতে লাউয়ের ফলন হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে বাজারে সবজির দাম সাধারণত চড়া থাকে। এ সময় লাউয়ের দামও বেশি থাকায় কৃষকেরা লাভবান হচ্ছেন।
মধ্যম ওয়াহেদপুরের লাউচাষি কৃষক রফিক উদ্দিন (৫২) বলেন, ২৮ শতক জমি বর্গা নিয়ে লাউ চাষ শুরু করেন তিনি। এতে তার খরচ হয়েছে ১৭ হাজার টাকা। এরই মধ্যে প্রায় ৫০ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করেছেন। আরও কিছুদিন লাউ বিক্রি করতে পারবেন বলে জানান তিনি।
খৈয়াছড়া ইউনিয়নের আমবাড়িয়ার কৃষক গোলাম মর্তুজা (৪৩) জানান, পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় লাউ চাষের মাচা তৈরির প্রয়োজনীয় শলাকা ও খুঁটি হাতের কাছেই পাওয়া যায়। ফলে মাচা তৈরি ও ক্ষেত পরিচর্যায় খরচ কম। জমি থেকে লাউ তুলে বাজারে নেওয়ার প্রয়োজন হয় না। পাইকারেরা জমির পাশ থেকেই লাউ কিনে নিয়ে যান।
গড়িয়াইশ গ্রামের কৃষক ইমাম হোসেন বলেন, বর্ষাকাল হওয়ায় গত হাটবারে প্রতি পিস লাউ ৪০ থেকে ৫০ টাকা পাইকারি দরে বিক্রি করেছি। শীতকালে প্রতি পিস লাউ ৩০ থেকে ৪০ টাকার বেশি দরে পাইকারি বিক্রি করা যায় না। ভালো দাম পাওয়ায় আমরা খুশি।
উপজেলার করেরহাট ও হিঙ্গুলী ইউনিয়নেও এবারের বর্ষায় ব্যাপকভাবে লাউ চাষ হয়েছে। এখানকার পাইকারি সবজি বিক্রির বড় বাজার বসে বড়দারোগাহাটে। সেখান থেকে পাইকারেরা লাউ কিনে ট্রাকযোগে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যান।
মীরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় বলেন, এ উপজেলায় শীতকালে প্রচুর লাউ চাষ হয়। এখন গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালেও অনেক কৃষক লাউ চাষ করে লাভবান হচ্ছেন। পুকুরের ওপর ও জমিতে মাচা করে বহুমুখী লাউ চাষ কৃষকদের ভালো আয় এনে দিতে পারে। তিনি বলেন, যারা লাউ চাষে আসছেন, তাদের কৃষি অফিস থেকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। আগামীতে উপজেলার সব উঁচু পতিত জমিতে লাউসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য চাষে ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়া হবে।












