‘শানকে তার প্রাপ্ত নম্বর আর কখনও জানানো হবে না’

শিক্ষিকার আবেগঘন পোস্ট গ্রেপ্তার চার সহপাঠী কারাগারে

আজাদী প্রতিবেদন | বৃহস্পতিবার , ২০ আগস্ট, ২০২৬ at ১০:২৩ পূর্বাহ্ণ

বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে ভেসে যাওয়া মুনিফ আহমেদ শান ছিল বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র। তার রোল ছিল১। গত ১০ আগস্ট সে তার বায়োলজি প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষা শেষ করে খাতা জমা দেয়। পরদিন হঠাৎ সে তার শিক্ষিকার কাছে এসে জানতে চায়, ‘ম্যাম আমি কত পেয়েছি’? শিক্ষিকা কিছুটা অবাক হয়েছিলেন, কারণ শান সচরাচর নম্বর জানতে চাওয়ার মতো ছেলে ছিল না। প্রথম সাময়িক পরীক্ষার পর যখন শিক্ষিকা নিজেই নম্বর বলতে চেয়েছিলেন, শান তখন বিনয়ের সাথে বলেছিল, ‘ম্যাম থাক, প্লিজ বলিয়েন না।’ তবে এবার সে স্বতঃস্ফূর্তভাবে নম্বর জানতে চেয়ে বলেছিল, ‘ম্যাম, আপনি বলছেন যে এবার আমি বাসায় ভালো করে পড়ছি, পরীক্ষায়ও লিখছি। তাই নম্বরটা জানতে চাইছি। নম্বর জানলে খুশি হতাম’।

শিক্ষিকা তখন শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় খাতাগুলো দেখা হয়ে ওঠেনি। ভেবেছিলেন, সুস্থ হয়ে খাতা দেখে শানকে তার প্রাপ্ত নম্বর জানাবেন। কিন্তু সেই সুযোগ আর পাননি তিনি। এতে আক্ষেপ যেন মিটছে না সুমাইয়া বেগম নামে ওই শিক্ষিকার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এভাবেই নিজের কষ্ট তুলে ধরেন তিনি।

শুধু সুমাইয়া বেগম না। শানকে হারিয়ে অন্য শিক্ষদের পাশাপাশি তার সহপাঠীরাও বেদনাহত। তারা শানের মৃত্যুর পেছনে দায়িদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। একইসাথে তদন্তের মাধ্যমে শানএর মৃত্যুর আসল কারণও খুঁজে বের করার দাবি জানান। এদিকে শানএর মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার চার বন্ধুকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

উল্লেখ্য, হালিশহরের চট্টগ্রাম মডার্ন স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র শান গত শনিবার পাঁচ বন্ধুর সঙ্গে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত ঘুরতে যায়। এর মধ্যে ঢেউয়ের স্রোতে ভেসে যায় সে। পরে তার মরদেহ উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুুলিশ। এরপর দুইদিন তার লাশ পড়েছিল মর্গে। সেটা জানত না পরিবার। এমনকি দিশেহারা পরিবার যখন সন্তানকে হন্যে হয়ে খুঁজছিল তখনও শানএর চার বন্ধু চুপ ছিল, ভয়ে সাগরে ভেসে যাওয়ার বিষয়টি চেপে রাখে তারা। এ সুযোগে একটি চক্র অপহরণের কথা বলে শানের পরিবার থেকে আদায় করে ৬০ হাজার টাকা। অবশেষে গত সোমবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুলিশের দেয়া একটি ছবি দেখে পরিবার জানতে পারে, মর্গে পড়ে আছে শানের মরদেহ। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর শানের মৃত্যুর ঘটনায় হালিশহর থানায় একটি মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয় তার চার বন্ধুকে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধনিষ্পত্তির চেয়ে নতুন মামলা বেশি
পরবর্তী নিবন্ধমশার পাশাপাশি বেড়েছে ডেঙ্গু