সামপ্রতিক টানা এক সপ্তাহের ভারী বর্ষণ ও পার্বত্য অববাহিকা থেকে নেমে আসা মাতামুহুরী নদীর উজানের ঢলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যার পর এবার তীব্র হয়েছে নদীভাঙন। নদীর প্রবল স্রোতে চকরিয়া পৌরসভার একাধিক ওয়ার্ডসহ চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার নদীবিধৌত ইউনিয়নগুলোর বিভিন্ন এলাকায় বসতবাড়ি, মসজিদ, মন্দির, বেড়িবাঁধ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ভাঙনের কবলে পড়েছে। জানা গেছে, এবারের বন্যা ও পরবর্তী সময়ে ইতোমধ্যে অন্তত অর্ধশত বসতবাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভিটেবাড়ি হারিয়ে এসব পরিবারের অনেকেই এখন নিঃস্ব।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মাতামুহুরী নদীর দুই তীরের জনপদ এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। চকরিয়া পৌরসভা ছাড়াও চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার আটটি ইউনিয়নের প্রায় পাঁচ শতাধিক বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট ও বেড়িবাঁধ রয়েছে নদীভাঙনের ঝুঁকিতে। কোথাও নদীর পানি এসে ঠেকেছে বসতঘরের একেবারে কাছে, আবার কোথাও জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কের অংশ ধীরে ধীরে চলে যাচ্ছে নদীগর্ভে। মাতামুহুরী উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নে বেড়িবাঁধ ভেঙে নদীর জোয়ার–ভাটার পানি সরাসরি লোকালয়ে প্রবেশ করছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নির্দেশে কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ইতোমধ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কোনাখালী ইউনিয়নের পুরুত্যাখালী ও মরংঘোনা এবং পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের আনিচপাড়া এলাকায় মাতামুহুরী নদীর তীর সংরক্ষণ কাজ শুরু করেছে।
পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতে চকরিয়া পৌরসভার কোচপাড়া, কাহারিয়া ঘোনা, খোন্দকার পাড়া, বমু বিলছড়ি, সুরাজপর–মানিকপুর, কাকারা, লক্ষ্যারচর, কৈয়ারবিল, বরইতলী, সাহারবিল, চিরিঙ্গা, মাতামুহুরী উপজেলার বিএম চর, কোনাখালী, বদরখালী ইউনিয়নের নদীতীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় বেড়িবাঁধের ঢাল ও নদীর তীর ভেঙে গেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বেড়িবাঁধ, রাস্তাঘাট ও অসংখ্য বসতবাড়ি। চকরিয়া পৌরসভা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম আবদুর রহিম বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ দ্রুত মেরামত এবং নদীতীরের ভাঙন রোধে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে চকরিয়া পৌরসভাসহ দুই উপজেলার আটটি ইউনিয়নের গ্রামীণ জনপদ মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। বেড়িবাঁধ, রাস্তাঘাট ও তিন শতাধিক বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকার বেড়িবাঁধের ক্ষয়ক্ষতি এবং মাতামুহুরী নদীর ভয়াবহ ভাঙনের বিষয়টি জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাউবোর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। কঙবাজার ও বান্দরবান পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তর থেকে এ সংক্রান্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এরই ধারাবাহিকতায় সমপ্রতি চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ এবং নদীভাঙনপ্রবণ এলাকা পরিদর্শন করেছেন পাউবোর অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পূর্ব রিজিয়ন) মো. শফিকুল ইসলাম।
পরিদর্শনকালে পাউবো কঙবাজার সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আবু রায়হান, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল ইসলাম, বান্দরবানের নির্বাহী প্রকৌশলী অপু দেবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শনকালে মো. শফিকুল ইসলাম নদীভাঙনপ্রবণ ও ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধের পয়েন্টগুলোতে দ্রুত এবং কার্যকর সংস্কারকাজ বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
পাউবো কঙবাজারের উপ–বিভাগীয় প্রকৌশলী (চকরিয়া–কুতুবদিয়া জোন) সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সামপ্রতিক বন্যায় চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার তিনটি পয়েন্টে বেড়িবাঁধ ভেঙে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি একাধিক এলাকায় নদীভাঙনও বেড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ পুনরায় মেরামত এবং নদীভাঙন রোধে জরুরি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য অর্থ বরাদ্দ চেয়ে দপ্তরে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।












