রাঙামাটিতে গর্ভজাত সন্তান হত্যার অভিযোগে ডা. মাসুদুর রহমান তালুকদার নামে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। গতকাল ৬আগস্ট দুপুরে রাঙামাটির চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার আবেদন করেন গর্ভজাত সন্তানের বাবা জুয়েল রানা। আদালতের বিচারক মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দিয়েছেন।
জানা গেছে, মামলার আসামি ডা. মাসুদুর রহমান রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের স্ত্রী ও প্রসূতি রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত আছেন। মামলার বাদী জুয়েল রানা রাঙামাটি জেলার কাউখালী উপজেলার বেতবুনিয়ার বাসিন্দা।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদী তার আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রীনা আক্তারকে প্রসবজনিত ব্যথার কারণে গত ৮ জুলাই রাতে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করান। তখন তার স্ত্রী ও নবজাতক সুস্থ ছিল। ১০ জুলাই কর্তব্যরত চিকিৎসক নাজমা ছিদ্দিকার পরামর্শক্রমে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করানো হয়। সেই রিপোর্টে গর্ভজাত সন্তান সুস্থ ও স্বাভাবিক ছিল বলে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু ১১ জুলাই ডা. মাসুদুর রহমান তালুকদার আল্ট্রাসনোগ্রাফি রিপোর্ট দেখে গর্ভজাত সন্তানের মৃত্যু হয়েছে বলে শিশুটির মাকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে অঙিজেন খুলে নেন। দীর্ঘ ২ ঘণ্টা অঙিজেনবিহীন থাকায় গর্ভজাত সন্তানের মৃত্যু ঘটে দাবি করেন বাদী জুয়েল রানা।
এ প্রসঙ্গে মামলার বাদী জুয়েল রানা বলেন, ডা. মাসুদুর রহমান তালুকদারের বিরুদ্ধে রাঙামাটি আদালতে মামলা দায়ের করেছি। আশা রাখি সুষ্ঠু বিচার পাব। ডা. মাসুদুর রহমান তালুকদার বলেছিলেন হাসপাতালের পাশে এবিসি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে স্ত্রীর আল্ট্রাসনোগ্রাফি করাতে। এবিসি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আল্ট্রাসনোগ্রাফি না করিয়ে পপুলারে করাতে প্রেসক্রিপশন দেখে তিনি এ জঘন্য কাজ করেছেন বলে দাবি করেন জুয়েল। তিনি বলেন, ‘প্রেসক্রিপশন দেখামাত্রই রোগীর মুখ থেকে অঙিজেন এবং স্যালাইন খুলে দেন ডা. মাসুদুর রহমান। এতে স্ত্রী ভয় পেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে হাসপাতালের আরএমও ডা. শওকত আকবর খানের পরামর্শে হাসপাতালে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করা হয়। বিকেলের দিকে বলা হয় গর্ভে মৃত সন্তান। আমার সন্তান সুস্থ ছিল। ডাক্তারের অবহেলায় আমার সন্তান গর্ভে মারা গেছে।’
বাদীপক্ষের আইনজীবী ও রাঙামাটি জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক শিশুমনি চাকমা বলেন, বৃহস্পতিবার রাঙামাটি চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে জুয়েল রানার পক্ষে তার গর্ভবতী স্ত্রীর চিকিৎসাগত অবহেলার অভিযোগে ডা. মাসুদুর রহমান তালুকদারের বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি নালিশ (সি.আর নং ৪৯৪/২৬) দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের প্রাথমিক উপস্থাপনা বিবেচনা করে আদালত বিষয়টি তদন্তের জন্য কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে আইন অনুযায়ী তদন্তের নির্দেশ প্রদান করেছেন।
অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. মো. মাসুদুর রহমান তালুকদার জানান, মামলার বিষয়টি তিনি জানেন না। তবে অভিযোগ সম্পূর্ণ ‘মিথ্যা’ ও ‘বানোয়াট’ বলে দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে রাঙামাটির সিভিল সার্জন ডা. নূয়েন খীসা বলেন, ডা. মাসুদুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলার বিষয়টি জানি না। মামলার বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।












