বার্ন ইউনিট প্রকল্পের অর্ধেক কাজ শেষ

আগামী বছরের মে মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ কাজ শেষ করার লক্ষ্য চীনাদের প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ল আগামী বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত

জাহেদুল কবির | মঙ্গলবার , ৪ আগস্ট, ২০২৬ at ৭:৫৭ পূর্বাহ্ণ

নগরীর গোঁয়াছি বাগান এলাকায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিট প্রকল্পের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের কাজ অর্ধেক সমাপ্ত হয়েছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ছয়তলা মূল ভবনের কাজ সমাপ্ত হয়েছে। পাঁচতলা পর্যন্ত ইটের গাঁথুনি সম্পন্ন হয়েছে। চলতি মাসের টাইলস ও লিফট স্থাপনের কাজ শেষ করা হবে। বর্তমানে ইকুইপমেন্ট বিল্ডিংয়ের কাজ চলছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হওয়ায় নতুন করে প্রকল্পের মেয়াদ আরো দেড় বছর বাড়িয়ে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে। তবে চীনাদের লক্ষ্য আগামী বছরের মে মাসের মধ্যে কাজ শেষ করা।

বার্ন ইউনিট প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ভারী বৃষ্টিতে যাতে মূল ভবনের ওপর পাহাড় ধসে না পড়ে তাই পার্শ্ববর্তী পাহাড়ের সয়েল নেইলিং (খাড়া পাহাড় কেটে ঢালু করা) করে কলাম বসানো হয়েছে। ঘাস লাগানোর কাজও প্রায় শেষের দিকে। তবে গত বছর মন্ত্রণালয় থেকে অর্থছাড় সংক্রান্ত জটিলতার কারণে কাজের গতি কমে যায়। কারণ চীনা নির্মাণ সামগ্রীর আমদানি ব্যয় বাংলাদেশ সরকারের দেয়ার কথা। এছাড়া গত এপ্রিলেও অর্থছাড় নিয়ে ঝামেলা হওয়ার কারণে নির্মাণ সামগ্রী আসা পিছিয়ে দিতে বাধ্য হয় চমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে এখন জটিলতা কেটে যাওয়ায় কাজের গতিও দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

জানা গেছে, বর্তমানে চমেক হাসপাতালের ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডে অগ্নিদগ্ধ রোগীদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তবে গুরুতর আগুনে পোড়া রোগীদের বিভিন্ন যন্ত্রপাতির সংকট ও নানা সমস্যার কারণে এখানে চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হয় না। ফলে এসব রোগীকে ঢাকার বিশেষায়িত ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারিতে ছুটতে হয়। সেখানে সারাদেশের রোগীদের চাপ থাকায় অনেক সময় চিকিৎসকদের চিকিৎসা দিতেও হিমশিম খেতে হয়। বিশেষ করে অগ্নিদগ্ধদের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা সম্পূর্ণ আলাদা।

বার্ন ইউনিট প্রকল্পের পরিচালক এবং চমেক হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. রফিক উদ্দিন আহমেদ দৈনিক আজাদীকে বলেন, বার্ন ইউনিট প্রকল্পের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। অর্থছাড় সংক্রান্ত জটিলতা এখন আর নাই। চট্টগ্রাম কাস্টমসকে আমরা নির্মাণ সামগ্রীর শুল্ক পরিশোধের জন্য অগ্রিম অর্থ দিয়ে রেখেছি। তাই প্রকল্পের কাজের গতি বৃদ্ধি পেয়েছে। চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন দৈনিক আজাদীকে বলেন, বার্ন ইউনিট প্রকল্পের কাজের বেশ অগ্রগতি হয়েছে। ইতোমধ্যে অর্ধেকের বেশি কাজ সমাপ্ত হয়েছে। ছয় তলা মূল ভবনের অবকাঠামোর কাজ শেষ হয়েছে। এখন ফিনিশিংয়ের কাজ চলছে। এরপর যন্ত্রপাতি স্থাপন কাজ শুরু হবে। এভাবে কাজের গতি থাকলে আশা করছি, নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত হবে।

উল্লেখ্য, চমেক হাসপাতালের গোঁয়াছি বাগান এলাকায় ১৫০ বেডের বিশেষায়িত ‘চায়না এইড প্রজেক্ট অব বার্ন ইউনিট অব সিমসিএইচ ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পের চূড়ান্ত নকশা অনুমোদন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় গত ২০২৪ সালের ১২ জুন। এর আগে ২০২৪ সালের ৯ মে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় বার্ন ইউনিট প্রকল্পের অনুমোদন দেয় তৎকালীন সরকার। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ২৮৪ কোটি ৭৬ লাখ ৫১ হাজার ৫৫৫ টাকা। এর মধ্যে চীন দেবে ১৭৯ কোটি ৮৩ লাখ ১৯ হাজার ৬০০ টাকা এবং সরকার দেবে ১০৪ কোটি ৯৩ লাখ ৩১ হাজার ৯৫৫ টাকা। এছাড়া চীন থেকে আমদানিতে ট্যাঙ ভ্যাট বাবদ ৭০ কোটি টাকাসহ সংযোগ রাস্তা, সীমানা প্রাচীর, বৈদ্যুতিক সংযোগ, দুটি অ্যাম্বুলেন্স ও কেমিক্যাল রিঅ্যাজেন্ট আনার খরচ ধরা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ছয় তলা ভবন, জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ, ল্যাবরেটরি, অপারেশন থিয়েটার, ১০টি আইসিইউ বেড, ১০টি পুরুষ এইচডিইউ বেড, ১০টি মহিলা এইচডিইউ বেড ও ৫টি শিশু এইচডিইউ রয়েছে। এছাড়া ১১৫ বেডের ওয়ার্ডে মহিলাদের জন্য বেড রাখা হয়েছে ৪৫টি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ২০২৬ সালের ‘অত্যাবশ্যকীয়’ওষুধের তালিকা ও মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি বাতিল
পরবর্তী নিবন্ধকৌতুক কণিকা