চট্টগ্রাম ফুটবল লিগের দল গোসাইলডাঙ্গা যুবক গোষ্ঠী অনেকদিন পর তরুণ প্রজন্মের হাত ধরে সাফল্যের দেখা পেয়েছে। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান ক্রীড়া উৎসব অনূর্ধ্ব–১৮ ফুটবল টুর্নামেন্টে তারা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। গতকাল শুক্রবার বিকালে চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে তারা টাইব্রেকারে ৮–৭ গোলে আলোর ঠিকানাকে পরাজিত করে। নির্ধারিত সময়ে এই ফাইনাল খেলাটি ১–১ গোলে ড্র থাকে। শুরু থেকেই আক্রমণ প্রতি আক্রমণে খেলা এগিয়ে যায়। এতে খেলার প্রথমার্ধে দু’দলই ১টি করে পেনাল্টি আদায় করে। খেলার ২০ মিনিটের সময় আলোর ঠিকানার একটি আক্রমণে বক্সের মধ্যে বাধা দেয় গোসাইলডাঙ্গার রক্ষণভাগ। রেফারি আলোর ঠিকানার পক্ষে পেনাল্টি দেন। কিন্তু প্রথমে প্রাপ্ত এই পেনাল্টি থেকে গোল করতে আলোর ঠিকানার অধিনায়ক আরিফুল ইসলাম ব্যর্থ হন। এদিকে প্রথমার্ধের প্রায় শেষের দিকে ফাউলের কারণে পেনাল্টি পায় গোসাইলডাঙ্গা যুবক গোষ্ঠী। এ থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে নিয়ে যান দলের অধিনায়ক রফিকুল ইসলাম (১–০)। দ্বিতীয়ার্ধে উভয় দল বেশ কয়েকটি গোলের সুযোগ সৃষ্টি করলেও তা থেকে আদায় করে নিতে পারেনি। খেলার শেষ মুহূর্তে কাউন্টার এট্যাক থেকে গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান আলোর ঠিকানার নাফিজউদ্দিন তামিম। নির্ধারিত সময়ে ১–১ গোলে খেলা ড্র থেকে শেষ হলে পরবর্তীতে টাইব্রেকারে খেলার নিস্পত্তি হয়। প্রথম পাঁচ শটে উভয় দলই ৫–৫ গোলে খেলা শেষ করে। এরপর সাডেন ডেথে গোসাইলডাঙ্গা যুবক গোষ্ঠী ৮–৭ গোলে আলোর ঠিকানাকে পরাজিত করে গণঅভ্যুত্থান ক্রীড়া উৎসব ফুটবল টুর্নামেন্টের ১ম শিরোপা ঘরে তোলে। গোসাইলডাঙ্গা হার দিয়ে তাদের যাত্রা শুরু করেছিল এ টুর্নামেন্টে। ম্যাচটি তারা টাইব্রেকারে হারে। এরপর তারা সেমিফাইনাল পর্যন্ত তিন ম্যাচ টাইব্রেকারে জয়লাভ করে। শেষপর্যন্ত ফাইনালও তারা জিতে নিল টাইব্রেকারের মাধ্যমে। অর্থাৎ এ টুর্নামেন্ট পুরোটাই তাদের কাটলো টাইব্রেকারে নিস্পত্তির মাধ্যমে।
ফাইনাল খেলা শেষে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান ক্রীড়া উৎসবের আয়োজক ও সিজেকেএস কাউন্সিলর আবুল হাশেম বক্করের সভাপতিত্বে ও মোশারফ হোসেনের সঞ্চালনায় পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। আমি মেয়র হওয়ার পর চট্টগ্রামের ৪১টি ওয়ার্ডে খেলার মাঠ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। ১১টি খেলার মাঠ ইনশাআল্লাহ করে ফেলেছি। শীঘ্রই জাম্বুরি খেলার মাঠ উদ্বোধন করা হবে। আরো কিছু মাঠ করার জন্য ডিপিপি প্রস্তুত করা হচ্ছে।
পরে প্রধান অতিথি সহ অন্যান্য অতিথিরা বিজয়ী ও বিজিত দলের হাতে ট্রফি ও প্রাইজমানি তুলে দেন। চ্যাম্পিয়ন দল এক লক্ষ টাকা এবং রানার্স আপ দল ৫০ হাজার টাকা প্রাইজমানি পায়। ফাইনালের সেরা খেলোয়াড়, সেরা গোলরক্ষক ও টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার একাই জিতে নেন গোসাইলডাঙ্গা যুবক গোষ্ঠীর ইকরাম হোসেন। টুর্নামেন্টের সেরা গোলদাতা হন সামিউর রহমান, সুশৃঙ্খল দল কল্লোল সংঘ গ্রীন, সেরা টিম ম্যানেজার ইউনুচ মিয়া জুয়েল এবং সেরা কোচের পুরস্কার পান বাহার হোসেন খান।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার এ্যাডহক কমিটির সদস্য সচিব হাজী মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার এ্যাডহক কমিটির সদস্য সচিব মসিউল আলম স্বপন। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের এ্যাডহক কমিটির সহ–সভাপতি ফয়সল দস্তগীর, ক্রীড়া সংগঠক জাহেদুল হাসান, আবদুল মান্নান রানা, সিজেকেএস কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম লেদু, আমিনুল ইসলাম, মাহামুদুর রহমান মাহাবুব, শাহাবুদ্দিন মো. জাহাঙ্গীর, আবু সৈয়দ মাহামুদ, সাজিব বিকাশ বড়ুয়া টুটুল, আখতারুজ্জান, সিরাজুল আলম, হারুনুর রশীদ, নাসির মিয়া, জি এম হাসান, প্রবীন কুমার ঘোষ, মো. সরওয়ার আলম চৌধুরী মনি, ফারুক আহমেদ, রায়হান উদ্দীন রুবেল, মুসা বাবলু, লিটন বড়ুয়া, ক্রীড়া সংগঠক দিদারুল আলম চৌধুরী, আবদুল মোমেন, বাবু, নুর জাহেদ বাবলু, আনোয়ারুল আবেদিন মুন্না, ইউনুচ মিয়া জুয়েল,কাউন্সিলর সোহেল আহমেদ প্রমুখ।












